kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ

ফাইনালে ইংলিশদের শিরোপা নির্ধারণী সেই মুহূর্ত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ১০:২২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফাইনালে ইংলিশদের শিরোপা নির্ধারণী সেই মুহূর্ত

রুদ্ধশ্বাস, স্নায়ুক্ষয়ী, টান টান উত্তেজনা... বিশেষণের ভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার মতোই হলো ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল। এমন ফাইনাল শেষে মাইক্রোফোনের সামনে আসা ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের অনেকেই তখনো হাঁপাচ্ছেন, কেউ দম নিচ্ছেন। সুপার ওভারে বোলিং করা জোফ্রা আর্চার তো এসে বলেই ফেললেন, ‘আমার হৃৎপিণ্ড এখনো দৌড়াচ্ছে!’ এমন অবিশ্বাস্য ফাইনাল জয়ের পর অবশ্য হৃৎপিণ্ডটা ফরমুলা ওয়ানের গাড়ির বেগেই ছোটার কথা!

মার্টিন গাপটিলকে রান আউট করে জস বাটলার নিশ্চিত করেছেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়। তিনিই বলছিলেন, ‘মনে হচ্ছে এই এক দিনেই ক্রিকেটের সব কিছু দেখে ফেললাম। এই ম্যাচটা পাগল বানিয়ে দিয়েছে, ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। আমরা চেয়েছিলাম যতটা সম্ভব শেষ পর্যন্ত খেলাটা নিয়ে যেতে। রান তোলার রেটটা নিয়ে খুব একটা চিন্তা ছিল না, কারণ জানতাম শেষ পর্যন্ত যেতে পারলে রানটাও হয়ে যাবে। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে সেটা আসলে কিছুই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অবিশ্বাস্য! কিছুই মনে করতে পারছি না।’ বাটলারের সঙ্গে বেন স্টোকসের ১১০ রানের জুটিটাই আশা দিয়েছিল ইংল্যান্ডকে। ৮৪ রানের ইনিংস খেলা স্টোকস পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার, তিনিই জানালেন, ‘আমরা চেয়েছি শেষ পর্যন্ত থাকতে, তাহলে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলা যাবে।’ বিশ্বকাপ জেতার অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয় স্টোকসের কাছে, ‘আমি আসলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। চার বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল হচ্ছে এই শিরোপা। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন—এই অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য। নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলাটা সব সময়ই খুব আনন্দের, খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তারা সিরিয়াস ক্রিকেট খেলে। ম্যাচের পর কেনের সঙ্গে কথা বলেছি, ওভার থ্রোর জন্য ক্ষমাও চেয়েছি।’ শেষ ওভারটা করা আর্চারের অভিজ্ঞতাটা আরো অদ্ভুত। বিশ্বকাপের আগে তাঁকে ইংল্যান্ড দলে নেওয়া হবে কি হবে না, খেলার যোগ্য কি না এই নিয়ে বেশ দ্বিধা। অবশেষে বিশ্বকাপে জায়গা পেলেন, দুর্দান্ত বোলিং করলেন এবং শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর হয়ে গেলেন ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত এই পেসার, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনা। খুব সম্ভবত এবারই প্রথম জীবনে কোনো শিরোপা জিতলাম। জিততে না পারলে খুব হতাশ হতাম।’


বল হাতে ইংল্যান্ডের নায়ক লিয়াম প্লাংকেট। ৪২ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এই পেসারও বললেন, ‘এখনো বুঝে উঠতে পারছি না কী হলো। কী দারুণভাবেই না শেষ হলো ম্যাচটা! কিউইদের টুপিখোলা সম্মান। মনে হচ্ছে খুশির ভেলায় ভাসছি!’ ইংল্যান্ডের হয়ে এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি রান করা জো রুট বললেন, ‘মনে হয় নিয়তিই লিখে রেখেছিল বেন স্টোকসের জন্য এই দিনটি! যা কিছু হয়েছে, এর জন্য আমি খুবই গর্বিত।’ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জনি বেয়ারস্টো শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের প্রতিও, ‘নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের টুপিখোলা সম্মান জানাচ্ছি। জয়ের পাল্লা একবার এদিকে যাচ্ছিল, একবার ওদিকে। যেভাবে সবাই সুপার ওভারে ফিরে এলো, অবিশ্বাস্য! লর্ডসে খেলা একটা ব্যাপার আর এখানে বিশ্বকাপ জেতাটা, অকল্পনীয়!’

ট্রফিটা হাতে নেওয়ার আগে, অধিনায়ক এউইন মরগান জানালেন নিজের অনুভূতির কথা। গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে শিকার হয়েছিলেন বাক্যবাণের। এবার প্রশংসা আর স্তুতি! মরগান জানালেন, ‘হা ঈশ্বর! কী ছিল না এই ম্যাচে! আমি কেনকে শ্রদ্ধা জানাতে চাই, যে লড়াইটা তারা করেছে সেটা ছিল অত্যন্ত কঠিন। আমাদের চার বছরের যাত্রা, দিনের পর দিনের প্রস্তুতি। বিশেষ করে গত দুটি বছরের, সব কিছুর ফসল এই বিশ্বকাপ। এই ম্যাচটা জয় মানে বিশ্ব এখন আমাদের। সব কৃতিত্ব ছেলেদের, যারা এই কাজটা সম্ভব করেছে। এই মুহূর্তে, গোটা বিশ্ব সত্যিই আমাদের পায়ের নিচে!’

অন্যদিকে ঋষির নিমগ্নতা নিয়েই মাইকের সামনে এলেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া কিউই অধিনায়ক। তাঁর কথায় কোনো আবেগের ধরে আসা বাষ্পের চিহ্ন নেই, ‘ম্যাচের এমন অনেক ছোট ছোট মুহূর্ত ছিল যেগুলো অন্য কোনো দিকে মোড় নিতেই পারত। ইংল্যান্ডকে অভিনন্দন, অসাধারণ একটা যাত্রার জন্য। দলের সবার খুব খারাপ লাগছে, এই মুহূর্তে সবাই হতাশ। মনে হচ্ছে জয়টা আমাদের জন্য ছিল না।’ আইসিসি

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা