kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

পানেসরের আত্মজীবনীতে ইংলিশ ক্রিকেটারদের কুকীর্তি ফাঁস!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ মে, ২০১৯ ২১:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানেসরের আত্মজীবনীতে ইংলিশ ক্রিকেটারদের কুকীর্তি ফাঁস!

মন্টি পানেসরের কথা ক্রিকেটপ্রেমীদের ভুলে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। ইংল্যান্ডের এই সাবেক বাঁহাতি স্পিনার এবার ক্রিকেটবিশ্বে নতুন বিস্ফোরণ ঘটালেন। বিশ্বকাপে প্রথম বল পড়ার আগে তিনি জানালেন, ইংল্যান্ডের বোলাররা সচরাচর রিভার্স সুইং করার জন্য লজেন্স ব্যবহার করেন। সদ্য প্রকাশিত হয়েছে ৩৭ বছর বয়সী স্পিনারের আত্মজীবনী 'দ্য ফুল মন্টি'। সেখানেই এই বিস্ফোরক কাহিনি ফাঁস করেছেন তিনি। বলেছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে কী কী কৌশলে তিনি বল টেম্পারিং করেছেন। আর এই বিষয়টা পুরো দলই জানত।

পানেসর বলেছেন, 'আমি যখন ইংল্যান্ড দলে আসি, সেই সময়ে আমার কাজই ছিল সিমারদের জন্য বল তৈরি করা। ওই সময়ে বোলাররা আমাকে এসে বলত, একটি শর্তেই তুমি আমাদের সঙ্গে বোলিং করতে পার। তুমি কোনো অবস্থাতেই বলের চকচকে দিকটা নষ্ট হতে দেবে না। বিশেষ করে জিমি অ্যান্ডাসরন আমাকে নির্দেশ দিত, যতটা সম্ভব বলকে শুকনো রাখার চেষ্টা করবে।'

বল-বিকৃতি কেলেঙ্কারিতে এক বছরের নির্বাসন কাটিয়ে সদ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নার। যা নিয়ে ক্রিকেটমহলে এখনও আলোচনা অব্যাহত আছে। ইংল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েও দর্শকদের বিদ্রুপ শুনতে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার এই দুই বড় তারকাকে। তারও আগে ২০১৭ অ্যাশেজ সিরিজে মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্টে জিমি অ্যান্ডারসনের বিরুদ্ধে বল বিকৃতির অভিযোগ উঠেছিল। যদিও ইংল্যান্ড পেসার সেই অভিযোগকে 'হাস্যকর' বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

আগের বছরেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচে বল-বিকৃতি করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসি। সব মিলিয়ে এমনই এক উত্তাল মুহূর্তে পানেসর ইংল্যান্ড ক্রিকেটের এমনই অন্ধকার দিককে যে ভাবে লেখার আকারে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছেন, যা নিয়ে আবারও নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আত্মজীবনীতে ২০০৯ এবং ২০১১ অ্যাশেজজয়ী ইংল্যান্ড দলের সদস্য এই বাঁ হাতি স্পিনার জানিয়েছেন, ক্রিকেটীয় স্পিরিটের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই বল-বিকৃতি ঘটাতে প্যান্টের 'জিপার'ও ব্যবহার করেছেন।

পানেসর লিখেছেন, 'আমরা বুঝেছিলাম, লজেন্স খাওয়ার পরে মুখের লালা এবং সানক্রিম ঠিক মতো ব্যবহার করলে ভালো রিভার্স সুইং পাওয়া যায়। আমিও তো অনেক সময়ে প্যান্টের জিপারে বল ঘষতাম। তাতে বলের আকার পাল্টে যেত। উপকার পেত বোলাররা। হতে পারে এটা ক্রিকেটীয় আদর্শের পরিপন্থী। তবে নিয়মে তো এটাও বলা রয়েছে যে, বলের পালিশ ঠিক রাখতে পোশাককে ব্যবহার করা যেতে পারে। আমি সেটাই কাজে লাগিয়েছি।'

সেই বিতর্কিত অধ্যায়ের পাশাপাশি মানসিক রোগ স্কিৎজোফ্রেনিয়া থেকে নিজের সুস্থ হয়ে ওঠার খবরও দিয়েছেন পানেসর, '২০১৩ সালের পর থেকে আমি ওই অদ্ভুত মানসিক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ি। সন্দেহ করতাম সকলকে। যা আমার পরিবারের সদস্যদের উপরেও ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলেছিল। সেই সময়ে পিটার গিলমোর বলে এক ব্যক্তি বলেন, আমি খুব সম্ভবত স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছি। খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তখন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলি আমাকে খুব সাহায্য করেছিলেন। আমাকে মনোবিদের কাছেও নিয়ে যান। এখন কিন্তু আমি সম্পূর্ণ সুস্থ।'

মন্তব্য