kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

বউয়ের কাছে লুকিয়ে বাংলাদেশের কোচ হন জেমি ডে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ২১:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বউয়ের কাছে লুকিয়ে বাংলাদেশের কোচ হন জেমি ডে

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ জেমি ডে। ফাইল ছবি

খেলোয়াড়ী জীবনে আর্সেনালে খেলতেন। তবে কখনই মূল দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাননি। ২০০৯ সালে শুরু করেন কোচিং ক্যারিয়ার। ওয়েলিং ইউনাইটেড দিয়ে শুরু করে সর্বশেষ ইংল্যান্ডের পঞ্চম সারির লিগের দল এএফসি ব্যারোর সহকারী কোচ ছিলেন। এরপরেই প্রস্তাব আসে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হওয়ার। জেমি ডে সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেন সেই প্রস্তাব; তবে বউকে কিছু জানাননি। গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন এই ব্রিটিশ কোচ।

কেন্ট অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে জেমি ডে বলেছেন, 'আমার এক অস্ট্রেলিয়ান বন্ধু কাম এজেন্ট একদিন আমাকে জানাল, বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের একটি চাকরি আছে। তুমি কি এই চাকরিটা করতে চাও? আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে জানালাম, 'হ্যাঁ অবশ্যই করব'। আমি এই সুযোগটা পেয়ে খুবই খুশি হয়েছিলাম। একইসঙ্গে পরিবারকে কীভাবে জানাব সেটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তাও ছিল।'

'এটা আমার জন্য দারুণ একটা সুযোগ ছিল। একটি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আমি অনেকদিন ধরেই অপেক্ষায় ছিলাম। তবে এটা খুবই কঠিন ছিল। একটা জাতীয় দলকে ম্যানেজ করা আর ইংল্যান্ডের নিচু সারির একটি দলকে কোচিং করানোর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তারপরেও এই ঝুঁকিটা নিয়ে নেই। কারণ চাকরিটা পেয়ে আমি খুশি ছিলাম। তবে আমি আমার স্ত্রী এবং পরিবারকে এটা বলতে পারিনি যে, কী ঘটতে যাচ্ছে। কারণ বললে সে রাজী হতো কিনা সেটাও একটা বড় চিন্তার ব্যাপার ছিল।'

কেন স্ত্রীকে না বলে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সে বিষয়ে জেমি ডে বলেন, 'আমাদের চারটি সন্তান আছে। অনেক দূরের একটা দেশে কোচিং করানোর সুবাদে ৬ থেকে ৮ মাস টানা আমাকে স্ত্রী-সন্তানদের ছেড়ে থাকতে হয়েছে এবং হচ্ছে। যা খুবই কঠিন ছিল আমার জন্য। তাকে (স্ত্রী) যখন ধীরে ধীরে বিষয়টা বলেছিলাম, তখন সে আমাকে দুশ্চিন্তা করতে মানা করেছিল। এরপর থেকে সংসার এবং সন্তানের দায়িত্ব একাই খুব সুন্দরভাবে পালন করে যাচ্ছে সে। এক্ষেত্রে তার তুলনা হয় না।'

বাংলাদেশে প্রায় এক বছর কাটিয়ে দিয়েছেন জেমি ডে। তার অধীনে র‍্যাংকিংয়ের তলানীতে থাকা বাংলাদেশ দলের উন্নতি হচ্ছে। নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা সামনে আনছেন তিনি। সব মিলিয়ে চাকরি বেশ উপভোগই করছেন জেমি ডে, 'এটা একটি অসাধারণ চাকরি। যখন আপনি জাতীয় দল নিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাবেন, অন্যান্য জাতীয় দলের ম্যানেজারদের সঙ্গে পরিচিত হবেন; এটা খুব দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। তবে কাজের ফাঁকে যখন হোটেলে বসে প্ল্যানিং করতে হয়; ওই সময়টা খুব বিরক্তিকর।'

মন্তব্য