kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

বিশ্বকাপ শেষে নিজ ঠিকানায় ফিরলেন রোডস

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১২ জুলাই, ২০১৯ ০৯:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বকাপ শেষে নিজ ঠিকানায় ফিরলেন রোডস

এমনিতে কথা বলতে তিনি অনীহা দেখাননি কখনোই। কিন্তু কাল পুরো উল্টো। সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে বারবার কথা বলার অনুরোধ করা হলেও সাড়া দিলেন না স্টিভ রোডস। যদিও মুখ ভার করে রাখা এই ইংলিশম্যানকে দেখে কারোরই বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে বাংলাদেশ থেকে তাঁর বিদায়টা সুখকর হয়নি। মিরপুরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে কাল এসেছিলেন বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সারতে। সদ্যোবিদায়ি এই হেড কোচ গত রাতে ইংল্যান্ডের পথে ঢাকাও ছেড়ে গেছেন।

যদিও আগের দিন লন্ডনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের বক্তব্যে রোডসের কার্যকাল আরো কিছুদিন দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল। কাজেই কাল মিরপুরে তাঁর উপস্থিতি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে এই মাসের শেষে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে কি না, এমন আলোচনাও উঠল। কিন্তু খুব দ্রুতই সে সম্ভাবনার সমাপ্তি বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কথায়, ‘কিছু আনুষ্ঠানিকতা ছিল। যেগুলো আমরা শেষ করলাম। উনি আজই বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছেন।’

গত রবিবার বিশ্বকাপ শেষে বাংলাদেশ দলের সঙ্গেই ঢাকায় ফেরা রোডস সপ্তাহ না পেরোতেই নিজ ঠিকানায় ফিরলেন। দল দেশে ফেরার পরদিনই এই ইংলিশ কোচের সঙ্গে ‘মিউচ্যুয়াল সেপারেশন’-এ যাওয়ার ঘোষণা দেয় বিসিবি। বিসিবি প্রধান নির্বাহী এও জানিয়ে দেন যে শ্রীলঙ্কা সফরের আগেই কার্যকর হচ্ছে এই সম্পর্কচ্ছেদ। তবে বিসিবি সভাপতির কথায় আবার শ্রীলঙ্কা সফর পর্যন্ত রোডসের সম্ভাবনা জেগেছিল। সংসদ সদস্যদের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ দেখতে গিয়ে গত পরশু লন্ডনে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘তাঁকে কিন্তু আমরা বাদ দিইনি। তিনি ইচ্ছে করলে আরো কয়েক মাস থাকতে পারেন।’

বোর্ড সভাপতির আরো কিছু বক্তব্যও রোডসের বিদায় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি করেছিল, ‘রোডস চাইলে থাকতেও পারেন। কারণ এ রকম (চলে যাওয়া নিয়ে) কোনো কথা হয়নি। তবে তাঁর আর আমাদের চিন্তায় একটু পার্থক্য আছে। এ জন্যই প্রশ্ন উঠেছে তিনি আমাদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন কি না।’ সেই সঙ্গে রোডসের কোর্টে বল ঠেলে দিয়ে নাজমুল এও বলেছিলেন, ‘আমার ধারণা তিনিই সিদ্ধান্ত জানাবেন। আমি এখন পর্যন্ত জানি না। হয়তো দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবেন। সামনে যেহেতু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, তাড়াতাড়ি এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’ সম্পর্ক চুকিয়ে ফেলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরে আবার রোডসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে কী করে?

বোর্ড সভাপতির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় কাল প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি এ রকমই। আমরা আগেও বলেছি যে সমঝোতার মাধ্যমেই বিষয়টি হয়েছে। কিছু শর্তাবলি থাকে। বোর্ড সভাপতি মহোদয় সেটিই বলেছেন যে শেষ পর্যন্ত উনি (রোডস) কবে যাবেন বা কী করবেন, সেটি ওনারই সিদ্ধান্ত। সেটি উনি আমাদের কাল (গত পরশু) জানিয়েছেন। আমরাও বিষয়টি রাতেই সভাপতিকে অবহিত করেছি যে উনি আজ চলে যেতে চাচ্ছেন।’ চলে যাওয়ার আগে কাল বিসিবির হিসাব ও জনসম্পদ বিভাগে গিয়ে সেরেছেন বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। গত রাত ২টার ফ্লাইটে নীরবে ঢাকা ছাড়া রোডসের উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার ব্যস্ততাও ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসনের। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ২৩ জুলাই দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। তার আগে নতুন হেড কোচ নিয়োগে সময়ও খুব বেশি নেই। যদি ওই একটিই নয়, জাতীয় দলে একাধিক কোচের পদই এখন শূন্য। নবায়ন হয়নি ফাস্ট বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের চুক্তি। একই পরিণতি ফিজিও তিহান চন্দ্রমোহনেরও। স্পিন বোলিং কোচ সুনীল যোশীর চুক্তি নবায়ন হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত নয়। কাজেই এবার একসঙ্গে বেশ কয়েকজন কোচকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিসিবি। প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের কাজ (কোচ অনুসন্ধান) চলছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। আমাদের যে কোচিং পদগুলো খালি আছে, চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো পূরণ করার জন্য।’ চন্দিকা হাতুরাসিংহে চলে যাওয়ার পর রোডসকে খুঁজে পেতে লেগেছিল ছয় মাসেরও বেশি। এবার হেড কোচ পেতে না জানি কত দিন লাগে!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা