kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

অবসরের কারণ জানিয়ে বোমা ফাটালেন এবি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মে, ২০১৯ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবসরের কারণ জানিয়ে বোমা ফাটালেন এবি!

এবারের বিশ্বকাপ মিস করবে এবিডি ভিলিয়ার্সকে। গত বছর মে মাসে হুট করেই অবসর ঘোষণা করেন তিনি। এই খবর সামনে আসতেই কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্ব। সবার প্রশ্ন ছিল, বিশ্বকাপের ঠিক এক বছর আগে কেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন এবি? তখনও তিনি ক্যারিয়ারের তুঙ্গেই ছিলেন। ১১৪ টেস্ট, ২২৮টি একদিনের ম্যাচ ও ৭৮টি টি২০ আন্তর্জাতিক খেলা বিশ্ব ক্রিকেটের তারকার এই সিদ্ধান্তের কারণ সম্পর্কে তেমনভাবে কখনই জানা যায়নি। তবে এবার মুখ খুললেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান।

জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও এবি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা চালিয়ে গেছেন। সেসব লিগে নিজের সেরা ফর্মই দেখিয়েছেন। যা দেখে অবসরের কারণ সম্পর্কে রসহ্য আরও জট পাকিয়েছে।  শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের কয়েকদিন আগেই নিজের অবসরের কারণ খোলসা করেছেন এবি। 'ব্রেকফাস্ট উইথ চ্যাম্পিয়ন্স' অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলেন। কিন্তু একসময় তিনি বুঝতে পারেন, জাতীয় দলে ক্রমশ তাকে অবহেলা করা হচ্ছে।

ভিলিয়ার্স বলেন, 'আমি বিশ্বকাপ খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম, কিন্তু সেটা না করে আমি অবসর নিয়েছি। পরিস্থিতিটা খুবই সংবেদনশীল ছিল। গত তিন বছরে আমার গায়ে তকমা লেগে গিয়েছিল যে, কখনও আমাকে দলে নেওয়া হবে, কখনও না। আমি দেশে ফিরেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলাম। সেটাও একটা কারণ। এরপর আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে খুব একটা কষ্ট হয়নি।'

এরপর মজা করে এবি বলেন, 'আমি কিন্তু আবার বিশ্বকাপ খেলতে পারি, যদি আবার সেই দল থেকে বাদ দেওয়ার নাটক শুরু না হয়। আমার মনে হচ্ছিল আমাকে পাশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আমি কখনও দলের বাইরে বেরিয়ে নিজের কথা ভাবিনি। কিন্তু আমি একটা সময় নিজেকে এমন একটা জায়গায় আবিস্কার করি, যেখানে দাঁড়িয়ে আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। যা দেখে মনে হতেই পারে আমি শুধু নিজের কথাই ভেবেছি।'

অবসরের কারণ হিসেবে সেই সময় অবশ্য তিনি প্রাথমিকভাবে পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার কথাই বলেছিলেন। সঙ্গে এটাও জানিয়েছিলেন আরও গভীর কোনও কারণ রয়েছে যা সময় এলে তিনি জানাবেন, 'আমার সরে দাঁড়ানোর পিছনে অনেকগুলো কারণ ছিল। পরিবার অবশ্যই একটা বড় অংশ। আমি ১৫ বছর ক্রিকেট খেলেছি এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। সব সময় ব্যস্ত থাকা, চাপের মধ্যে থাকা, সারাক্ষণ মানসিক গেম খেলা, সারাক্ষণ একজন মানুষ হিসেবে সংশয়ে থাকা আমাকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল। আরও কিছু গভীর বিষয়ও ছিল যা আমি ৫০ বছর বয়সে বলব।'

২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল এবি ডি ভিলিয়ার্সের। টেস্টে ৮৭৬৫, একদিনের ম্যাচে ৯৫৭৭ ও টি-টোয়েন্টিতে ১৬৭২ রান করেছেন তিনি। ৫০ এর উপর গড় টেস্ট এবং ওয়ানডেতে। সর্বশেষ গত বছরের মার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে খেলেছিলেন। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ওই সিরিজটি ৩-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ওই সিরিজেই বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জড়ান অস্ট্রেলিয়ার স্মিথ-ওয়ার্নার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা