kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

সেই ১২ মাস ওয়ার্নারকে বদলে দিয়েছে : স্ত্রী ক্যান্ডিস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই ১২ মাস ওয়ার্নারকে বদলে দিয়েছে : স্ত্রী ক্যান্ডিস

বল টেম্পারিংয়ের দায় মাথায় নিয়ে এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে দেশে ফিরেছিলেন ওয়ার্নার দম্পতি। ফাইল ছবি

কেপাটাউন টেস্টে বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারি করে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত মার্চে মুক্তি পেয়েছেন ডেভিড ওয়ার্নার। চলতি আইপিএলে তার ব্যাটিং দেখে কে বলবে যে তিনি এক বছর ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন! সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে ডেভিড ওয়ার্নারের এখনও পর্যন্ত আট ম্যাচে মোট রান  ৪৫০। রয়েছে একটি অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস। গড় ৭৫.০০। স্ট্রাইক রেট ১৪৫.১৬। কীভাবে আবার নিজের স্বাভাবিক পৃথিবীতে ফিরে এলেন তিনি?

সেই রহস্য ফাঁস করে অস্ট্রেলীয় ওপেনারের স্ত্রী ক্যান্ডিস ওয়ার্নার জানিয়েছেন, গত এক বছর প্রতি মুহূর্তে যে তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে তারা জীবন কাটিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করার ভাষা তাঁর অন্তত জানা নেই। ক্যান্ডিস বলেছেন, 'একটা দমবন্ধ করা পরিবেশের মধ্যে দিয়ে আমাদের চলতে হয়েছে। সবার কথাবার্তার মধ্যে একটা মেকি ভাব দেখতে পেতাম। তবে এটাও জানতাম, এই পরিস্থিতি সাময়িক। আমাদের জীবনে আবার সুদিন ফিরবে।'

তিনি আরও বলেন, 'ওই সময়ে আমি এবং দুই কন্যা আইভি এবং ইন্ডির একটাই লক্ষ্য ছিল, ডেভিড যেন কোনোভাবেই ভেঙে না পড়ে। ওকে আমরা প্রতিনিয়ত সাহস জুগিয়েছি। বোঝানোর চেষ্টা করেছি, এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবই। আজ ডেভিডকে আবার স্বাভাবিক মেজাজে দেখে আনন্দে বুক ভরে যাচ্ছে। ওই ১২ মাসের নির্বাসন ডেভিডকে আমূল পাল্টে দিয়েছে। এখন যে কোনো প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে ও বুক চিতিয়ে লড়াই করতে পারে।'

চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষখে শেষ ম্যাচে দেখা গিয়েছিল অপূর্ব এক দৃশ্য। বড় মেয়ে আইভি গ্যালারিতে এক পোসটার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যাতে লেখা, 'গো ড্যাডি।' যা নিয়ে ম্যাচের পরে ওয়ার্নার বলেছিলেন, 'আমার প্রধান শক্তি দুই মেয়ে। ওদের মুখে হাসি দেখতে চাই। তাই আবার নতুন ভাবে জীবন শুরু করেছি। এভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। গত ১২ মাস অদ্ভুত এক পরিস্থিতি আমাদের ঘিরে ছিল। তবে আমিও ঠিক করে রেখেছিলাম, আবার মাঠে ফিরে পুরনো বিধ্বংসী মেজাজকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। সেই চেষ্টাই করছি।'

ক্যান্ডিসের গলাতেও শোনা গেছে একই সুর, 'এখনও সময় পেলে আমি ডেভিডক এটা বোঝানোর চেষ্টা করি, গত ১২ মাসে কী হয়েছে সেটা আর মনে রাখার প্রয়োজন নেই। তুমি নিজের চেনা জগতে আবার ফিরে এসেছ। যে ভাবে ক্রিকেটবিশ্ব তোমাকে চিনত, সেভাবেই নিজেকে আবার মেলে ধরতে হবে। আমাদের জীবনে ডেভিডকে বাদ দিয়ে আর কিছুই নেই। যে কোনো প্রতিকূলতার মুখে আমরা ওর সঙ্গেই থাকব। আশা রাখি, বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ডেভিড এভাবেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে দেশকে ট্রফি উপহার দেবে।'

মন্তব্য