kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

এই সাকিব কোন সাকিব?

তানজিদ বসুনিয়া   

১৮ জুন, ২০১৯ ০০:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এই সাকিব কোন সাকিব?

আধুনিক যুগে টেকনোলজীর সৌজন্যে যেখানে মুহূর্তেই সব প্লেয়ারকে পড়ে ফেলছেন প্রতিপক্ষের প্লেয়াররা। কত বাঘা বাঘা বোলার, ব্যাটসম্যান ক্রিকেট থেকেই ফিটকে পড়লেন! অথচ স্রোতের বিপরীতে কি দুর্দান্তই খেলে চলেছেন সাকিব আল হাসান। 

আসলে সাকিব আল হাসান কে? তিনি কি মানুষ নাকি বাংলাদেশের জন্য ভিন্ন কোথাও থেকে বিশেষ কারো কাছ থেকে বিশেষ উপহার হয়ে আসা কেউ! যদি তা নাই হবে তাহলে  ইতিমধ্যে দুইশ'টিরও বেশি ম্যাচ খেলে ফেলার পরও এখনো দুবোর্ধ্য থাকেন কিভাবে? ব্যাটিং, ফিল্ডিং কিংবা বোলিং তিন বিভাগেই তিনি বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বিশেষ উপহার!

আজকের ম্যাচের কথাই ধরা যাক, সাকিব যখন মাঠে যান তখন দলীয় স্কোর ৮ ওভার দুই বলে ৫২ রানে এক উইকেট। ক্রিজের অপর পাশে ব্যাটিংয়ে তামিম। নেমেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর ওই যে ছড়ি ঘুরাতে শুরু করলেন তা থেকে বের হতে পারেনি নিয়মিত ১৪০ থেকে ১৪৫ গতিতে বল করে যাওয়া উইন্ডিজ বোলাররা। বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের রীতিমতো শাসন করেন সাকিব। তুলে নেন চলতি বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। শুধু সেঞ্চুরি তুলেই ক্ষান্ত হননি। আজকেই প্রথম খেলতে নামা লিটন কুমরা দাসকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৫ বলে করেন অপরাজিত ১৮৯ রানের পার্টনারশিপের কারণেই তো বিশ্বকাপ মঞ্চে প্রথমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল বাংলাদেশ।

আর রেকর্ড? সে তো দুধ ভাত! মাঠে নামলেই কোনো না কোনো রেকর্ড করে ফেলছেন ৩২ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার। আজকের কথাই ধরুন না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমেই কিছুক্ষণের মধ্যে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ঢুকলেন ছয় হাজার রানের ক্লাবে। পরপর চার ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস যার মধ্যে সর্বশেষ দুই ম্যাচে আবার রয়েছে সেঞ্চুরি। তার মধ্যে ইংল্যান্ড নাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোন দলের বিপক্ষে সাকিবের সেঞ্চুরি বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল সে তর্কে আপাতত যাওয়ার প্রয়োজন নেই।

অথচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চোট পেয়ে শ্রীলঙ্কা ম্যাচে অনিশ্চিত থাকা সাকিব আজ নেমেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেখান থেকে শেষ করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেখান থেকেই শুরু করলেন। করলেন অনবদ্য সেঞ্চুরি। শুধু অনবদ্য বললে অবশ্য সাকিবের কীর্তি ছোট করা হবে। ৯৯ বলে ১৬টি বাউন্ডারির সাহায্যে যে ১২৪ রান করলেন তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেই অমলিন থেকে যাবে। 

এর আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২১ ও তার পূর্বের দুই ম্যাচে ৬৪ ও ৭৫ ব্যাটসম্যান সাকিবকে চলতি বিশ্বকাপের শীর্ষ আসনে বাসিয়েছে। ৩৮৪ রানে তিনিই এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি রানের মালিক। বোলিংয়েও পিছিয়ে নেই এই অলরাউন্ডার। আজকের ম্যাচে দু'টি উইকেট নিয়ে চার ম্যাচে মোট পাঁচ উইকেট।

অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলীয় জার্সি নিয়ে দলের অফিশিয়াল ফটোসেশনে যোগদান না করা, দলের সাথে না এসে আলাদা ফ্লাইটে ইংল্যান্ডে যাত্রাসহ কত শত আলোচনা সমালোচনা! সবকিছুই যেন তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন তিনি। এই যে বিশ্বকাপে সাকিবের এতো সাফল্য সেটি কি এমনি এমনি এসেছে? উত্তর টা আমাদের জানা। এই বিশ্বকাপকে সামনে রেখেই না আইপিএলে খেলতে গিয়েও নিজের ফিটনেস ঠিক করতে কঠোর পরিশ্রম, ব্যাটিংয়ের টুকিটাকি সমস্যা ঝালাই করতে কোচ সালাউদ্দিনকে ভারতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া শুধুমাত্র সাকিবের পক্ষেই সম্ভব। আরো একটি বিষয়ে বেশ পারদর্শী সাকিব। 

স্রোতের বিপরীতে দাড়িয়ে বুক চেতিয়ে সব আলোচনা সমালোচনার জবাব দেওয়া। সেটি অবশ্য কথায় নয়, পারফর্মেন্স দিয়ে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জনকে ঘিরে যে ১৬ কোটি স্বপ্ন বুনেছে বাংলাদেশ। সেই ১৬ কোটি স্বপ্নকে কাধে নিয়ে কি দারুণ ভাবেই না এগিয়ে চলছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই ফেরিওয়ালা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা