kalerkantho

রবিবার। ১৬ জুন ২০১৯। ২ আষাঢ় ১৪২৬। ১২ শাওয়াল ১৪৪০

আফ্রিদির থাপ্পড় খেয়ে অপরাধ স্বীকার করেন আমির ; রাজ্জাকের বোমা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ জুন, ২০১৯ ১৭:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফ্রিদির থাপ্পড় খেয়ে অপরাধ স্বীকার করেন আমির ; রাজ্জাকের বোমা!

পুরনো বিতর্কের নতুনভাবে সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন শহিদ আফ্রিদি তার আত্মজীবনীতে। গতকাল বুধবার টনটনে মোহাম্মদ আমিরের ৫ উইকেট পাওয়ার দিনেই আবার উঠে এল সেই অস্বস্তিকর প্রসঙ্গ। পাকিস্তানের ক্রিকেটে ফিক্সিং নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন দেশটির সাবেক তারকা অল-রাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক। ২০১০ সালে পাকিস্তানের কলঙ্কিত সেই ইংল্যান্ড সিরিজের অনেক আগেই মোহাম্মদ আমির স্পট ফিক্সিংয়ে জড়ানোর কথা স্বীকার করেছিলেন। দাবি সাবেক পাকি অল-রাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাকের। 

পাকিস্তানের নিউজ চ্যানেলে তিনি বলেছেন, তৎকালীন অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদির থাপ্পর খেয়ে আমির স্পট ফিক্সিংয়ের কথা স্বীকার করে নেন। তার ভাষায়, 'আফ্রিদি আমায় ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলেছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আমি চড় মারার শব্দ পাই। এর পরেই আমির সত্যি কথা বলে দেয়।'

পাকিস্তান বোর্ডের সেই সময়ের প্রশাসকদেরও সমালোচনা করেন রাজ্জাক, 'আমার মনে হয় সেই সময় আইসিসির কাছে নিজেদের দক্ষতা দেখাতে না গিয়ে পিসিবির উচিত ছিল অভিযুক্ত তিন ক্রিকেটারের দিকে নজর দেওয়া। তাদের অভিযোগ অস্বীকার করা সত্ত্বেও দেশে ফেরত আনা। ওদের এক বছরের জন্য নির্বাসিত করাও উচিত ছিল। এ সব না করে শেষ পর্যন্ত পিসিবি বিশ্বের সামনে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।'

৩৯ বছর বয়সী রাজ্জাকের আরও দাবি, ইংল্যান্ডে কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার অনেক আগেই সালমান বাট ইচ্ছা করে ডট বল খেলছিলেন ম্যাচে। তিনি বলেন, 'আমি সব জানিয়েছিলাম আফ্রিদিকে। কিন্তু ও বলেছিল এসব আমার মনের ভুল। সব কিছু ঠিকই আছে। কিন্তু আমি যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (২০১০) একটা ম্যাচে সলমনের সঙ্গে ব্যাট করতে নামি, আমি নিশ্চিত ছিলাম দলকে ও ডুবিয়ে ছাড়বে।'

রাজ্জাক তখন সালমান বাটকে বলেন, সিঙ্গল নিয়ে স্ট্রাইক তাঁকে দিতে। কিন্তু তাঁর পরামর্শ মতো খেলেননি সালমান, 'ও যখন এই কৌশলে খেলতে অস্বীকার করল, আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। যখন বুঝতে পারলাম ও কিছু একটা করতে যাচ্ছে তখন কড়া করে বললাম স্ট্রাইক আমায় দিতে। তার পরেও প্রত্যেক ওভারে ও ইচ্ছে করে দুই-তিন বল খেলে আমাকে স্ট্রাইক দিচ্ছিল। আমি এসব দেখে হতাশ হয়ে পড়ি, চাপের মুখে আউটও হয়ে যাই।'

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ওই ফিক্সিংয়ের ঘটনায় সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির এবং মোহাম্মদ আসিফকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমে তাদের সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়। পরে ২০১১ সালের শুরুর দিকে দেওয়া হয় ৫ বছরের নির্বাসনের শাস্তি।  তিন ক্রিকেটারই শাস্তি কাটিয়ে ক্রিকেটে ফিরে এসেছেন। তবে এর মধ্যে শুধু আমিরকেই পরবর্তীতে পাকিস্তান দলে ডাকা হয়। চলতি বিশ্বকাপেও খেলছেন এই তারকা পেসার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা