kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

কলাম শচীন টেন্ডুলকারের

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুন, ২০১৯ ০৯:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে না

ভারতের এই দলের টপ অর্ডারে শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিকে তিনটি স্তম্ভ বলা যায়। ছোট ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা থাকে ওপেনারদের। সেখানে ম্যানচেস্টারে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্নায়ুচাপের ম্যাচে থাকছে না ধাওয়ান। তাই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে কোহলি ও রোহিতের ভূমিকা। এই দুজনকে দ্রুত ফেরাতে পাকিস্তানের অস্ত্র মোহাম্মদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজ। পরিকল্পনা কাজে লাগাতে পারলে ভারতের ব্যাটিংয়ে ধস নামাতে মরিয়া থাকবে ওরা। তাই কোহলি বা রোহিতের একজনকে টেনে নিতে হবে ইনিংসটা। লক্ষ্য থাকতে হবে পুরো ৫০ ওভার খেলা। বড় রানের ইনিংস তৈরির মঞ্চ কোহলি আর রোহিতের ব্যাটে নির্ভর করছে। এই দুজনকে ঘিরেই পরিকল্পনা এগোবে বাকিদের।

ধাওয়ানকে হারানোটা বড় ক্ষতি। ২০০৯ সালে আমি আঙুলে ব্যথা নিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরটা খেলেছিলাম। প্রথম টেস্টে ক্যাচ ধরতে গিয়ে আঙুলে চোট পেলেও পুরো সিরিজটা খেলেছি। সামান্য কিছু সমস্যা নিয়ে কিভাবে খেলতে হয় সেটা খেলোয়াড়দের শেখা দরকার। আর ধাওয়ান তো যোদ্ধা। ও ঠিক ফিরে আসবে। বিশ্বকাপের গুরুত্ব কী, ভালোভাবে জানে ধাওয়ান।

মেনে নিচ্ছি পাকিস্তানের চেয়ে ভারত এখন অনেক শক্তিশালী। তবে ক্রিকেটে আগে থেকে কিছু বলা যায় না। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালেও ফেভারিট ছিল ভারত। তবে কোহলিদের হারিয়ে ফাইনালটা জিতেছে পাকিস্তান। ৬-০তে হারার পর শেষ ম্যাচে বাজিমাত পাকিস্তানের। ভারতীয় দলের তাই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হলে চলবে না। অবশ্যই আমরা আত্মবিশ্বাসী তবে অতিরিক্ত নই। আত্মবিশ্বাস কিটব্যাগে পুরে খেলতে যাও। মাঠে খেলতে হবে সেরা খেলাটা। কাগজ-কলমের অঙ্ক কাউকে জিতিয়ে দেবে না। কঠিন পরিস্থিতিতে ভালো করার বিশ্বাস থাকতে হবে। এই পর্যায়ে ভারত শতভাগ ভালো দল। গত কয়েক মাস ভালো খেলেই আমরা শীর্ষে, এটা ধরে রাখা চ্যালেঞ্জের।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোহাম্মদ আমিরের বোলিং দেখেছি। শুধু ৫টা উইকেটই নেয়নি আমির, বল হাতে মুগ্ধ করেছে রীতিমতো। দারুণ লাইন-লেংথ, নিখুঁত সুইং, সঙ্গে আগুনে গতি। ফিঞ্চকে ভীষণ সমস্যায় ফেলেছিল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালেও আমাদের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছিল ও। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বলব কোনোমতে আমিরের দশটা ওভার খেলে কাটিয়ে দেওয়ার পথে যেয়ো না। ইতিবাচক ব্যাটিং করো, তাহলেই ফল পাবে।

ইতিবাচক ব্যাটিং মানে সব বলে আক্রমণ নয়। আমির খুব ভালো পেসার। ওকে বুঝে খেলতে হবে। এর অর্থ এই নয় আমির ডট বল করে যাবে আর ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা নিজেদের বাঁচিয়ে খেলবে। ইতিবাচক মানসিকতাই আমিরকে সামলানোর ভালো উপায়। যেকোনো পেসারকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেললে ঘাড়ে চড়ার সাহস পায় না। কোনো রকম নতুন কিছু করতে যাওয়ার দরকার নেই। বরং সব ক্ষেত্রে আগ্রাসী মানসিকতার হতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা