kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

নিউজিল্যান্ডের বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য মনোনীত স্টোকস!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুলাই, ২০১৯ ১০:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিউজিল্যান্ডের বর্ষসেরা পুরস্কারের জন্য মনোনীত স্টোকস!

বিশ্বকাপ ফাইনালের রেশ কাটেনি এখনো। ১০০ ওভার শেষে রুদ্ধশ্বাস টাই। সুপার ওভারেও টাই। এরপর বেশি বাউন্ডারির সুবাদে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। কিউইদের বুকে ছুরি চালিয়েছেন নিউজিল্যান্ডেরই একজন! ৮৪ রান করে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতা বেন স্টোকসের জন্ম নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। ১২ বছর বয়সে মা-বাবার হাত ধরে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানো। স্টোকসের পরিবার ক্রাইস্টচার্চে ফিরলেও তিনি থেকে যান ইংল্যান্ডে। বাকিটা ইতিহাস। এককাঠি সরেস নিউজিল্যান্ডও। স্টোকস যে তাদের দেশের সম্পদ একটু অন্যভাবে বুঝিয়ে দিল তারা। কিউইদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটানো এই ক্রিকেটারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ‘বর্ষসেরা নিউজিল্যান্ডার’ পুরস্কারের জন্য। তাঁর সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের সেরা নাগরিকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনও। আরো আছেন টিভি উপস্থাপক সাইমন বার্নেট, ক্রাইস্টচার্চ হামলায় প্রতিরোধ গড়া আফগান অভিবাসী আবদুল আজিজ ও রাগবির সাবেক তারকা মানু ভাবেভেই।

শুধু মনোনয়ন দেওয়ার জন্যই তালিকায় রাখা নয়, বেন স্টোকস পেতে পারেন নিউজিল্যান্ডের বর্ষসেরা নাগরিকের পুরস্কারটাও। মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া ১০ জনের নাম জানানো হবে ১০ ডিসেম্বর। বর্ষসেরা নিউজিল্যান্ডারের পুরস্কার দেওয়া হবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। প্রাথমিক তালিকায় স্টোকসকে রাখা নিয়ে বর্ষসেরা নাগরিক বেছে নেওয়া কমিটির প্রধান বিচারক ক্যামেরন বেনেট জানালেন, ‘স্টোকস হয়তো ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে খেলেনি। তবে ওর জন্ম ক্রাইস্টচার্চে, যেখানে তার মা-বাবা বসবাস করছে। পারিবারিক শিকড়ও মাউড়ি (আদিবাসী)। এ জন্য নিউজিল্যান্ডের অনেকে মনে করে, আমরা তাকে এখনো নিজেদের মনে করতে পারি।’

বেন স্টোকসের বাবা জেরার্ড একটা সময় খেলেছেন নিউজিল্যান্ড রাগবি দলে। কোচও ছিলেন জাতীয় দলের। ওয়ার্কিংটন রাগবি ক্লাবের কোচ হয়ে পরিবার নিয়ে পাড়ি দেন ইংল্যান্ডে। স্টোকসের বয়স তখন ১২ বছর। তাঁর মা-বাবা ২০১৩ সালে ক্রাইস্টচার্চ ফিরলেও থেকে যান স্টোকস। লালন করেন ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্ন। সেটা পূরণও হয়েছে। এবারের বিশ্বকাপে ৪৬৫ রানের পাশাপাশি ৭ উইকেট শিকার তাঁর। ফাইনালে ৮৪ রান করে শিরোপা জয়ের নায়ক হওয়ায় পেতে পারেন ‘নাইটহুড’ খেতাবও। সেই স্টোকস কিনা হতে পারেন নিউজিল্যান্ডের বর্ষসেরা নাগরিক! তাতে কিছুটা স্বস্তি পাবেন তাঁর বাবা জেরার্ড। ফাইনাল শেষে তাঁর মনে হয়েছিল, ‘নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা হয়তো আমি।’ ছেলে কিউইদের বর্ষসেরা হলে আক্ষেপটা থাকার কথা নয় আর। সূত্র: নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা