kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

লিটন-সৌম্যকে নিয়ে তামিম ইকবালের ভবিষ্যদ্বাণী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লিটন-সৌম্যকে নিয়ে তামিম ইকবালের ভবিষ্যদ্বাণী

গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশের ওপেনিং পজিশনের একপ্রান্ত আগলে রয়েছেন তামিম ইকবাল। দেশের প্রায় সব রেকর্ড তার দখলে। অথচ এই তামিম ইকবালকে নিয়েই একসময় কত সমালোচনা হতো। গত বিশ্বকাপেই তো তাকে দলে নেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেকেই। আর এখন তামিমকে ছাড়া বাংলাদেশ দল কল্পনাও করা যায় না। অনেকটা এক রকম ঘটনা ঘটছে সময়ের দুই তরুণ তারকা লিটন দাস আর সৌম্য সরকারের ক্ষেত্রে। দুজনের সামর্থ নিয়ে সন্দেহ নেই; কিন্তু ভুগছেন ধারাবাহিকতার অভাবে। দেশসেরা ওপেনার তাই বললেন, লিটন-সৌম্যে এবার বিশ্বকে দেখিয়ে দিক তাদের সামর্থ্য।

গতকাল মঙ্গলবার দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে 'লিস্ট এ' ক্রিকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য সরকার, সেটাও আবার অপরাজিত। সৌম্যর এই ইনিংস শুধু তাকেই নয়, অনুপ্রাণিত করেছে দেশের সকল ক্রিকেটারদের। আজ মিরপুরে তামিম বললেন, 'এটা অনেক বড় অর্জন। যদিও সামনে আমরা খেলব একেবারেই ভিন্ন কন্ডিশনে, ভিন্ন বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে। তবে রান করাটা সব সময়ই ইতিবাচক। এটা আত্মবিশ্বাস জোগায়। সে কোথায় রান করেছে এটা ব্যাপার না, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে সে রান করেছে। ও যদি শেষ দুই ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরির জায়গায় ১০-৫ রান করে সফরে যেত, ওর মাথায় একটু হলেও চাপ থাকত। যখন আপনি রান করবেন, তখন বুঝবেন কীভাবে রান করতে হয়। যখন কারও খারাপ সময় যায়, তখন সে ওটা ভুলে যায় কীভাবে রান করতে হয়। এটা ওর জন্য ভালো হয়েছে।'

আগেই বলা হয়েছে, একযুগ ওপেনিং পজিশনের একপ্রান্ত আগলে রেখেছেন তামিম। তবে এই এক যুগ ধরেই স্থায়ী কোনো সঙ্গী পাচ্ছেন না তিনি। গত কয়েক বছর ইমরুল কায়েস, সৌম্য সরকার, লিটন দাসরা ঘুরেফিরে তার সঙ্গে ওপেন করেছেন। সঙ্গী বদল হওয়ার একটাই কারণ, অন্য প্রান্তে যে ওপেনারের ধারাবাহিকতার অভাব। সঙ্গীর ব্যর্থতা একজন সফল ব্যাটসম্যানের ওপর মারাত্মক চাপ না ফেললেও একটা প্রভাব তো পড়ে। সদ্য সমাপ্ত ডিপিএলে পরপর দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর ডাবল সেঞ্চুরি করা সৌম্য কি তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবেন?

তামিম বলেন, 'নির্দিষ্ট ম্যাচে এটা কোনো সমস্যা তৈরি করে না। তবে ওপেনিংয়ে একজন নিয়মিত সঙ্গী থাকলে দুজনই খেলাটাকে ভালো বুঝতে পারব। অনেক সময় এমন থাকে যে আমার টাইমিং ভালো হচ্ছে না। হয়তো আমি মারছি, কিন্তু ফিল্ডারের কাছে চলে যাচ্ছে। তখন সঙ্গী একটা সুযোগ নিতে পারে। একইভাবে ওর সঙ্গে যদি এটা হয়, তবে আমার সুযোগ নিতে হয়। কিন্তু কেউ যদি নিজেই দলে থিতু না হয়, তাকে বলা ভারী অন্যায় যে ভাই তুমি মেরে খেলো। নিশ্চিত লিটন ও সৌম্য অনেক সুযোগ পেয়েছে। এখন সময় হয়েছে, সবাইকে দেখিয়ে দাও, তোমরা কত দুর্দান্ত। ওরা কত ভালো সেটা পৃথিবীকে দেখিয়ে দেওয়ার এটাই সময়।'

সৌম্য-লিটনকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেন তামিম ইকবাল। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা এই ব্যাটসম্যান একপ্রাকর ভবিষ্যদ্বাণী করেই বলেন, 'ক্রিকেটে সেরা ওপেনিং জুটিগুলো দেখুন: হেইডেন-গিলক্রিস্ট, সৌরভ-শচীন, শেবাগ-শচীন। তাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ছিল অসাধারণ। যখন ওদের ম্যাচগুলো দেখবেন, আপনি মনে করবেন যে উইকেটে কী মজাটাই না করছে। আরেকজনের চাহিদা কী, সেটি বুঝতে পারছে। এ রকম সুযোগ আমাদের এখনো হয়নি। এই যে দুজন ওপেনার বিশ্বকাপে যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশের হয়ে আগামী ১০-১৫ বছর খেলার সামর্থ্য রাখে। ওদের জন্য ভালো করার এটাই সেরা সময়।'

মন্তব্য