kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি দুর্বল ভারতীয় বাঙালিরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ জুন, ২০১৯ ২২:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের প্রতি দুর্বল ভারতীয় বাঙালিরা

কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার সময় ভারতের মন জয় করেছিলেন সাকিব আল হাসান। আইপিএলে এমন সময়ও গেছে যে কলকাতার হয়ে একমাত্র বাঙালি প্রতিনিধি হিসেবে একমাত্র সাকিব আল হাসান খেলেছেন অনেক ম্যাচ। কলকাতার দলে তাদের নিজস্ব কোনো বাঙালি খেলোয়াড় না থাকলেও তারা দুঃখ পুষিয়ে নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানের খেলা দেখে। কলকাতার হয়ে খেলার সময় থেকেই সাকিবকে নিজেদের একজন হিসেবে দেখে ভারতীয় বাঙালিরা। বাংলাদেশের কোনো ম্যাচ থাকলেও সাকিবের দলকে সমর্থন দেন অনেক ভারতীয় বাঙালি। এবার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছেন সাকিব। বাইশ গজে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশ মুখোমুখি হলে ভারতীয় বাঙালি আবেগের টানাপোড়েনে পড়ে বৈকি।
 
চলতি বিশ্বকাপের শুরু থেকেই দুর্দান্ত খেলছে বাংলাদেশ। ফলে ক্রিকেটের শক্তিধর দেশগুলির সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে টাইগার বাহিনী। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের দাপুটে ব্যাটিং নজর কাড়ছে সবার, ক্রিকেটের অনেক রথী-মহারথীও এই বাংলাদেশকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন। বিশ্বের ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে চলছে সাকিব-মুশফিকদের নিয়ে আলোচনা। একই অবস্থা ওপারের বাংলায়। পুরো বিশ্বকাপে বাঙালিদের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে খেলছেন যে তামিম সাকিবরা-তাই আলোচনাও বেশি হচ্ছে ওখানে। চায়ের দোকান থেকে ট্রেনের নিত্যযাত্রীদের আড্ডায় ঘুরে ফিরে আসছে টাইগারদের প্রসঙ্গ। ডয়চে ভেলের একটি প্রতিবেদনে এমনটিই উল্লেখ্য করা হয়েছে।
 
ব্যারাকপুর থেকে প্রতিদিন ট্রেনে কলকাতার অফিসে যাওয়া বেসরকারি সংস্থার চাকরিজীবি বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ১১টা বাঙালি ছেলে খেলতে নামছে, এটা ভাবলেই তো ভালো লাগে। তাই বাংলাদেশের ম্যাচ মিস করি না। ওদের সাফল্য আমাদের কাছেও গর্বের। দমদম থানা এলাকার দুর্গানগর রেল স্টেশন পথে যাতায়াতকারী শিক্ষক অনির্বাণ হাজরা বলেন, আমাদের দলে একজনও বাঙালি নেই। জানি না ভবিষ্যতে কবে থাকবে? সেজন্য খারাপ লাগে। কিন্তু, সাকিবরা যখন খেলতে নামে, তখন সেই আক্ষেপ অনেকটাই পুষিয়ে যায়। ক্লাবে ক্লাবে ম্যাচের সময় টিভির সামনে ভিড়। সাকিবের সেঞ্চুরির পর সকলে সোৎসাহে হাততালি দিয়ে উঠেছেন, যেন এইমাত্র রোহিত শর্মা ১০০ করেছেন!
 
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচের ক্ষেত্রে ভারতের এই ক্রিকেটপ্রেমী জনতার মধ্যে যে তীব্র প্রতিক্রিয়া মেলে, বাংলাদেশের বেলায় তা একেবারেই আলাদা। সল্টলেকের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মরত তরুণ শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, পাকিস্তান আমাদের চিরশত্রু। যেকোনো লড়াইয়ে ওদের হারাতে হবে। সে সীমান্তের যুদ্ধ হোক কিংবা ক্রিকেটের মাঠ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ভাবনাটা আসে না।
 
দেশভাগের শিকার যে মানুষরা এই বাংলায় এসেছেন, শিকড়ের টান এখনো তাঁদের ওপারের সঙ্গে জুড়ে রেখেছে। ১৯৪৭ সালে মায়ের কোলে চেপে সীমান্ত পার হয়ে আসা করুণকান্তি সিংহরায় হুগলির সিংহরায় বলেন, ‌খেলা শুরুর আগে অন্য দেশের জাতীয় সঙ্গীত বুঝতে পারি না। শুধু বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত বুঝতে পারি, যেহেতু তা আমার মাতৃভাষায় লেখা। ওই গানটিও আমার খুব প্রিয়। সাকিবরা চ্যাম্পিয়ন হলে খুশি হব।
 
বাংলাদেশ যেমন দুর্দান্ত খেলছে তেমনি ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী ভারতেরও তাদের সেমিফাইনাল পথ একরকম নিশ্চিত করে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২ জুলাইয়ের ম্যাচ বাংলাদেশের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচে ভারতীয় বাঙালির আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসে। সেটা কেউ লুকাতেও চান না। মঙ্গলবার আপনার সমর্থন কার দিকে থাকবে? এই প্রশ্ন শুনে অনেকেই কয়েক মুহূর্ত থমকে গেলেন। যাঁদের এক লহমায় নিজের দেশের নাম বলার কথা, তাঁদের মধ্যে দ্বিধার চোরাস্রোত।
 
পশ্চিম বাংলার সাবেক ক্রিকেট কর্মকর্তা বিশ্বরূপ দে বলেন, বাংলাদেশের প্রতি আমাদের দুর্বলতা আছে। ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষের না থাক, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের তো আছেই। বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে দারুণ উন্নতি করেছে। খুব ভালো খেলছে ওদের ক্রিকেটাররা। ওরা সাফল্য পেলে আমাদেরও ভালো লাগে। বাংলাদেশের অনেক তারকা কম বয়সে কলকাতায় খেলতে এসেছিলেন। তখন থেকে অনেককেই চেনেন বিশ্বরূপ। তাঁর মতে, দুই বাংলার এই আবেগের কারণ ভাষা। সেটাই আমাদের জুড়ে রেখেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা