kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

নিজেকে 'সমকামী' ঘোষণা করলেন ভারতের তারকা খেলোয়াড়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মে, ২০১৯ ১৫:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজেকে 'সমকামী' ঘোষণা করলেন ভারতের তারকা খেলোয়াড়

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, সমকামিতা অস্বাভাবিক কোনো ব্যপার নয়। গত বছর ভারতের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের ফলে সমকামীরা ফিরে পেয়েছে তাদের অধিকার। তার ধারাবাহিকতায় ১০০ মিটার দৌড়ে রেকর্ডধারী, ২০১৮ এশিয়ান গেমসে দুটি রৌপ্য পদক বিজয়িনী দ্যুতি চাঁদ এবার নিজের সমকামী সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেছেন। ভারতের দ্রুততম এই নারী এবার শিরোনামে এলেন দৌড়ের জন্য নয়, আদর্শ জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার জন্য।

দ্য সানডে এক্সপ্রেসকে দ্যুতি জানিয়েছেন, নিজের জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন তিনি। তবে সে কোনো ছেলে নয়; তার মতোই একজন মেয়ে। ওই মেয়ে ওড়িশার জজপুর জেলায় তার গ্রাম চক গোপালপুরের বাসিন্দা, যার সঙ্গে তার বেশ কয়েক বছর ধরে পরিচয়। ২৩ বছরের দ্যুতিই ভারতীয় ক্রীড়াজগতের প্রথম তারকা, যিনি নিজের সমকামী সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনলেন। অনাবশ্যক আগ্রহ এড়াতে তার সঙ্গিনীর নাম এই মুহূর্তে জানাতে ইচ্ছুক নন তিনি।

বর্তমানে টোকিও অলিম্পিক এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত দ্যুতি, কাজেই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এক্ষুনি ভাবার অবসর নেই, 'আমি আমার আদর্শ জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছি। আমার বিশ্বাস, নিজের পছন্দের মানুষের সঙ্গে থাকার স্বাধীনতা সকলের থাকা উচিত। আমি সবসময়ই সমকামী সম্পর্ককে সমর্থন করি। এটি যার যার নিজের পছন্দের ব্যাপার। এই মুহূর্তে আমি ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ এবং টোকিও অলিম্পিকের ওপর ফোকাস করছি, কিন্তু ভবিষ্যতে ওর সঙ্গেই ঘর বাঁধতে চাইব।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি বরাবরই বিশ্বাস করে এসেছি যে সবার ভালোবাসার স্বাধীনতা থাকা উচিত। ভালোবাসার চেয়ে বড় আবেগ হয় না, এবং তাকে অস্বীকার করা উচিত নয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও পুরোনো আইন খণ্ডন করেছে। আমি কার সঙ্গে থাকতে চাই, তার ভিত্তিতে কারোর অধিকার নেই আমি কেমন অ্যাথল্যাট, সেটা বিচার করা। এটি একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, যার সম্মান করা উচিত। আমি এখনও আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক মিটে মেডেল জেতার।'

উল্লেখ্য, ভারতে এলজিবিটি বিয়ের আইনি স্বীকৃতি না থাকলেও, প্রতীকী সমকামী বিয়েতে কোনো আইনি বাধা নেই। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এক রায়ে ব্রিটিশ আমলের ১৫৮ বছরের পুরোনো আইন বাতিল হয়ে যায়। ওই আইনের আওতায় দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ব্যক্তিগত সমলিঙ্গের সম্পর্ককে অপরাধ বলে গণ্য করা হতো, যার শাস্তি ছিল কারাদণ্ড।

দ্যুতি বলেন, তার স্বপ্ন ছিল একজন আদর্শ জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া। 'আমি এমন কাউকে চেয়েছিলাম, যে আমাকে আমার পেশা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে। গত দশ বছর ধরে দৌড়চ্ছি আমি, হয়তো আরও পাঁচ থেকে সাত বছর দৌড়ব। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সারা পৃথিবী ঘুরতে হয় আমাকে। কাজটা সহজ নয়, আমারও ব্যক্তিগতভাবে কারোর সমর্থন প্রয়োজন।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা