kalerkantho

'ডায়াপারও নোংরা হয়েছে ট্রেনিংয়ে, থেমে যাইনি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৪:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'ডায়াপারও নোংরা হয়েছে ট্রেনিংয়ে, থেমে যাইনি'

এক দিন আগেই তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছে ‘খেলরত্ন’ হিসেবে। বভারতের হরিয়ানার মতো জায়গা থেকে উঠে এসে রিয়োর প্যারালিম্পিক্সে প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে পদক জয়। হুইলচেয়ারে বসেও কী ভাবে জীবনযুদ্ধে জেতা যায়।

তিনি বললেন, আমার এই পুরস্কার পাওয়ার মধ্যে দিয়ে ফুটে উঠছে নতুন ভারতের এক ছবি। এই পুরস্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে, প্যারা স্পোর্টস (বিশেষ ভাবে সক্ষমদের জন্য ক্রীড়া) আর কোনও চ্যারিটি স্পোর্টস নয়। প্যারা স্পোর্টসে সফল হতে গেলে কতটা লড়াই, কতটা পরিশ্রম, কতটা আত্মত্যাগ করতে হয়, সেটা সবাই বুঝতে পারছে। আর সেই লড়াইয়ের মর্যাদাও দিচ্ছে। আমি বিচারকদের কাছে, দেশের ক্রীড়ামহলের কাছে কৃতজ্ঞ প্যারা স্পোর্টসকে আর বিশেষ ভাবে সক্ষম অ্যাথলিটদের গুরুত্ব দেওয়ার জন্য।

দীপা বলেন, আমার তো মনে হয়, এই সাফল্য দেশের বহু মেয়েকে, বহু বিশেষ ভাবে সক্ষম মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করবে। আমার চোদ্দো বছরের এই লড়াই থেকে একটা শিক্ষাই পাওয়ার আছে যে, এই মেয়ে কোনও দিন হারতে শেখেনি। যার শরীরের এক-তৃতীয়াংশ শুধু সক্রিয়, সে যদি ৪৯ বছর বয়সে এসে দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান পেতে পারে, তা হলে বাকিরা কেন পারবে না? অসম্ভব বলে যে সত্যি কিছু হয় না, তা আমি দেখিয়ে দিয়েছি। নিজের কাজের প্রতি সততা থাকলে সব স্বপ্নই পূরণ করা যায়।

কলকাতার গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দীপা বলেন, দুটো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে আমাকে পড়তে হয়েছিল। প্রথমটা ছিল, হুইলচেয়ারে বসে ট্রেনিং করার সুযোগ-সুবিধের অভাব। যা একটা সময় আমাকে বারবার সমস্যায় ফেলেছে। শরীরের উপরে, ব্লাডারের উপরে আমার কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তাই আমি ডায়াপার পরে ট্রেনিং করতে যেতাম। কিন্তু অনেক সময়ই শরীরের উপরে অতিরিক্ত চাপ ফেলতে হত। বিশেষ করে যখন ভারোত্তোলন করতাম বা শটপাটের জন্য ট্রেনিং করতাম। তখন শরীরে ঝাঁকুনি দিতে হত। আর সেটা করতে গিয়ে আমার অনেক সময়ই মলত্যাগ হয়ে যেত।

দীপা বলেন, আমি সবাইকে বলতে চাই, তোমরা একা নও। তোমাদের যে রকম লড়াই করতে হচ্ছে, সে রকম অনেককেই করতে হচ্ছে। নিজেদের প্রতি বিশ্বাস রাখো। প্রতিটি মেয়েই কিন্তু জন্মগত ভাবে বহুমুখী কাজ করার ক্ষমতা রাখে। তাই স্বপ্নকে মেরে ফেলো না। নিজের লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাও। এমন কিছু করো, যাতে দেশের, সমাজের, তোমার পরিবারের মুখ উজ্জ্বল হয়। দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশই মেয়ে। তাই মেয়েদেরও এগিয়ে আসতে হবে দেশ গঠনে। এ ছাড়া আমি নিজেও এখন কিছু ফিরিয়ে দিতে চাই দেশকে। সেই উদ্দেশে লড়াই করে চলেছি। আমার মেয়ের সঙ্গে একটি সংগঠনও চালাচ্ছি। আনন্দবাজার

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা