kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৮ জুলাই ২০১৯। ৩ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৪ জিলকদ ১৪৪০

বললেন সাকিব

নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধে জিততে হয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১৮ জুন, ২০১৯ ১০:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধে জিততে হয়

তামিম ইকবালের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় নিজেই একাধিকবার বলেছেন যে এই দুজন মিলেই ম্যাচ শেষ করে আসবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে তামিম কাটা পড়লেও সাকিব আল হাসান ঠিকই হার না মানা সেঞ্চুরিতে ম্যাচ শেষ করে এসেছেন। অপরাজিত ১২৪ রানের ইনিংসে বাংলাদেশকে আরেকটি জয় এনে দিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সংবাদ সম্মেলনে এসে যা যা বললেন, এখানে তুলে ধরা হলো তার নির্বাচিত অংশগুলোই

প্রশ্ন : ইনিংস বিরতির সময় কি আপনারা বিশ্বাস করেছিলেন যে এই রান তাড়া করেও জেতা সম্ভব?

সাকিব আল হাসান : সহজ হবে বলে ভাবিনি আমরা। তবে এটি বিশ্বাস করেছি যে এই রান তাড়া করেও জেতা সম্ভব। আর ওপেনাররা যেভাবে ব্যাটিং করছিল, তাতে ড্রেসিংরুমে সেই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েও। সবাই খুব ভালো অনুভব করছিল। কখনোই আমাদের আতঙ্কিত হতে হয়নি। আশা করছি, আমাদের এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্ন : ম্যাচের পর ম্যাচ রান করেই চলেছেন। টুর্নামেন্টটিকে কি নিজের করে নিতে চান?

সাকিব : এই মুহূর্তে ব্যাটে এবং বলে অবদান রাখতে পারছি। দলের জন্য যা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব ভালো লাগবে যদি পরের চারটি ম্যাচেও এই ধারাবাহিকতা রাখতে পারি। আমাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য যা খুব জরুরিও। নিশ্চিত করতে হবে এখন যা করছি, সেটি সামনের ম্যাচগুলোতেও যেন করে যেতে পারি।

প্রশ্ন : ৩ উইকেট পড়ার পর লিটন নামলেন। এই বিশ্বকাপে এটি তাঁর প্রথম ম্যাচও। কী বলেছিলেন তাঁকে?

সাকিব : বলেছিলাম, ‘উইকেট ভালো আছে। উইকেটে থাকতে পারলে তুই ম্যাচটি শেষ করে যেতে পারবি।’ ১০-১৫ বল পর ও যেভাবে ব্যাটিং করেছে, সেটি দেখার জন্য দারুণ ব্যাপারই ছিল। নন-স্ট্রাইকার প্রান্ত থেকে ওর ব্যাটিং খুবই উপভোগ করেছি আমি। ও আমাকে কখনোই চাপে ফেলে দেয়নি। তিন-চার ম্যাচ পর নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামা কারো পক্ষে ওরকম ব্যাটিং করা খুব সহজ ব্যাপারও ছিল না। কিন্তু ওই চাপ সামলে যে ব্যাটিং করেছে, এক কথায় অসাধারণ।

প্রশ্ন : অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ সামনে। তাদের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে কী ভাবছেন?

সাকিব : আমরা তো গত কয়েকটি ম্যাচে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফাস্ট বোলারকে খেলেছিও। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলারদেরও খেললাম। আমার মনে হয় না এটি নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু আছে। আমাদের শুধু বেসিকটা ঠিকঠাক রেখে খেলতে হবে। তবে এটা বলতে পারি যে আমরা পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানাতেও সক্ষম।

প্রশ্ন : আজ ৫১ বল বাকি রেখে যেভাবে জিতলেন, সেটি সামনে ৩৫০ রান তাড়া করার ক্ষেত্রেও দলকে অনুপ্রাণিত করতে পারে কি না?

সাকিব : অবশ্যই পারে।

প্রশ্ন : ব্যাটিংয়ে কি ক্যারিয়ারে নিজের সেরা সময় পার করছেন?

সাকিব : রানের দিক থেকে চিন্তা করলে আমার তো মনে হয় সেরাই। এর আগেও হয়তো ভালো অবস্থায় কখনো কখনো ছিলাম। তবে ভালো অবস্থায় থেকেও সব সময় রান করা যায় না। এখন খুব ভালো যাচ্ছে, সেটিই ধরে রাখতে চাই।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপের জন্য সবাই ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছে। প্রস্তুতি নিয়েছে। আপনার কাছে মাইন্ডসেটটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

সাকিব : অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ রকম পরিবেশ-পরিস্থিতিতে এসে আসলে মানসিকভাবে শক্ত থাকাটাই সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। ফিটনেস ভালো থাকলে ওটা আপনাকে সহায়তা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যত বেশি মানসিকভাবে শক্ত থাকা যায় এবং মনে সাহস রাখা যায়, ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে সেগুলোই সহায়তা করে। আসলে যুদ্ধটা হয় নিজের সঙ্গে নিজের। তাতে ভেতরে ভেতরে হেরে গেলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। যদি মন থেকে নিজেকে বলেন যে ‘আমি জিতছি, আমি জিতছি’; তাহলে সম্ভব। হয়তো সব সময় হবে না। তবে বেশির ভাগ সময়ই হবে।

প্রশ্ন : এই ম্যাচ শেষ করে আসার ব্যাপারটি নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের জন্য দারুণ উদাহরণও?

সাকিব : তা তো অবশ্যই। তামিমের সঙ্গে যখন ব্যাটিং করছিলাম, আমিই দুবার ওকে বলেছি, ‘আমরাই ম্যাচ শেষ করে দিতে পারি। আমরা খেলে যেতে পারলে ৫-৬ ওভার আগেই শেষ করে দিতে পারি।’ আমরা জানতাম যে যথেষ্ট বাজে বল পাচ্ছি চার মারার জন্য। তাই নিজেদের মধ্যে অনেকবারই এই কথা হয়েছে যে আমরাই শেষ করে যেতে পারি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা