kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

লিটনের ব্যাটই সেরা

সাইদুজ্জামান, লন্ডন থেকে   

১৮ জুন, ২০১৯ ২৩:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লিটনের ব্যাটই সেরা

ব্যাট একজন ব্যাটসম্যানের কাছে পরম স্নেহের। ব্যাটেই যে তাঁর উন্থান-পতন লেখা। ভাগ্যের যোগসাজশ অপেক্ষাকৃত বেশি বলেই সিংহভাগ ক্রিকেটারের মনেই নানান সংস্কার। প্রায় সব ব্যাটসম্যানই নির্দিষ্ট একটি কম্পানির ব্যাট দিয়ে খেলেন। তবু এর মাঝেও পয়মন্ত কিংবা অপয়া ব্যাট আলাদা করে ফেলেন। যেটায় রান এসেছে, সে ব্যাটটা পয়মন্ত। আর রানহীন ব্যাট মানেই অপয়া। অথচ দু’টিই একই প্রতিষ্ঠানের, একই আকৃতির এবং ওজনের। তবু বিভাজনটা করে ফেলেন ব্যাটসম্যান। 

সারা বিশ্বে অন্তত কয়েক হাজার ব্যাট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আছে। ছোটবেলায় শুনেছি পাকিস্তানের শিয়ালকোট ক্রিকেট সরঞ্জাম নির্মাণে বিখ্যাত। তবে এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মাঝে ভারতের জলন্ধরে তৈরি ব্যাট বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অনেক আগে একবার নিজে পাকিস্তানে গিয়ে ব্যাট বানিয়ে এনেছিলেন তামিম ইকবাল, যাঁর ব্যাটের প্রতি নজর থাকে ড্রেসিং রুমের অনেকেরই। সাকিব আল হাসানের ব্যাটও সর্বোচ্চ মানের নয়। এর কারণ ক্রিকেট ব্যাট তৈরি হয় উইলো কাঠ দিয়ে। সেটি চেরাইয়ের পর সেরা অংশ সংরক্ষিত থাকে কোহলি-রুট-মর্গ্যানদের জন্য। তাই চাইলেও বিশ্বের সেরা মানের ব্যাট হাতে তোলার উপায় নেই বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যানের।

অনেক চেষ্টা করেও পাননি তামিম। তবে লিটন কুমার দাশের ব্যাটের অনুরাগী তিনি, ‘লিটন খুব ভালো ব্যাট দিয়ে খেলে।’

অবশ্য এ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের ব্যাটের ওজন একটু বেশি। তাই পছন্দ হলেও ওই ব্যাট হাতে তোলেন না অনেকে। তামিমের ব্যাট যথেষ্টই আকর্ষক। চাইলে পাওয়াও যায়! কিন্তু তামিমের শর্ত আছে, ‘কোনো খেলোয়াড় ব্যাট চাইলে যদি সম্ভব হয় আমি দেই। অকারণে অনেকে ব্যাট চায়। কেউ বুঝতে চায় না একজন পেশাদার ব্যাটসম্যানের কাছে ব্যাটের গুরুত্ব কতটুকু।’

কোনো খেলোয়াড় চাইলে ভিন্ন কথা। নারী দলের রুমানা আহমেদ তো গত টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ খেলতে যাওয়ার আগে তামিমের কাছে একটা ব্যাট কিনতেই চেয়েছিলেন। তাঁর আশা পূর্ণ হয়েছিল, ব্যাট পেয়েছিলেন তামিমের। তবে এজন্য মূল্য চুকাতে হয়নি রুমানার। শুধু ওই ব্যাটে কিছু রান চেয়েছিলেন তামিম। রুমানা সে ‘দায়’ শোধও করেছিলেন!

তামিমের ব্যাটের স্পন্সর সিএ। সাকিব আল হাসানের এসএস। মুশফিকুর রহিমেরও তাই। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের স্পন্সর বদলাতে থাকে আর্থিক কারণে। বাৎসরিক চুক্তির অর্থের ওপর নির্ভর করে ব্যাটসম্যান কোন কোম্পানির স্টিকার ব্যাটে লাগাবেন। অবশ্য স্টিকার দেখেই ব্যাটসম্যানের পছন্দের ব্যাট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম বললে ভুল হতে পারে। স্টিকার শুধু প্রতিষ্ঠানের পরিচয়বাহক। ব্যাটের সত্যিকারের প্রস্তুতকারী নির্ধারিত হয় ব্যাটসম্যানের ইচ্ছায়। 

এই ইচ্ছার প্রতি সিএ পর্যাপ্ত সন্মান দেখায় বলেই প্রায় দ্বিগুণ অর্থের প্রলোভন উপেক্ষা করে গেছেন তামিম, 'সিএ’র সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেকদিনের। কোন কিছু চেয়ে পাইনি, এমন কখনো হয়নি। অন্য কোম্পানি বেশি অর্থ দিলেও মনে হয় না ব্যাটের স্পন্সর বদলাবো।'

ব্যাট স্পনসরের কাছ থেকে ক্রিকেটাররা কত টাকা পান বছরে? বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যিনি পান বলে শোনা যায়, সেটি ম্যাচ প্রতি দেড় হাজার ডলার করে। এ চুক্তির পরিধি তিন ফরম্যাটে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে ইদানিং চুক্তিতে ব্র্যাকেটবন্দি হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটও। তাতে দেড় হাজার ডলার চুক্তির ক্রিকেটার বছরে ব্যাট স্পন্সরশিপ বাবদ হাজার চল্লিশেক ডলার তো উপার্জন করেনই।

অঙ্কটা জেনে চোয়াল ঝোলাবেন না। এটা কোন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক ব্যাট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে। সেটিও শুধু ব্যাটসম্যান ক্যাটাগরির ক্রিকেটারের জন্য বরাদ্দ। নৈপুণ্য ভেদে সেখানেও তারতম্য আছে। বোলারদেরও কারোর কারো ব্যাটের স্পন্সর আছে, তবে সেটির অর্থমূল্য সামান্যই। 

অবশ্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ যিনি আয় করেন ব্যাট স্পন্সরশিপ বাবদ, তাঁর চেয়ে বহুগুণ বেশি আয় ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির। তাঁর ব্যাট স্পন্সর এমআরএফ। চার বছরের এ চুক্তি মূল্য প্রায় ৩২ কোটি ভারতীয় রুপি! 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা