kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

শুক্রবারের 'লাকি সেভেন' ফাইনাল বনাম আগের ৬ ফাইনাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মে, ২০১৯ ১৯:৩২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শুক্রবারের 'লাকি সেভেন' ফাইনাল বনাম আগের ৬ ফাইনাল

ছবি : এএফপি

ক্রমেই সত্যিকারের জায়ান্ট দলে পরিণত হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। টাইগাররা ইতোপূর্বে কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। এ সময় তারা হোম এবং অ্যাওয়ে সিরিজে বিশ্বসেরা দলকে পরাজিতও করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত জয় করতে পারেনি তিন বা চার দলের অংশগ্রহনে কোন সিরিজের শিরোপা। এ পর্যন্ত তারা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনাল খেলেছে ৬বার। কিন্তু ফাইনাল খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল; শিরোপা আসেনি।

তবে এবার আয়ারল্যান্ড সফরে ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপ পর্বে বেশ শক্তিশালী পারফর্মেন্স দেখাচ্ছে টাইগাররা। সপ্তমবারের মতো এমন টুর্নামেন্টের ফাইনালে পৌঁছেছে তারা। আগামীকাল ডাবলিনে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মোকাবেলা করবে মাশরাফি বাহিনী। এর আগে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। এই প্রথম ত্রিদেশীয় ইভেন্টের ফাইনালে ক্যারিবীয়দের মোকাবেলা করতে যাচ্ছে টাইগাররা। এই ম্যাচে কি বাংলাদেশ জয়লাভের মাধ্যমে দুর্ভ্যাগ্য দূর করতে পারবে?

ত্রিদেশীয় ওডিআই টুর্নামেন্ট, ১৬ জানুয়ারি ২০০৯ ঢাকা (শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটে হার) : ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার কাছে ২ উইকেটের হৃদয়বিদারক ওই হারটি দিয়েই শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের পরাজয়ের ধারা। এরপর থেকে ওই হারের গন্ডিতেই ঘুরপাক খেতে হয়েছে টাইগার দলকে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওই সিরিজে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা ছাড়া বাকী দল হিসেবে অংশ নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। লো স্কোরিং ম্যাচে টাইগার দলের ১৫২ রান সংগ্রহ করা স্বাগতিক দলের হয়ে সর্বাধিক ৪৩ রান করেছিলেন রকিবুল হাসান। কুমার সাঙ্গাকারা ৫৯ রান করেন। এরপর পারভেজ মাহরুফের অপরাজিত ৩৮ রান এবং মুত্তিয়া মুরালিধারনের ১৬ বলে হার না মানা ৩৩ রানে ভর করে টাইগারদের জয় ছিনিয়ে নেয় সফরকারী শ্রীলঙ্কা।

এশিয়া কাপ, ২২ মার্চ ২০১২ ঢাকা (পাকিস্তানের কাছে ২ রানে হার) : এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে জয়ের আভাস দিচ্ছিল। কিন্তু এই দফায় পাকিস্তানের কাছে তারা হার মানতে বাধ্য হয় দুই রানে। সাকিব আল হাসানকের দেখা গেছে শিশুদের মত কাঁদতে। ম্যাচে জয়ের জন্য বাংলাদেশকে ২৩৫ রানের টার্গেট ছুড়ে দেয় পাকিস্তান। তামিমে ৬০ ও সাকিবের ৬৮ রানে লক্ষ্যকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে বাংলাদেশ। শেষ ওভারে এসে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান। ১৭ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন নির্ভরযোগ্য ব্যাাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাত্র ২ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপ, ৬ মার্চ ২০১৬ ঢাকা (ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হার) : এই ফাইনাল ম্যাচটি ছিল একপেশে। প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে উঠে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসরকে সামনে রেখে এশিয়া কাপের ওই টুর্নামেন্টটিকে ৫০ ওভারের পরিবর্তে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আনা হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ১২০ রান সংগ্রহ করে। যা ভারতের বিশ্বকাঁপানো লাইনআপের সামনে ছিল একেবারেই অপ্রতুল। মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৩.৫ ওভারে লক্ষ্যে পৌছে যায় ভারত।

ত্রিদেশীয় সিরিজ, ২৭ জানুয়ারি ২০১৮ ঢাকা (শ্রীলঙ্কার কাছে ৭৯ রানে হার) : এই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টেও অংশ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। ওই আসরের ফাইনালেও শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। আসরে ফেভারিটের তকমা ছিল স্বাগতিক বাংলাদেশের গায়ে। সফরকারী দলটিকে ২২১ রানে আটকে দিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে বাংলাদেশ। সবাই আশা করেছিল এই দফায় জয় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু তাদের হতাশ করে ৪১.১ ওভারেই ১৪২ রানে অল আউট হয়ে যায় টাইগাররা।

নিদাহাস ট্রফি টি-টোয়েন্টি ফাইনাল, ১৮ মার্চ ২০১৮, কলোম্বো (ভারতের কাছে ৪ উইকেটে হার) : এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য আরো একটি হৃদয় ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা। যেখানে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছিল ভারত। ম্যাচটি জয়ের মূল নায়ক ছিলেন দিনেশ কার্তিক। তার ৮ বলে ২৯ রানের ইনিংসটিই মুলত ভারতীয়দের জয়ে মুল ভুমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে ১৬৬ রান। শেষ বলে জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ছিল ৫ রান। কিন্তু বলটি উড়িয়ে সীমানা ছাড়া করে জয় ছিনিয়ে নেন দিনেশ।

এশিয়া কাপ ফাইনাল, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ দুবাই (ভারতের কাছে ৩ উইকেটে পরাজয়) : এটি ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের দ্বিতীয় ফাইনাল জয়। যে ম্যাচে পরাজিত হয়ে ৬টি আসর থেকে শিরোপা বঞ্চিত হয় টাইগাররা। ওই টুর্নামেন্টে ভারত ছাড়া বাকী সবগুলো দলকেই হারিয়েছে বাংলাদেশ। দলের মূল খেলোয়াড় সাকিব আল হাসানকে বাইরে রেখেই আসরে অংশ নিয়েছিল টাইগাররা। তার আঙ্গুলে তখন ইনজুরি ছিল। আসরের মাঝপথে ইনজুরিতে পড়েন আরেক গুরুত্বপূর্ণ তারকা তামিম ইকবাল। যে কারণে মাঝপথে দেশে ফিরে আসতে হয় তাকেও।

ফাইনাল ওই ম্যাচে লিটন দাসের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিংয়ে দারুন এক সুচনা করে টাইগাররা। ১২১ বলে ১১৭ রান সংগ্রহ করেন লিটন। তারপরও দলের বাকী ব্যাটসম্যানদের ব্যার্থতায় ৪৮.৩ ওভারে ২২২ রানে অল আউট হয়ে যায় টাইগাররা। জবাবে ভারতকেও ধুঁকতে হয়েছে টাইগার বোলারদের সামনে। রোহিত শর্মার ৪৮ রানের সংগ্রহই ছিল দলের সর্বাধিক। হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি কেউ। তবে শেষ পর্যন্ত ঠিকই জয়ের বন্দরে পৌছে যায় ভারত। শেষ বলে কেদার যাদবের বাউন্ডারিতে জয় নিশ্চিত হয়ে ভারতের।

মন্তব্য