kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৫ জুন ২০১৯। ১১ আষাঢ় ১৪২৬। ২২ শাওয়াল ১৪৪০

খেলা পরিত্যক্ত ইস্যুতে তোপের মুখে আইসিসি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ জুন, ২০১৯ ২০:৫১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খেলা পরিত্যক্ত ইস্যুতে তোপের মুখে আইসিসি

চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে নিজেদের মেলে ধরতে, প্রতিযোগিতায় সেরা হতে অংশগ্রহণকারী দলগুলো কি না করে? বিশ্বকাপকে ঘিরে কতো পরিকল্পনা, কতো আয়োজন! দেশের সেরা খেলোয়ারদের বাছাই করে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, প্রতিপক্ষ দলের চুলচেরা বিশ্লেষণের পাশাপাশি দীর্ঘসময় ধরে চলে নিজেদের ভিতকে শক্ত করার প্রক্রিয়া। 

যে বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর এতো এতো পরিকল্পনা, এতো আয়োজন, এতো মহাযজ্ঞ সব কিছুই মুহূর্তেই মাটি হয়ে যায় যদি কোনো খেলা আবহাওয়াজনিত কারণে মাঠে না গড়ায়। আবহাওয়া যে ‌'আনপ্রেডিক্টেবল' এটি অস্বীকার করারও কোনো কারণ নেই। আবহাওয়া তার নিজস্ব গতি অনুযায়ী চলবে এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু বৃষ্টি কিংবা আবহাওয়া খারাপজনিত কারণে যে দলগুলোর এতো বছরের পরিশ্রম বৃথা যাবে এটাও তো কাম্য নয়।

এই যেমন চলতি বিশ্বকাপ মাঝপথে এসেই ম্যাচ পরিত্যক্তের দিক থেকে বিশ্বরেকর্ড করে ফেললো। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দিয়ে এবছর মোট তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। পরিত্যক্ত হওয়ার আশঙ্কায় আছে আরো দুই থেকে তিনটি ম্যাচ। অথচ এর আগে এক আসরে ম্যাচ পরিত্যক্তের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিলো দু'টি করে ম্যাচ ( ১৯৯২ ও ২০০৩ বিশ্বকাপ আসরে বৃষ্টির কারণে সমান দু'টি করে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল)। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনাকে ভালো চোখে নেয়নি ক্রিকেটভক্তরা। এ নিয়ে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসিকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো ক্রিকেটভক্ত। আইসিসির সমালোচনা করার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানে নিজেদের যুক্তি ও পরামর্শ উপস্থাপন করেছেন তারা। 

এর আগে বৃষ্টিতে দু'টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও ততটা আলোচনা হয়নি যতটা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পর। এর শুরুটা অবশ্য করেছেন বাংলাদেশ দলের কোচ স্টিভ রোডস। 

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণার পর প্রেস মিটে এক সাংবাদিক বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,‌ ‘আমরা যদি চাঁদে মানুষ পাঠাতে পারি (হাসি), তাহলে কেন রিজার্ভ ডে রাখতে পারিনি? বিশেষ করে, এই টুর্নামেন্টটা যখন একটি লম্বা টুর্নামেন্ট।’

রোডসের এই মন্তব্য সামাজাকি যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো। আর তাতেই রোডসের এই মন্তব্যকে সমর্থন করতে থাকেন ক্রিকেট ভক্তরা। অবাক করার বিষয় হলো বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড, নেপাল, আফগানিস্তান এমনকি খোদ ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সমর্থকরা আইসিসিরি সমালোচনা করেন। 

ভারতের সিদ্ধান্ত দুঙ্গল নামের এক ক্রিকেট ভক্ত লিখেন,‌ ‘আমি তার (রোডসের) বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত। এটি (বিশ্বকাপ) খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট এবং এখানে সব বিশ্বসেরা দল অংশগ্রহণ করেছে। কিন্তু এর প্রতিদান হিসেবে বৃষ্টি না হওয়ার প্রার্থনা ছাড়া দলগুলো আর কি পাচ্ছে? আইসিসির উচিত ছিলো কিছুদিন রিজার্ভ ডে রাখার তাতে হয়তো কোনো কোনো দিন দু'টি ম্যাচ পরতো (এখনো প্রতি শনিবার দু'টি করে ম্যাচ হচ্ছে)। ... দুই দলের মধ্যে প্রকৃত খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ যেখানে যে দল ভালো করবে সেই জয় লাভ করবে।’

ভারতের কথা উল্লেখ করে আইসিসিকে খোঁচা দিয়ে ইংল্যান্ডের সাইমন ওয়েব মন্তব্য করেন, ‘ভারতকে ৯টি ম্যাচ খেলিয়ে আয় বাড়াতে চেয়েছিলো আইসিসি। সুতারাং এটাই তোমার প্রাপ্য।’

সাঈদ কাওসার লিখেন,‌‌ ‘বিশ্বকাপের জন্য এতো সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন সুইমিংপুল নির্ধারণ করার জন্য আইসিসিকে ধন্যবাদ।’

পাকিস্তানের ফারজান্দ আলী সাবরি লিখেন,‌ ‘হয় প্রতিটি ম্যাচ খেলার জন্য আইসিসিকে রিজার্ভ ডে রাখা উচিত ছিলো অথবা তাদের ইংল্যান্ডে এতো বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা উচিত ছিলো না।’

ভারতের জোগেশ কুমার লিখেন, ‘বিশ্বকাপ যেভাবে এগোচ্ছে তাতে ট্রফি দুই দলকে ভাগ করে দিতে হবে মনে হচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো এতো বড় আয়োজন এখন ঠাট্টায় পরিণত হয়েছে।’

ভারতের সন্দ্রীপ নেহাল লিখেন, ‘সত্যি, এর কারণে পরবর্তী রাউন্ডে যেতে শ্রীলঙ্কার চেয়ে বাংলাদেশকে বেশি বেগ পেতে হবে।’

ক্রিকেট বোদ্ধা ও সমর্থকদের এমন সমলোচনা ও প্রতিবাদের কারণেই কিনা বাংলাদশে শ্রীলঙ্কা পরিত্যক্তের পরে রিজার্ভ ডে না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছে আইসিসি।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডের ব্যবস্থা করতে হলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য অনেক বেড়ে যাবে। তখন পুরো টুর্নামেন্টটা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা একরকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। পিচ প্রস্তুত করা, দলগুলোর যাত্রার সময়সূচি ও বিশ্রামের রুটিন, থাকার জায়গা, ভেন্যু ঠিক দিনে পাওয়া যাবে কি না, স্বেচ্ছাসেবক ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের প্রাপ্যতা ও উপস্থিতি, সরাসরি সম্প্রচারে সমস্যা হবে কি না—এসব কিছুর ওপর প্রভাব পড়বে তখন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, অনেক দর্শকই আছেন, যারা অনেকক্ষণ যাত্রা করে খেলা দেখতে আসেন, তাদের ক্ষেত্রেও সমস্যা হতে পারে। তার ওপর যেদিন রিজার্ভ ডে রাখা হবে, সেদিনও যে বৃষ্টি হবে না, তারও তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

তবে আইসিসির নির্বাহী প্রধানের এই যুক্তি প্রত্যাখান করে পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করেছেন অনেকে। পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্টের মিশিগানে পড়তে যাওয়া ওয়াসিফ ইলাহী শামসি লিখেন, '(বৃষ্টির কারণে) অসমাপ্ত ও পরিত্যক্ত ম্যাচগুলোর জন্য সেমিফাইনালের আগে তিনদিন রেখে দিন যাতে এই সময়ে (পরিত্যক্ত ও অসমাপ্ত) ম্যাচগুলো আবার খেলানো হবে। সহজ সমাধান।’ 

মন্তব্য