kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ জুলাই ২০১৯। ৮ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৯ জিলকদ ১৪৪০

বিশ্বাস করি সেমিফাইনালে যেতে পারব

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ০৯:৩৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বাস করি সেমিফাইনালে যেতে পারব

ক্যারিবীয়দের শক্তি কিংবা দুর্বলতা, তাদের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য এবং এর ভিত্তিতে তৈরি হওয়া প্রত্যাশাই যে প্রাপ্তিযোগের নিশ্চয়তা নয়, টন্টনে গতকাল রবিবার মাশরাফি বিন মর্তুজার সংবাদ সম্মেলনে বাদ পড়ল না কোনো প্রসঙ্গই। সেসব থেকেই নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো এখানে—

টন্টনের ছোট মাঠের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে...
মাশরাফি : ওয়েস্ট ইন্ডিজ যত বড় মাঠেই খেলুক না কেন, মিস হিটেও ছক্কা হয় অনেক সময়। এখানে ছয় হলে তো আর বারো হবে না! ছয়ই হবে। তবে মাঠ ছোট হওয়াতে আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্যও সুবিধা কিছুটা বাড়ল। আমাদেরও সুযোগ থাকবে। হয়তো বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ একটু বেশিই থাকবে। মাঠ ছোট হওয়াতে এজ হলে বা আউট হওয়ার যে ফিফটি-ফিফটি সুযোগ থাকবে, সেগুলোও হয়তো ছয় হয়ে যেতে পারে। দুটো দিকই দেখা যায়। তবে যত ইতিবাচক হবেন, তত ভালো। আমার মতে শট খেলার ক্ষেত্রে ছোট মাঠ হওয়াতে দুই দলেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে।

গেইল-রাসেলের অন্তর্ভুক্তিতে ক্যারিবীয়দের বোলিংয়ের চেয়ে ব্যাটিংই চ্যালেঞ্জ বেশি বাড়িয়েছে কি না?
মাশরাফি : ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে খেলতে গেলে সব দল প্রথম পরিকল্পনাই করে ব্যাটিং নিয়ে। কারণ ওরা ওয়ানডের ব্যাটিংও টি-টোয়েন্টির মতো করতে চায়। কাজেই ওরা যখন সফল হবে, বোলারদের জন্য মাঠের কাজটি কঠিন হবে। সব দলের জন্যই তাই। আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই বোলিং করে যেতে হবে। পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে। সবারই সমান যাবে না। কারো কারো অবশ্যই খারাপ দিন যাবে। ইতিবাচক ব্যাপার হলো, ওরা প্রচুর শট খেললে আমাদেরও সুযোগ আসবে। সেই সুযোগগুলো নিতে পারলে উইকেট পাওয়া যাবে।

যে জিনিসটির পুনরাবৃত্তি দেখতে চান?
মাশরাফি : ওদের বিপক্ষে গত দুই-তিন সিরিজে আমাদের বোলিং বেশ ভালো হয়েছে। এই ইতিবাচক ব্যাপারটিই আবার কাল মাঠে দেখতে চাই।

চার পেসার নিয়ে খেলার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে...
মাশরাফি : ব্যাটসম্যান কম নিয়ে খেলাও ভালো ব্যাপার নয়। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলারদের বিপক্ষে। যদিও একাদশ চূড়ান্ত হয়নি এখনো। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট যে একাদশই দিক, সেটি নিয়েই ভালো খেলতে হবে আমাদের।

কঠিন হয়ে যাওয়া সেমিফাইনালের অঙ্ক নিয়ে...
মাশরাফি : এখনো আমাদের পাঁচটি ম্যাচ বাকি। এখনই কিছু বলা কঠিন। তবে আমরা একবারে পাঁচটি ম্যাচ নিয়ে ভাবছি না। আমরা বরং একটি করে ম্যাচ ধরে ধরে ভাবছি। পেছনে ফিরে তাকালে বলব নিউজিল্যান্ড ম্যাচের হারের মূল্যই বেশি দিতে হচ্ছে আমাদের। তারপরও পাঁচ ম্যাচ বাকি। আপনাকে ইতিবাচক চিন্তা করে সব ম্যাচেই ভালো পারফরম করতে হবে। আমাদের বিশ্বাস করতে হবে যে পারব এবং আমি নিশ্চিত যে আমার দলও তাই বিশ্বাস করে।

অফস্পিনই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে সাফল্যের পূর্বশর্ত কি না?
মাশরাফি : হ্যাঁ, অফস্পিন দিয়েই আমরা ওদের বিপক্ষে বেশ সফল। সুতরাং এটি নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স যদি দেখেন, তাহলে মেহেদী হাসান মিরাজ খুবই ভালো বোলিং করেছে ওদের বিপক্ষে। আর ও এই বিশ্বকাপেও যথেষ্ট ভালো বোলিং করেছে। এমনকি ডানহাতিদের বিপক্ষেও। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম ছয়জনের পাঁচজনই বাঁহাতি। মেহেদী ওদের বিপক্ষেও দারুণ বোলিং করেছে। এটা ইতিবাচক ব্যাপার আমাদের জন্য। সঙ্গে এটিও বলতে হবে যে এই মাঠটি ছোট। কাজেই সে কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কারণ ওদেরও বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান আছে। চেষ্টা থাকতে হবে ওদের উইকেট যেন আমরা নিতে পারি। গুরুতর ক্ষতি যাতে ওরা করতে না পারে। যা ওরা করতে সক্ষম।

ক্যারিবীয়দের বোলিং অ্যাটাক নিয়ে...
মাশরাফি : ওদের মূল বোলিং অ্যাটাক আমরা খেলে এসেছি। তবে সফল হলেও রিলাক্স হওয়ার সুযোগ নেই। এটা নতুন একটি ম্যাচ। ওদের বোলিং কিন্তু ভালোও করছে।

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে আগের ৯ ম্যাচের ৭টিতে জেতার ইতিবাচক দিক প্রসঙ্গে...
মাশরাফি : দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হলে এসব কাজ করে। এই ধরনের টুর্নামেন্টে একেক দিন একেক প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলতে হয়। কাজেই একই রকম পরিকল্পনায় নামা যায় না। পরদিন আরেকজনের সঙ্গে খেলা। অন্যভাবে চিন্তা করতে হয়। তা ছাড়া এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ আপনাকে ধ্বংস করতে জানে। আগের ৯ ম্যাচের সাতটি জিতেছি মানে এই না যে এখানে এসে সহজে জিতে যাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা