kalerkantho

শনিবার । ২৪ আগস্ট ২০১৯। ৯ ভাদ্র ১৪২৬। ২২ জিলহজ ১৪৪০

ক্রিকেটই ফিরিয়ে দিল স্টোকসকে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০৯:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রিকেটই ফিরিয়ে দিল স্টোকসকে

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে কার্লোস ব্রাথওয়েটের টানা চার ছক্কা শেষ করে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের স্বপ্ন। বল হাতে উল্টো দিকে থাকা বেন স্টোকস হয়ে যান খলনায়ক। লর্ডসে শাপমুক্তি স্টোকসের। ইংল্যান্ডকে প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানোর নায়ক এই অলরাউন্ডার। ৮৪ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ করেন ‘টাই’। সুপার ওভারে ইংল্যান্ডের ১৫ রানের ৮টিই তাঁর ব্যাটে। ম্যাচ সেরার পুরস্কার নিয়ে তাই জানালেন বিশ্বকাপ জেতার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়, ‘আমি আসলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। মনে হয় না এ ধরনের ম্যাচ ক্রিকেটে দ্বিতীয়বার দেখবে কেউ। তাও সেটা বিশ্বকাপ ফাইনালে। চার বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল হচ্ছে এই শিরোপা। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন, এই অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলাটা সব সময়ই খুব আনন্দের, ওরা যা লড়াই করল তাতে শ্রদ্ধা অটুট থাকবে।’

৮৬ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর নেমেছিলেন স্টোকস। জস বাটলারের সঙ্গে ১১০ রানের জুটিতে ইংল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরান তিনি। বাটলার ফিরেছেন ৫৯ রানে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে ম্যাচটা রুদ্ধশ্বাস টাই করেন স্টোকস। ট্রেন্ট বোল্টের শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। তবে একটি মাত্র সিঙ্গেলস আসায় ব্যাটে সজোরে লাথি মারেন স্টোকস। এরপর সুপার ওভারে ১৫ রানের ৮ করেন তিনি। টানটান উত্তেজনা শেষে শিরোপা জেতায় আবেগে ভাসছেন স্টোকস, ‘আমি আর বাটলার চেয়েছি শেষ পর্যন্ত থাকতে, তাহলে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলা যাবে। রান রেটটা বড় ব্যাপার হবে না। পরিকল্পনা সফল হওয়ায় আরো বেশি খুশি আমি।’ শেষ ওভারে ওভার থ্রোতে বাড়তি ৪ রান পায় ইংল্যান্ড। মার্টিন গাপটিলের থ্রো লাগে স্টোকসের ব্যাটে। এ জন্য ম্যাচ শেষে ক্ষমা চেয়ে নেওয়ার কথা জানালেন তিনি, ‘ম্যাচের পর কেনের সঙ্গে কথা বলেছি, ওভার থ্রোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছি।’

২০১৭ সালে স্টোকস মারামারি করেছিলেন ব্রিস্টলের একটি নাইট ক্লাবের বাইরে। এ জন্য যেতে হয় আদালতেও। ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড নিষিদ্ধ করে অ্যাশেজে। শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হন বেন স্টোকস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নিজেকে আরো একবার প্রমাণ করেছেন এই তারকা। ১১ ম্যাচে ৪৬৫ রানের পাশাপাশি নিয়েছেন ৭ উইকেট। উদ্বোধনী ম্যাচে ৮৯ রানের পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়ে হয়েছিলেন ম্যাচ সেরা। সেই ম্যাচে অসাধারণ ক্যাচও নিয়েছিলেন একটি। ভারতের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে স্টোকস খেলেন ৭৯ রানের ইনিংস। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮২* ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলেন ৮৯ রানের ইনিংস। চাপের মুখে সেরা ইনিংসটা হয়তো ফাইনালের ৮৪-ই।

স্টোকসের জন্ম কিন্তু নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। তাঁর বাবা জেরার্ড স্টোকস খেলেছেন নিউজিল্যান্ড জাতীয় রাগবি দলে। সফল রাগবি কোচ হিসেবেও। ফাইনালটা স্ত্রী ডেবোরাহর সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চের বাড়িতে দেখেছেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশীদের কজন, যাঁরা ছেলের কারণে শুনিয়ে দিয়েছেন দু-একটি কটু কথা। তাই ম্যাচ শেষে মজা করে জেরার্ড জানালেন, ‘দু-একজন বলেছে আমি এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা। তবে মনে হয় কেউ সীমা ছাড়িয়ে যায়নি।’ ছেলের কীর্তিতে এমন ‘গালমন্দ’ শুনতে চাইবেন সব বাবাই! এএফপি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা