kalerkantho

জমজমাট নাটক চলছে নেইমারকে নিয়ে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ আগস্ট, ২০১৯ ২১:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমজমাট নাটক চলছে নেইমারকে নিয়ে

প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) থেকে নেইমারের বিদায় কাহিনী আরো জমে উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই দল বদল নাটকের অবসান হতে হয়তো আরো সময় লাগবে। ২০১৭ সালে বিশ্ব রেকর্ড গড়া অর্থের বিনিময়ে প্যারিসে পাড়ি জমিয়েছিলেন নেইমার। রেকর্ড অর্থ ব্যয় করে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) নেইমারকে বার্সা থেকে নিয়ে এসে সুযোগ করে দিয়েছিলেন লিওনেল মেসির ছায়া থেকে মুক্তির।

২৭ বছর বয়সী ব্রাজিলিয় তারকা যে অত্যন্ত মেধাবী সেটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। প্রতিটি সুযোগকেই কাজে লাগানোর বিষয়ে তিনি যথেষ্ট পারদর্শী। সাবেক ক্লাবে হোক কিংবা রিয়াল মাদ্রিদে, মোট কথা স্পেনে ফিরে আগের মত সাফল্য পাওযার সব সুযোগই এখন নেইমারের সামনে রয়েছে। এদিকে ফ্রান্সে সবাই বিশ্বাস করে কিলিয়ান এমবাপেই পিএসজিকে নেতৃত্ব দিবে এবং নেইমারের অনুপস্থিতিতেও ক্লাবটি ভাল করে।

গত রবিবার ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা লিগ ওয়ানের নতুন মৌসুম শুরু করেছে নিমেসের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় নিয়ে। ওই ম্যাচে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর ওই ব্যাজিলিয় তারকাকে কটাক্ষ করে বিভিন্ন বক্তব্য সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করে পিএসজি সমর্থকরা। ওই ম্যাচে অবশ্য অংশ নেননি নেইমার। ক্লাবে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। নিষেধাজ্ঞায় থাকার কারণে ইতোমধ্যে তিনি রেনের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নতুন মৌসুমের উদ্বোধনী ম্যাচে খেলতে পারেননি। প্রাক দেস প্রিন্সেসে আসার পর ক্লাবের সর্বমোট ম্যাচের অর্ধেকেও অংশ নেননি নেইমার।

যখন নেইমার স্বাবলিল ভাবে মাঠে খেলেছেন তখন ঠিকই ধারাবাহিকভাবে গোল করেছেন। ৫৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে গোল করেছেন ৫১টি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দল তাকে পায়নি। পায়ের ইনজুরির কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চারটি নকআউট ম্যাচের তিনটিতেই খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন নেইমার। ২০১৮ সালের শেষ ষোলর লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরেছিল নেইমার বিহীন পিএসজি। চলতি বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে পরাজিত হয় প্যারিস জায়ান্টরা।

পিএসজি কোচ থমাস টুখেল গত সপ্তাহে বলেছিলেন, 'আমি নেইমারকে পছন্দ করি। আমি তাকে দলে রাখতে চাই এবং কিলিয়ানসহ (এমবাপে) অন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাকেও খেলাতে চাই। তবে বাস্তবতা হচ্ছে নেইমারকে ছাড়াই আমাদেরকে সমাধান খুঁজতে হবে। আপনি কখনো নেইমারকে হারাতে চাইবেন না। সেই সঙ্গে খুঁজে বের করতে চাইবেন তার মত খেলোয়াড়।' এছাড়া কিলিয়ান এমবাপে বলেন, 'নেইমার ছাড়া এটি একই দল হতে পারে না।'

এদিকে মাঠের বাইরে নেইমারকে ঘিরে চলছে নানান তৎপরতা। আর মাঠে পিএসজির ভরসা এমবাপে। মুদ্রার অপর পিঠে পিএসজির বড় ব্র্যান্ড হচ্ছে নেইমার। নেইমারের কারণেই ক্লাবটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতীতের সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। একইভাবে ফ্রেঞ্চ লিগের (এলএফপি) টেলিভিশন স্বত্ব নিলামেও ব্রাজিলিয় এই তারকার উপস্থিতিকে বাড়তি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০২০ সালের টেলিভিশন স্বত্ব চীনা মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠিান কিনে নিয়েছে বছর প্রতি ১.১৫ বিলিয়ন ইউরোতে। যেটি আগের চুক্তিকে ছাড়িয়ে গেছে বহুগুণ। এখন নেইমারের চলে যাবার বিষয়ে তাদেরকেও কিছুটা চিন্তিত করেছে। তবে সেটি নিয়ে নির্ভার এলএফপি প্রধান দিদিয়ের কুইলট। তিনি এল ইকুইপকে বলেন, ‘আপনার লিগের তারকা খেলোয়াড়রাই সব সময় সেটিকে ভালোর দিকে এগিয়ে নেবে। চীনে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তারকা দ্যোতি ছড়িয়েছেন এমবাপে। বিশ্বব্যাপী তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।’

তবে যাই হোক না কেন লিগ ওয়ানের রং ফিকে হতে শুরু করেছে। কারণ এই গ্রীষ্মেই অন্যত্র চলে গেছেন নিকোলাস পেপে, ফারল্যান্ড মেন্ডি, টেঙ্গুই এনডোমেবল ও ইসমাইলার মত তারকা খেলোয়াড়রা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা