kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি হতে পারেন যারা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ মে, ২০১৯ ১৬:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি হতে পারেন যারা

তামিম-সৌম্যকে নিয়েই স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ফাইল ছবি

আর সপ্তাহখানের কম সময় পর শুরু হয়ে যাবে বিশ্বকাপ। প্রতিটি দলই নিজস্ব কৌশল সাজিয়ে তৈরি হয়ে গেছে ব্যাট-বলের মহারণের জন্য। ইংল্যান্ডের পরিবেশে প্রতিটা দলই প্রচুর রান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় দলের মূল শক্তি ব্যাটিং হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে ওপেনারদের উপরে অনেকটাই দায়িত্ব বর্তাবে দলের বড় স্কোর গড়ার ক্ষেত্রে। দেখে নেওয়া যাক কোন দলের ওপেনিং শক্তি কেমন।

বাংলাদেশ : বাংলাদেশের ওপেনিং জুটির সমস্যা দীর্ঘদিনের। তবে সম্প্রতি এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার জোড়ালো সম্ভাবনা দেখা গেছে। দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল তো রয়েইছেন, তবে তার সঙ্গে লিটন দাস বা সৌম্য সরকারের মধ্যে যে কোনো একজন থাকতে পারেন। তামিম-সৌম্যর গড় ৪৪.৬১, অন্যদিকে তামিম-লিটন গড় ২৮। তাই সৌম্যই এগিয়ে থাকছেন তামিমের সঙ্গী হওয়ার দৌঁড়ে। সাতক্ষীরার এই তরুণের সুপার স্টাইলিস্ট আর বিধ্বংসী ব্যাটিং যে কোনো বোলারের জন্য আতঙ্কের।

ভারত : ভারতের ক্ষেত্রে ওপেনিং জুটিকেই সেরা বলা হচ্ছে বিশ্বকাপে। শিখর ধাওয়ান এবং রোহিত শর্মার এই জুটিকে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে সেরা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ১০৩ ইনিংসে রোহিত-ধাওয়ান ৪৫৮৬ রান করেছেন। গড়ও চমৎকার, ৪৫। পার্টনারশিপে সর্বোচ্চ ২১০ রান করেছেন তারা। বিশ্বের যেকোনো বোলিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিতে পারেন এই দুজন।

শ্রীলঙ্কা : শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে ওপেন করার দায়িত্ব থাকতে পারে ডিমুথ করুণারত্নের উপরে। যদিও ১ মার্চ ২০১৫ সালে শেষবারের মতো একদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। নয়তো ১৯৯৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ক্ষেত্রে অভিষ্কা ফার্নান্দো বা লাহিরু থিরিমানে ওপেনের দায়িত্ব নিতে পারেন। দুর্বলতম ওপেনিং বললে ভুল হবে না।

আফগানিস্তান : আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে ওপেনিং জুটি সেই অর্থে ঠিক নেই। মহম্মদ শাহজাদ ওপেন করতে পারেন। আবার। শাহজাদের সঙ্গে নামতে পারেন হজরতুল্লা জাজাই বা নুর আলি জাদরান। শাহজাদ ও জাদরানের ওপেনিং গড় ৩৩।

নিউজিল্যান্ড : নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রে মার্টিন গাপটিল ও কলিন মুনরো জুটিরই ওপেন করার সম্ভাবনা। দুজনের গড় ২৫, সেঞ্চুরিও নেই ওপেনিংয়ে। তাই হেনরি নিকলসকে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে মুনরোর বদলে।

উইন্ডিজ : ক্রিস গেইল এবং এভিন লুইস ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনিং জুটি। বিশ্বের ভয়ংকরতম ওপেনিং জুটি হলেও গেইল-লুইস কিন্তু তেমন সফল নন। সব মিলিয়ে মাত্র ৩৮৩ রান এসেছে তাদের জুটিতে। গড় মাত্র ৩০। যদিও নিজেদের দিনে যে কোনো বোলিং আক্রমণ দুমড়ে মুচড়ে দিতে পারেন এই দুজন। তাই এদের বিকল্প এখনও ভাবেনি দল।

পাকিস্তান : ফখর জামান, ইমাম-উল-হক পাকিস্তানের ওপেনিং জুটির মধ্যে নিয়মিত। ফখর আগ্রাসী খেললে ইমাম ইনিংস গড়ার কাজ করেন। গড় ৫৮। ২৪টি ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরি, পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি, ১২৬৭ রান, গড় ৫৮-এটাই তাদের ওপেনিং পরিসংখ্যান। ইংল্যান্ডে সম্প্রতি চমৎকার খেলেছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা : দক্ষিণ আফ্রিকার হাসিম আমলা ও কুইন্টন ডি কক সবচেয়ে বেশি সফল ওপেনিং জুটি। ককের আগ্রাসী ভঙ্গি ও হাসিমের ইনিংস গড়ার ক্ষমতা দুই’ই রয়েছে। ৯ বছর একসঙ্গে খেলছেন, ৪১১৬ রান, ১০টি সেঞ্চুরি, ১৫টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে দখলে।

অস্ট্রেলিয়া : ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ অস্ট্রেলিয়ার বিস্ফোরক জুটি। ২০১৪ থেকে এক সঙ্গে খেলছেন। ২১২৬ রান করেছেন দুজনে। ৪৪ গড়। পাঁচটি সেঞ্চুরি, দশটি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে। সর্বোচ্চ রান এই জুটির ক্ষেত্রে ২৩১।

ইংল্যান্ড : ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে মরিয়া ইংল্যান্ড। জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টোই সেরা ওপেনিং জুটি দলের ক্ষেত্রে। ৫৭ গড় রয়েছে তাদের। মোট রান ১৭৬২। ৩০টি ইনিংসে, সাতটি সেঞ্চুরি, আটটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। মাত্র ৩০ ইনিংসে ১৫ বারেরও বেশি ৫০ বা তার বেশি রান করেছে এই জুটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা