kalerkantho

শনিবার । ২০ জুলাই ২০১৯। ৫ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৬ জিলকদ ১৪৪০

রোমাঞ্চের লড়াইয়ে মেঘের ছায়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক    

১৬ জুন, ২০১৯ ০৯:৪২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রোমাঞ্চের লড়াইয়ে মেঘের ছায়া

চাইলে তো প্রতিটি দ্বৈরথের ওপরই রোমাঞ্চের চাঁদতিলক বসানো যায়। কিন্তু ক্রিকেটে ভারত-পাকিস্তানের মতো আগ্রহ-উত্তেজনা-উন্মাদনার সৌন্দর্য ছড়ায় আর কোন লড়াই? এটি যে শুধু ব্যাট-বলের টক্করে সীমিত থাকে না, ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ে বহু দূর। দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের রাজনৈতিক যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে ২২ গজ।

আজ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সে লড়াই। নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় সূচি। রাজনৈতিক কারণে ক্রিকেট মাঠে দুই দলের দেখা কম হয় বলে আকর্ষণ বেড়েছে আরো। অথচ কী আশ্চর্য, এটিকে আর দশটি ম্যাচের স্রোতে ভাসিয়ে দেওয়ার কী প্রাণান্তকর চেষ্টা ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির!

কাল ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আসেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের সিংহভাগই পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আলাদা গুরুত্ব নিয়ে। শুরুতেই কোহলি যখন এর সঙ্গে একমত হন না, তখন ধেয়ে আসে প্রশ্নের ঝাঁক। কিন্তু অনড় ভারত অধিনায়ককে নাড়ানো যায় না,  ‘প্রতিপক্ষ নিয়ে ততটা ভাবছি না। সে কারণে পাকিস্তানের কেউ আমাদের জন্য হুমকি না। কোনো এক ক্রিকেটারকে বাকি ১০ জনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমরা ভারতীয় ক্রিকেট দল হিসেবে মাঠে নামি এবং সামনে যে প্রতিপক্ষই আসুক, তাদের হারানোর চেষ্টা করি। যদি ভালো খেলি, তাহলে জিতব। খারাপ খেললে অন্যরা আমাদের হারিয়ে দিতে পারে। প্রতিপক্ষ দল কিংবা তাদের নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটার নিয়ে আমরা কখনোই আলাদা করে কিছু ভাবি না।’ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান হওয়ার পরও সেটি কি সম্ভব? একগুঁয়ের মতো বলে যান কোহলি, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বলে ভিন্ন কোনো আলোচনা আক্ষরিক অর্থেই করিনি আমরা। ড্রেসিংরুমের আবহ এতটুকু পাল্টায়নি। দেশের হয়ে খেলা প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গেই আবেগ জড়িয়ে থাকে। কোনো ম্যাচকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বা বেশি স্পেশাল বলে আমাদের কাছে মনে হয় না। জাতীয় দলের হয়ে খেলার দায়িত্বটাই এই যে, প্রতিটি ম্যাচই সমান গুরুত্ব দিয়ে খেলা।’

তবে দর্শক-সমর্থকরা যে সেভাবে ভাবছেন না, তা জানেন। তাতে নিজেদের করণীয় কিছু নেই বলে কোহলির দাবি, ‘দেখুন, দর্শকরা নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচকে কিভাবে নেবে—সেটি আমি বলে দিতে পারি না। নিজেরা যেন পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রতিটি ম্যাচ খেলতে পারি, সেটি বরং নিশ্চিত করতে পারি। কোনো ম্যাচ ঘিরেই বেশি আবেগী কিংবা বেশি রোমাঞ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু সমর্থকরাও আমাদের মতো পেশাদার হয়ে ম্যাচ দেখবে—এমন আশা করা ঠিক না।’

কিছুক্ষণ পর সংবাদ সম্মেলনে আসা পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থারের কাছে প্রথম প্রশ্নটিই ছিল এ প্রসঙ্গে। এতবার জিজ্ঞেস করা সত্ত্বেও যে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে আলাদা গুরুত্বারোপ করেননি কোহলি, তা নিয়ে। জবাবে পাকিস্তান কোচের মুখ থেকেও ভিন্ন কিছু বেরোয় না, ‘অন্য ম্যাচ জিতলে যত পয়েন্ট পাব—এ ম্যাচ জিতলেও সেই ২ পয়েন্টই পাব। অবশ্যই এ ম্যাচ ঘিরে উন্মাদনা রয়েছে; অনেক সময় ধরেই গণমাধ্যম তা তৈরি করেছে। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা বরং এ ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছি পুরোপুরি।’

ইদানীং দল দুটির দেখা হয় খুব মাঝেসাঝে। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বে ১২৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জেতে ভারত; ফাইনালে আবার প্রতিপক্ষকে ১৮০ রানে হারিয়ে ট্রফি জিতে নেয় পাকিস্তান। গত বছর এশিয়া কাপের দুই সাক্ষাতেই স্বচ্ছন্দ জয় ভারতের—৮ উইকেট ও ৯ উইকেটের ব্যবধানে। তাই বলে আজকের ম্যাচের আগে যে ফেভারিট তকমায় আয়েশি হয়ে আছে কোহলির দল, তা নয়। অধিনায়কের কথাতেই তা স্পষ্ট, ‘আমরা জানি যে, পাকিস্তান দলে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার আছে। আবার একই সঙ্গে এ-ও জানি, আমরা দল হিসেবে ভালো খেলতে পারলে খুবই ভালো খেলি। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে সেটি দেখিয়েছি। নিজেদের তাই কী করা উচিত, সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। প্রতিপক্ষ নিয়ে ততটা ভাবনা নেই। আমরা বরং নিজেদের শক্তির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি, দল হিসেবে ভালো খেললে পৃথিবীর যেকোনো দলকে আমরা হারাতে পারব।’

এ বিশ্বকাপ বিবেচনাতেও আজকের দ্বৈরথের গুরুত্ব অনেক। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে কিছুটা নির্ভার থাকা ভারতের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায়। অধারাবাহিক পাকিস্তান নিজেদের ‘সুনামের ধারাবাহিকতা’ ধরে রেখে চার খেলার মধ্যে হেরেছে দুটিতে; হারিয়েছে হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। আজকের জয় দুই দলের জন্যই তাই হতে পারে উজ্জীবনী সুধা। ২ পয়েন্টেই শুধু নয়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানোর আত্মবিশ্বাসের কারণেও।

কিন্তু সব আয়োজনে আক্ষরিক অর্থেই জল ঢেলে দিতে পারে বৃষ্টি। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশে যে মেঘের ছায়া! তবু আশায় আছেন সবাই। কোহলি-আর্থাররা যতই উন্মাদনা কমানোর চেষ্টা করুন না কেন, দ্বৈরথটা তো ভারত-পাকিস্তানের। সে রোমাঞ্চ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগের পূর্বশর্তে ম্যানচেস্টার আকাশের দিকেই তাই প্রথমে তাকিয়ে থাকবেন দর্শক-সমর্থকরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা