kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না ভারত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জুন, ২০১৯ ০০:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পাকিস্তানকে পাত্তাই দিল না ভারত

ভারতের বিপক্ষে এবারও বিশ্বকাপের গেরো কাটাতে পারল না পাকিস্তান। রোহিত শর্মার সেঞ্চুরির পর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সহজ জয় পেল বিরাট কোহলির দল। ৮৯ রানের বড় জয়ে বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত অপরাজিতই রইল ভারত।

ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটিতে পাকিস্তানকে পাত্তাই দেয়নি ভারত। আগে ব্যাট করে তারা দাঁড় করায় ৩৩৬ রানের বড় সংগ্রহ। পরে বৃষ্টির কারণে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০ ওভারে ৩০২ রানের। যার বিপরীত নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১২ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।

এর আগে টস জিতে ভারতকেই প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে কিছুটা সাবধানি ব্যাটিং করতে থাকে ভারতের দুই ওপেনার। এরপর ধীরে ধীরে হাত খুলতে থাকে তাদের। এক সময় এসে রান তোলার গতি প্রায় ৬ রানেরেটে গিয়ে পৌঁছায় ভারতের।

ম্যাচে জিততে হলে গড়তে হবে ইতিহাস, ভাঙতে হবে নানান রেকর্ড। এমন ম্যাচে শুরুটা মনঃপুত না হলেও, দ্বিতীয় উইকেটে সামলে নিয়েছিলেন ফাখর জামান ও বাবর আজম। কিন্তু হুট করেই তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।

ভারতের ছুড়ে দেওয়া ৩৩৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ফর্মে থাকা ওপেনার ইমাম উল হক আজ পারেননি ব্যাট হাতে জ্বলে উঠতে, সাজঘরে ফিরে যান দলীয় ১৩ রানের মাথায়। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ফাখর ও বাবর মিলে গড়েন ১০৪ রানের জুটি। দুজন মিলে রান তুলছিলেন বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে।

মনে হচ্ছিল বেশ ভালো লড়াই হবে ম্যাচে। কিন্তু ২৪ ওভারের শেষ বল থেকে ২৭ ওভারের শেষ বলের মধ্যেই সব সমীকরণ পাল্টে দিয়েছে ভারত। এই ২৪ বলের মধ্যে মাত্র ১২ রান খরচায় ৪ পাকিস্তানিকে প্যাভিলিয়নের টিকিট ধরিয়েছেন কুলদ্বীপ যাদভ-হার্দিক পান্ডিয়ারা।

যার শুরুটা হয় বাবর আজমকে দিয়ে, যিনি ছুটছিলেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির দিকে। কিন্তু ৪৮ রানের মাথায় কুলদ্বীপের ভেতরে ঢোকা একটি বল বুঝতে না পেরে সরাসরি বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন পাকিস্তানের তিন নম্বর ব্যাটসম্যান।

বাঁহাতি চায়নাম্যান কুলদ্বীপের পরবর্তী শিকার আরেক সেট ব্যাটসম্যান ফাখর জামান। তিনি ফুললেন্থের এক ডেলিভারিকে অবিবেচকের মতো সুইপ খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন ফাইনলেগে দাঁড়ানো ইয়ুজভেন্দ্র চাহালের হাতে। আউট হওয়ার আগে ৭৫ বলে ৬২ রান করেন ফাখর।

দুই সেট ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে বিপদে থাকা পাকিস্তান অকূল পাথারে ডুবে যায় হার্দিক পান্ডিয়ার করা ২৭ ওভারে। সে ওভারের চতুর্থ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে দাঁড়ানো বিজয় শঙ্করের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন মোহাম্মদ হাফিজ।

আউট হওয়ার আগে ৭ বলে ৯ রান করতে সক্ষম হন মিস্টার প্রফেসর খ্যাত এ অলরাউন্ডার। হাফিজ ফেরার পরের বলেই ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে সরাসরি বোল্ড হন শোয়েব মালিক। রানের খাতাই খুলতে ব্যর্থ হন তিনি। মাত্র ১২ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় পাকিস্তান।

তবে ষষ্ঠ উইকেটে ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ ও বাঁহাতি স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম। দুজন মিলে যোগ করেন ৩৬ রান। ইনিংসের ৩৫ ওভারের প্রথম বলে ৩০ বলে ১২ রান করে আউট হন সরফরাজ।

এর পরই শুরু হয় বৃষ্টি। বৃষ্টির বাধায় ম্যাচ বিঘ্নিত হলে, খানিক সুবিধায় থাকে আগে ব্যাট করা দল- এটাই স্বাভাবিক। তবে উইকেট বাঁচিয়ে রেখে খেলতে পারলে পরে ব্যাট করা দলের সামনেও থাকে সমান সুযোগ। কিন্তু তা করতে পারেনি পাকিস্তান। 

দ্বিতীয় দফায় বৃষ্টিতে প্রায় ৪০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর, পাকিস্তানের সামনে নতুন লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪০ ওভারে ৩০২ রানের। খেলা বন্ধ হওয়ার আগে তাদের সংগ্রহ ছিল ৩৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান। ফলে শেষের ৩০ বলে তাদের বাকি থাকে আরো ১০২ রান। বৃষ্টি আইনের অদ্ভুত মারপ্যাচে পরে পাকিস্তান ইনিংসের ওভার কমেছে ১০টি। কিন্তু রান কমেছে মাত্র ৩৫।

এমন কঠিন সমীকরণ মেলানো সম্ভব ছিল না দুই স্পিনিং অলরাউন্ডার শাদাব খান ও ইমাদ ওয়াসিমের পক্ষে। তবু তারা নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করে সপ্তম উইকেটে মাত্র ৩৫ বলে যোগ করেন ৪৭ রান, দলকে পার করান দুইশ রানের কোটা, ব্যবধান কমান পরাজয়ের।

শেষপর্যন্ত নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১২ রান করতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ইমাদ ৩৯ বলে ৪৬ ও শাদাব ১৪ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন। বৃষ্টি আইনে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা