kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের অভিমত

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের দুঃসংবাদে মর্মাহত বাংলাদেশ: পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ জুন, ২০১৯ ২১:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের দুঃসংবাদে মর্মাহত বাংলাদেশ: পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

জিম্বাবুয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই বন্ধন বহু যুগের। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ৭২টি ওয়ানডে খেলেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তাদের বিপক্ষেই খেলেছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬টি টেস্ট ম্যাচ। খেলবে নাই বা কেন? বাংলাদেশের ক্রিকেটের অকৃত্রিম বন্ধু বলে পরিচিত জিম্বাবুয়ে। এদেশের ক্রিকেটের উন্নতির পেছনে জিম্বাবুয়ের অবদানের তুলনা হয় না। একটা সময় যখন কোনো দল বাংলাদেশের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে চাইত না; তখন একের পর এক ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে জিম্বাবুয়ে। বেশিরভাগ ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও জিম্বাবুয়ে খেলা থামায়নি। সেই জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট আজ চরম দুঃসময়ে!

অনেকদিন ধরেই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের অবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। অ্যান্ড ফ্লাওয়ার, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, হিথ স্ট্রিকদের একসময়ের দুর্দান্ত জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট গত কয়েক বছর ধরে ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ভেঙে পড়েছে ক্রিকেট কাঠামো। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি ওয়ানডে বিশ্বকাপের মাঝেই জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড ভেঙে দিয়েছে দেশটির সরকার। এর ফলে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে গেছে দেশটির ক্রিকেট। বিশ্বকাপের জন্য আইসিসিও কোনো হস্তক্ষেপ করছে না।

বিপদের বন্ধুদের এমন বিপর্যয়ে মর্মাহত হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। আজ এই বিষয়ক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সোশ্যাল সাইটে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী। দাবি উঠেছে, যদি সুযোগ থাকে তাহলে বিশ্বের চতুর্থ ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি যেন এমন দুঃসময়ে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের পাশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে সিরিজ আয়োজনেরও দাবি তুলেছেন ক্রিকেপ্রেমীরা। তবে আসলে সবকিছুই নির্ভর করছে জিম্বাবুয়ে সরকারের ওপর। তারা দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়ে কী ভাবছেন, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত কয়েকবছর ধরে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থাও করুণ। সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে এখন চরম দুঃসময়।

এমন মুহূর্তে বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়াচ্ছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। যেমন মোহাম্মদ ফরহাদ লিখেছেন, ' সত্যিই জিম্বাবুয়ের জন্য খুব দুঃখ হয়৷যখন ক্রিকেটের সব বড় বড় দলগুলোর বাংলাদেশের সাথে সিরিজ খেলতে অনাগ্রহী ছিল, তখন এই অকৃত্রিম বন্ধু জিম্বাবুয়ে খেলত বাংলাদেশের সাথে। বিসিবির উচিৎ তাদের পাশে দাড়ানো।' একই সুরে বলেছেন দেলোয়ার হোসেন, ' বাংলাদেশ কে নিয়ে যখন সবাই হাসি ঠাট্টা করত তখন পাশে ছিল এই জিম্বাবুয়ে। আমার মতে বাংলাদেশের উচিৎ বিশ্বকাপের পর তাদেরকে সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানানো। এবং তাদের আর্থিক অবস্থা চিন্তা করে বিসিবি থেকে খরচ বহন করা।'

রনি আহমেদ লিখেছেন, 'আমাদের উচিৎ এখন তাদের সাথে পাঁচটি ওয়ানডে সিরিজ খেলা। তারাও আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, অতীত ভুলে গেলে চলবে না।' হিমু চৌধুরী হাহাকার করে লিখেছেন, 'একমাত্র ওরাই আমাদের প্রকৃত বন্ধু ছিল, অন্যরা ছিলো কৃত্রিম। আহারে, এমন অকৃত্রিম বন্ধু আমরা আর কোথায় পাব!' ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে জুনায়েদ স্বাধীন লিখেছেন, 'আইসিসি ক্রিকেট খেলাকে ধংস করছে। ফিফা যেখানে ফুটবলের জন্য সামনে দল বাড়ানোর চিন্তা করছে, সেখানে তারা উল্টো পথে হাঁটছে।' মাসুদ সাখাওয়াত লিখেছেন, 'বাংলাদেশের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো।' কাজী জামান লিখেছেন, 'বিপিএলে জিম্বাবুয়ের ৫/৬ জন খেলোয়াড় দেখতে চাই। তাদের সাথে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজ খেলতে চাই।'

এভাবেই অসংখ্য বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমী জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের দুর্দিনে সমব্যথী হয়েছেন। তারা আশা করছেন, দুঃসময় কাটিয়ে আবারও ক্রিকেটের মূলধারায় ফিরবে দেশটির ক্রিকেট। এ ব্যাপারে জিম্বাবুয়ে সরকারের সুন্দর পরিকল্পনার আশাও করছেন তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা