kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

নিউজিল্যান্ড অপরাজিতই থাকল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ জুন, ২০১৯ ১০:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিউজিল্যান্ড অপরাজিতই থাকল

জয়ের নায়ক : একেই বলে অধিনায়কোচিত ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কেন উইলিয়াসমন। প্রবল চাপের মুখে ১০৬* রানের ইনিংসে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন কিউই অধিনায়ক। ছবি : এএফপি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জিতে বিশ্বকাপে জয়খরা ঘুচিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আসরে এখনো পর্যন্ত অপরাজিত থাকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ওই লড়াইয়ে কিউইদের কাছে ৪ উইকেটে হেরে গেছে ফাফ দু প্লেসিসের দল। সম্ভাবনা একেবারে বিলীন হয়ে না গেলেও এই হারে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়াটা আরো কঠিন হয়ে গেল প্রোটিয়াদের। বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া

ম্যাচে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৪৯ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪১ রান করে প্রোটিয়ারা। উইলিয়ামসনের ১০৬ রানের হার না মানা অধিনায়কোচিত ইনিংসে ৩ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেট হারিয়ে ওই রান টপকে গেছে কেন উইলিয়ামসনের দল। এ জয়ে এককভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে গেছে এখনো হারের তেতো স্বাদ না পাওয়া কিউইরা।

টসে জিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ব্যাটিংয়ে পাঠান উইলিয়ামসন। বৃষ্টিভেজা উইকেটের ফায়দা তুলে নিয়ে শুরুতেই কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করে ফেরত পাঠান ট্রেন্ট বোল্ট। ওয়ানডাউনে নেমে অধিনায়ক ফাফ দু প্লেসিসও ৩৫ বলে ২৩ রানের বেশি করতে পারেননি। একটা প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন হাশিম আমলা। তাঁর ৮৩ বলে ৫৫ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসের ইতি ঘটে মিচেল স্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে। ব্যাটিং অর্ডারে ডিমোশন হয়েছে এইডেন মার্করামের; ব্যাট হাতে সময়টা ভালো যাচ্ছে না তাঁরও। কালও খুব একটা আশাবাদী কোনো ইনিংস আসেনি মার্করামের ব্যাট থেকে। ৫৫ বলে ৩৮ রান করে বিদায় নিয়েছেন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে কলিন মুনরোর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে। মানটা বাঁচিয়েছেন র্যসি ফন ডার ডাসেন।

মাত্রই ১৫তম ওয়ানডে খেলছেন প্রোটিয়াদের হয়ে, এরই মধ্যে হয়ে গেছে ৬টি হাফসেঞ্চুরি। কাল তাঁর অপরাজিত ৬৪ বলে ৬৭ রানের ইনিংসেই ভদ্রস্থ দেখিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরকার্ডটা। মারমুখী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি আছে ডেভিড মিলারের। কিন্তু তাঁর ব্যাটও থাকল ঘুমিয়ে। ৩৭ বলে ৩৬ রানের ইনিংস খেলে ক্যাচ দিয়েছেন থার্ডম্যানে। তবু ফন ডার ডাসেন আর মিলারের ৭২ রানের জুটিটিই যা গতি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রস্তর যুগের ব্যাটিংয়ে। রান উৎসবের বিশ্বকাপে তাই আগে ব্যাট করে আড়াই শর কম রান করা অথচ সব কটি উইকেটও পড়েনি, এমন বিরস ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করা দক্ষিণ আফ্রিকাও তাই পড়ে থাকল সেই হারের বৃত্তে।

২৪২ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতে কাগিসো রাবাদার বলে কলিন মুনরো ফিরে গেলেও হাফসেঞ্চুরির জুটিতে শুরুর ধাক্কা ভালোভাবে সামলে কিউইদের সঠিক কক্ষপথে ফিরিয়ে আনেন মার্টিন গাপটিল ও কেন উইলিয়ামসন। ৩৫ রান করে মার্টিন গাপটিলের হিট উইকেট আউটে ভাঙে তাঁদের ৬০ রানের জুটিটা। এরপর জোড়া আঘাতে ক্রিস মরিস কিউই ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ রস টেলর ও টম লাথামকে ছয় রানের ব্যবধানে কুইন্টন ডি ককের ক্যাচ বানালে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৮০ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় কিউইরা, তখন জয়টাই হয়তো উঁকি দিচ্ছিল প্রোটিয়াদের মনে। তাদের জয়ের সে স্বপ্ন ধীরে ধীরে দূর দিগন্তে মিলিয়ে গেছে উইলিয়ামসনের অসাধারণ দৃঢ়তা এবং কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে। পঞ্চম উইকেট জেমস নিশামকে নিয়ে মাঝের ধস সামলে কিউইদের পথে ফিরিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের সঙ্গে আরেকটি হাফসেঞ্চুরির জুটি গড়ে সব শঙ্কা দূর করে কিউইদের জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন উইলিয়ামসন। নিউজিল্যান্ড যখন বিজয় উৎসব করছিল উইলিয়ামসনের নামের পাশে ঝলমল করছিল অপরাজিত ১০৬ রান। ১৩৮ বলে ৯ বাউন্ডারি এবং এক ছক্কায় মূল্যবান ইনিংসটি খেলেছেন তিনি। ফেলুকায়োকে ছক্কা মেরে ছুঁয়েছেন তিন অঙ্কের জাদুকরী স্কোর। মূল্যবান ইনিংসটা খেলার পথে ইংল্যান্ডের মাটিতে সবচেয়ে কম ইনিংস ওয়ানডেতে হাজার রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন উইলিয়ামসন। কিউই অধিনায়ক ঠাণ্ডা মাথায় এক-দুই রানে ইনিংস মেরামত করলেও শুরু থেকে চড়াও হয়ে খেলতে থাকেন গ্র্যান্ডহোম। ৪৭ বলে ৫ বাউন্ডারি এবং ২ ছক্কায় ৬০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে আস্কিং রানরেট কমিয়ে এনে চাপটা প্রশমিত করে দলের জয়ের পথ করেছেন আরো সুগম। ৩ উইকেট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সফলতম বোলার ক্রিস মরিস। কাগিসো রাবাদা ও আনডিলে ফেলুকায়ো প্রত্যেকের শিকার ১টি করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা