kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

রোমাঞ্চকর জয়ে আবাহনীর নতুন ইতিহাস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ জুন, ২০১৯ ০৯:১৯ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রোমাঞ্চকর জয়ে আবাহনীর নতুন ইতিহাস

জয় এমন নাটকীয় ভঙ্গিতে আকাশি-নীলে ধরা দেবে, সেটা হয়তো অনেকে ভাবেনি। রুদ্ধশ্বাস ৯০ মিনিট পার করে ইনজুরি টাইমে আফগান মাসির গোলে আবাহনীর রোমাঞ্চকর মিনারভা জয়। সুবাদে দুর্ভাগ্যের পাকচক্র ঝেড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা প্রথমবারের মতো গ্রুপের বেড়াজাল টপকে পা রেখেছে এএফসি কাপের নক-আউট রাউন্ডে।

কাল বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রুদ্ধশ্বাস সময় কেটেছে দেশের ফুটবলানুরাগীদের। একই সময়ে শুরু দুটি ম্যাচে চোখ রেখে। ভারতের গুয়াহাটিতে আবাহনী যখন মিনারভা পাঞ্জাবের মুখোমুখি ঠিক তখন নেপালের কাঠমাণ্ডুতে চেন্নাইয়ান এফসি জয়ের জন্য মরিয়া হয়েছে মানাং মার্সিয়াংদির সঙ্গে। ১০ পয়েন্টধারী আবাহনী জেতার পথে থাকলে কাঠমাণ্ডুর ম্যাচের খবর নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ শেষ ম্যাচের আগে সমীকরণে ২ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা চেন্নাইয়ান এফসির যাওয়ার একমাত্র রাস্তা জয়ে, সে ক্ষেত্রে মিনারভার ম্যাচে পয়েন্ট হারাতে হবে আবাহনীকে। ঠিক সেই পথে যেন হাঁটছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা, বিরতির পর তাদের ম্যাচ যখন গোলহীন ড্রয়ের দিকে তখন কাঠমাণ্ডুতে চেন্নাইয়ান এফসি এগিয়ে ২-০ গোলে! মানে আবারও দুর্ভাগ্যের সরণিতে আবাহনী! কিছুক্ষণ বাদে কাঠমাণ্ডুতে দুই গোল ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে ফেরা মানাং মার্সিয়াংদি ফিরিয়ে আনে আকাশি-নীলের ভাগ্য। নেপালিরা ম্যাচটি এভাবে ড্র রাখতে পারলে আবাহনীর হারেও কোনো সমস্যা নেই, পৌঁছে যাবে পরের রাউন্ডে। কিন্তু নেপালিরা পারেনি, ৮৮ মিনিটে তাদের জালে বল জড়িয়ে চেন্নাইয়ান এফসি ৩-২ গোলে ম্যাচ জিতে নিজেদের কাজ সেরে রাখে। ইনজুরি টাইমেও গুয়াহাটির ম্যাচ গোলহীন, ৯৩ মিনিটে হঠাৎ মাসির মাথায় গোলের ঝংকারে সব দুর্ভাগ্য ঝেড়ে আকাশি-নীলের আকাশ ছোঁয়ার গল্প রচিত হয়। পাঁচবারের এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ মিশন ব্যর্থ হওয়ার পর তারা টানা দুইবার আটকা পড়ে এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে। দুর্ভাগ্যের এমন বেড়াজাল টপকে এবার নক-আউট রাউন্ডে উত্তরণ তো আবাহনীর আকাশ ছোঁয়া সাফল্য। তারা এখন ইন্টার জোনাল প্লে-অফ সেমিফাইনালের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে, প্রতিপক্ষ চূড়ান্ত হবে আগামী আগস্টের ড্রয়ে।

তবে কাল গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে এবার আবাহনীর গ্রুপ সেরা হওয়ার ম্যাচটি বেশ কঠিনই ছিল। চার বিদেশির মধ্যে গরহাজির দুজন। ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ওয়েলিংটন ইনজ্যুরড হয়ে ফিরে গেছেন দেশে আর দলের সেরা ফরোয়ার্ড নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবাকে ভিসা দেয়নি ভারত। এমন দুর্দশার মধ্যে তারা গ্রুপ পর্ব উত্তরণের ম্যাচ খেলতে নামে! আবার মিনারভা পাঞ্জাবের সঙ্গে ঢাকায় ২-২ গোলে ড্র করেছিল তারা। সুতরাং এই হার্ডল জয় মোটেও সহজ নয়। কিন্তু ভাগ্য আর মাসি সঙ্গে থাকলে যে কোনো বাধাই আর শেষ পর্যন্ত কঠিন থাকে না। ভাগ্যের সঙ্গটা এবার শুরু থেকে দেখা যাচ্ছিল। মাঝপথে মামুনুল ইসলামের পায়ে ইনজুরির ছোবল খাওয়া আবাহনীর জাগরণে সেটা আরো নিশ্চিত হয়। দুপায়ে গোল ভাগ্য নিয়েই যেন ফিরেছিলেন একসময়ের দেশসেরা মিডফিল্ডার। তবে দলের মূল মেরুদণ্ড যেন মাসি সাইগানি। এসেছিলেন মিডফিল্ডার হয়ে। পরে দলের টালমাটাল রক্ষণ সামলাতে নিচে নেমে খেলেন এই আফগান এবং গ্রুপের ছয় ম্যাচ শেষে ৩ গোল করে তিনিই হয়েছেন সেরা গোলদাতা! তাঁর গোলেই এএফসি কাপের অভিযান শুরু হয়েছিল কাঠমাণ্ডুতে মানাং মার্সিয়াংদির বিপক্ষে। শেষও হয়েছে কাল তাঁর মহামূল্য গোলে। কালকের গোলটিও ভাগ্য আর মাসি না হলে হয় না। কারণ নাবিব নেওয়াজের কর্নার কিকটা ভালো ছিল না। দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে বেলফোর্ট কোনো রকমে মাথা লাগিয়ে বলটি রাখেন পোস্টের সামনে, এরপর দীর্ঘদেহী মাসির লক্ষ্যভেদী হেডে আবাহনীর লক্ষ্যপূরণ হয়।

শুরু থেকে ম্যাচটি আবাহনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১০ মিনিটে হাইতির ফরোয়ার্ড বেলফোর্টের শট এক ডিফেন্ডার ব্লক করে দেওয়ার পর ২২ মিনিটে মামুনুল ইসলামের শট যায় অলক্ষ্যে। এরপর স্বাগতিকদের দুটি ভালো আক্রমণ বিফলে যায়। তবে ৩০ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত, সোহেল রানার বানিয়ে দেওয়া বলে নাবিব নেওয়াজের শট রুখে দেন মিনারভার গোলরক্ষক। ৫৩ মিনিটে মাসির শটে আবার তিনি প্রতিরোধ গড়েন। এরপর জীবনের শট বার ঘেঁষে চয়ে যায় বাইরে। ৮০ মিনিটে অবশ্য আকাশদ্বীপের শট পোস্টে লেগে ফিরে গেলে হতাশায় পোড়ে মিনারভা। গোলরক্ষক শহীদুলের দুর্দান্ত এক সেভ আছে। তবে বদলি হয়ে নামা শীতলের মিসটা অমার্জনীয়, যেখানে গোলের জন্য টোকাই যথেষ্ট সেখানে তিনি মেরেছেন উড়িয়ে। শেষ পর্যন্ত এসব মিসের চড়া দাম দিতে হয়নি ওই মাসি সাইগানির জন্য। এই আফগানের হেডেই হয়েছে নতুন ইতিহাস রচনা। তাই আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রূপুর কণ্ঠে আবেগের মাখামাখি, ‘ম্যাচটি আমাদের অনেক আগে জেতা উচিত ছিল। সেটা হয়নি, কিন্তু মাসির এক গোলেই আমাদের সব ব্যর্থতা ভেসে গেছে। এখন আনন্দের সময়...উদ্যাপনের সময়...।’ এএফসির টুর্নামেন্টে দুর্ভাগ্যের বৃত্ত ভেঙে আবাহনীর জেগে ওঠার আনন্দ উদ্‌যাপন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা