kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

গর্বিত কিউইদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ০৯:২১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গর্বিত কিউইদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

‘আমরা জিতেছি। ক্রিকেট জিতেছে। শোকের কিছু নেই’—শিরোপা জিততে না পারার বেদনা এভাবেই প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ডের জনপ্রিয় দৈনিক ‘নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড’। কেন উইলিয়ামসন থেকে সাবেক অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং কিংবা ডিওন ন্যাশ, কাইল মিলসের মতো তারকাদের অভিমতও এক। এত কাছে গিয়েও বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে না পারায় হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে সবার। বেশি বাউন্ডারি মারার সুবাদে সুপার ওভারে সমতার পর নিউজিল্যান্ড শিরোপা না জেতার আইন নিয়ে তাঁরা হতাশ আর ক্ষুব্ধ। তবে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে শিরোপা জিততে কিউইরা যেভাবে চেষ্টা করে গেছে তাতে গর্বও কম নেই।

সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামস ঋষির নিমগ্নতা নিয়ে এসেছিলেন মাইকের সামনে, ‘ম্যাচের এমন অনেক ছোট ছোট মুহূর্ত ছিল যেগুলো অন্য কোনো দিকে মোড় নিতেই পারত। ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন, অসাধারণ একটা অভিযাত্রার জন্য। দলের সবার খুব খারাপ লাগছে, এই মুহূর্তে সবাই হতাশ। মনে হচ্ছে জয়টা আমাদের জন্য ছিল না। শেষ পর্যন্ত লড়াই করার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি দলের সবাইকে। তবে এখন ওরা হতাশায় মুষড়ে পড়েছে যা স্বাভাবিক।’

বুকে ফেটে যাচ্ছিল তবে সারাক্ষণ মুখে হাসি ধরে রেখে উইলিয়ামসন বোঝাতে চাইলেন সেই চিরন্তন বাণী ‘ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা’। আম্পায়ারের ভুলে ৫ রানের বদলে ওভার থ্রোতে ইংল্যান্ডের ৬ রান পাওয়া বা সুপার ওভারে সমতায় বেশি বাউন্ডারি মারা দলের জয় নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতা উইলিয়ামসনের, ‘তাজা আবেগ তাই (হার) হজম করা কঠিন। শুরু থেকেই তো নিয়মটা আছে। তবে এই আইনটা কোনো দিন ব্যবহার হতে পারে হয়তো ভাবেনি কেউ, আমিও না। আমরা একটু পিছিয়ে ছিলাম। যোগ্য দল হিসেবে জিতেছে ইংল্যান্ড। আর স্টোকসের ব্যাটে বল লাগাটা লজ্জার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব ঘটনাই বারবার ঘটে। এটা খেলারই অংশ। কোনো অভিযোগ করার ইচ্ছা নেই।’

ভদ্র ও মার্জিত ক্রিকেটার হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত কেন উইলিয়ামসন। ফাইনালের পর অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ক্রিস লিনের তাঁকে নিয়ে মুগ্ধতা বেড়েছে আরো, ‘ভেবেছিলাম উইলিয়ামসনকে এর চেয়ে বেশি সম্মান করা সম্ভব না। তবে ও নিজেকে আরেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কী দুর্দান্ত এক চ্যাম্পিয়ন।’ ইংলিশ সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন সরাসরিই জানতে চান, সবার উইলিয়ামসনের মতো ভদ্র হওয়া উচিত কি না? জবাবে বিনয়ী কিউই অধিনায়ক, ‘সবাই যা হতে চায় সেটা হতে পারে। আমার কাছে বিশ্ব সংসারের সৌন্দর্য এটা। সবারই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সেরা হওয়ার চেষ্টা করা উচিত।’

সুপার ওভারে ১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমেছিলেন মার্টিন গাপটিল ও জিমি নিশাম। জোফ্রা আর্চারের বলে একটি ছক্কাও মেরেছিলেন নিশাম। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ২ রান। কিন্তু রান আউট হওয়ার আগে গাপটিল নেন ১ রান। ৫০ ওভারের পর সুপার ওভারেও টাই, আর কম বাউন্ডারি মারায় শিরোপা মুঠো গলে বেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের। এই কষ্টটা মানতে না পেরে জিমি নিশামের টুইট, ‘বাচ্চারা, খেলাধুলায় এসো না। কেক, বিস্কুট বানাও বা অন্য কিছু করো। তাহলে ৬০ বছর বয়সে মনে সুখ নিয়ে মরতে পারবে মোটাতাজা হয়ে।’

সুপার ওভারে টাইয়ের পর বেশি বাউন্ডারি মারা দলের জয়ের আইনটা মানতে পারছেন না অনেকেই। কিউই সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন ফ্লেমিং এই আইন নিয়ে এক কথায় লিখেছেন, ‘নির্মম’। সাবেক অলরাউন্ডার ডিওন ন্যাশও মানছেন না এই আইন, ‘এটা জঘন্য। প্রতারিত মনে হচ্ছে নিজেদের। তবে কে ভেবেছিল ম্যাচের পর সুপার ওভারও টাই হবে। ছেলেদের পারফরম্যান্সে গর্বিত আমি।’ গত বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা কাইল মিলস জানালেন, ‘ক্রিকেট রান ও উইকেটের খেলা। রান সমান হলে কে বেশি উইকেট হারিয়েছে সেটা দেখা উচিত। তাহলে আমরাই চ্যাম্পিয়ন হতাম। উইলিয়ামসনদের নিয়ে গর্বিত।’ নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা