kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

মুশফিক-রিয়াদের ৩ বলে ২ রানের সেই স্মৃতি মনে হয়েছিল স্টোকসের!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ২১:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুশফিক-রিয়াদের ৩ বলে ২ রানের সেই স্মৃতি মনে হয়েছিল স্টোকসের!

'সম্ভব' কাজকে 'অসম্ভব' করে ফেলার একটা অদ্ভুত প্রবণতা রয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ নিতে না পারার কারণে অনেক সহজ জয় হাতছাড়া হয়ে গেছে। একের পর এক ফাইনাল কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয়ের কাছ গিয়ে হারতে হয়েছে। তেমনই এক ম্যাচ ছিল গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে। ওই ম্যাচটিতে বাংলাদেশের অদ্ভুত পরাজয় দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেটবিশ্ব! ভারতের তখনকার অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির বিশ্বাস হচ্ছিল না যে তার দল জিতেছে!

২০১৬ বিশ্বকাপের ওই আলোচিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে ২ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। ক্রিজে ছিলেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। মুশফিক চাইলেন হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ছক্কা মেরে দলকে জিতিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি ধরা পড়লেন সীমানায়। তার ভায়রা-ভাই মাহমুদউল্লাহর মাথাতেও একই চিন্তা ভর করল। পরের বলে তিনিও ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে গেলেন!  শেষ বলে ধোনির ক্ষিপ্রতায় রান-আউট হয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমান। বাংলাদেশ হারে ১ রানে!

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপের ফাইনালেও প্রায় একই ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিল। মূল পর্বের খেলায় জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ২ বলে ৩ রান। উইকেটে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেন স্টোকস। যিনি ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন। তার পক্ষে এটা কঠিন কাজ নয়। তখনই স্টোকসের মনে হয়েছিল বাংলাদেশের দুই ভায়রা-ভাই জুটির কীর্তি! এটা মনে হতেই সাবধান হয়ে যান বর্তমানের সেরা পেস বোলিং অল-রাউন্ডার। ট্রেন্ট বোল্টের করা ওভারের শেষ বলে ১ রান নিয়ে ম্যাচ টাই করেন স্টোকস। পরে সুপার ওভারও টাই হয়। বেশি বাউন্ডারি হাঁকানোয় নিউ জিল্যান্ডকে হতাশায় ডুবিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড।

ওই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে স্টোকস বলেন, 'ব্যাপারটি নিয়ে আমি শেষ বলের আগের বলে ভেবেছিলাম। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কথা মনে হয়েছিল। ওদেরও মনে হয় একই রকম রান প্রয়োজন ছিল এবং ওরা কেবল উড়িয়ে মারছিল! কিন্তু আমি শুধু ভাবছিলাম, ক্যাচ দেওয়া হওয়া না। এক রান নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে এবং ম্যাচটি অন্তত সুপার ওভারে নিতে হবে। যদি আমি গ্যাপে পাঠাতে পারি তাহলে হয়তো আমরা দুই রানও নিতে পারব।'

মুশফিকুর এবং মাহমুদউল্লাহ যেভাবে ছক্কা মেরে 'হিরো' হতে চেয়েছিলেন সেভাবে ভাবেননি স্টোকস। ওভাবে চাইলে হয়তো বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে প্রবল চাপের মাঝে খেই হারিয়ে ফেলতেন তিনি। ক্যাচ দিয়ে আউটও হতে পারতেন। 'হিরো' হওয়ার চেয়ে দলের প্রয়োজনটাই যে আসল তা মনে করিয়ে দিয়ে স্টোকস বলেন, 'আমার পরিকল্পনা ছিল একটাই। কোনোভাবেই উড়িয়ে মেরে আউট হওয়া যাবে না। ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করে নায়ক হওয়ার চেষ্টা করা যাবে না। ২ রান নেওয়ার আশা করেছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। ম্যাচ যায় সুপার ওভারে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা