kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

৫ বিখ্যাত ক্রিকেটার; যারা কখনো বিশ্বকাপ খেলেননি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ এপ্রিল, ২০১৯ ১৮:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৫ বিখ্যাত ক্রিকেটার; যারা কখনো বিশ্বকাপ খেলেননি

ভিভ রিচার্ডস,শচীন টেন্ডুলকার, শেন ওয়ার্ন, মুত্তিয়া মুরালিধরনসহ আরো বেশ কিছু দুর্দান্ত ক্রিকেটার আছেন যারা সব ফরম্যাটেই সাফল্য পেয়েছেন। কিন্ত কিছু খেলোয়াড় আছেন যারা টেস্ট ক্রিকেটে অসাধারণ রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন, সীমিত ওভারে নয়। এসব খেলোয়াড় মেধাবী এবং একজন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার ছিলেন। তবে কখনোই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি। এদের মধ্যে অনেকের ভাগ্য সহায়তা করেনি এবং কতিপয় ছিলেন যারা বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার মত ছিলেন না। জানা যাক তাদের সম্পর্কে:

১. অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড): ২০০৬ সালে অভিষেক হওয়ার পর ১২ বছরের ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের হয়ে ১৬১ টেস্ট খেলেছেন অ্যালিস্টার কুক। ৪৫.৩৫ গড়ে ১২৪৭২ রানের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে তার। নম্র ভদ্র স্বভাবের জন্য জনপ্রিয় এই সুপারস্টার ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ৯২টি। যেখানে ৩৬.৪০ গড়ে তার রান ৩২০৪। কুক ছিলেন কিছুটা ধীরস্থির প্রকিৃতির। অর্থাৎ মাঠে নেমে থিতু হতে কিনি কিছুটা সময় নিতেন এবং আগ্রাসী ছিলেন না। সম্ভবত এ কারণেই তিনি কখনো বিশ্বকাপ খেলতে পারেননি।

২. ভিভিএস লক্ষণ (ভারত) : একজন গ্রেট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ছিলেন ভিভিএস লক্ষণ। যিনি শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলী এবং রাহুল দ্রাবিড়ের মত গ্রেটদের আমলে খেলেছেন। তিনি টেকনিক্যালি উঁচু মানের, প্রতিভাধর এবং আজহার উদ্দিনের মতো চটপটে স্বভাবের জন্য পরিচিত ছিলেন।

১৯৯৬ সালে অভিষেক হওয়ার পর দীর্ঘ ১৬ বছর ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন লক্ষণ। ৪৫.৯৭ গড়ে ১৩৪ টেস্টে লক্ষণ ৮৭৮১ রান করেছেন। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে মধ্য মানের একজন খেলোয়াড় ছিলেন হায়দারাবাদেন এই স্টাইলিস্ট ব্যাটসম্যান। মাত্র ৩০.৭৬ গড়ে ৮৮ ওয়ানডেতে তার রান সংখ্যা ২৩৩৮। মুলত বীরেন্দ্র শেবাগ, যুবরাজ সিং ধোনিদের কারণে তিনি কখনো বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে পারেননি।

৩. জাস্টিন ল্যাঙ্গার(অস্ট্রেলিয়া) : অস্ট্রেলিয়ার সর্বকালের সেরা ওপেনারদের একজন ছিলেন জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তিনি এবং ম্যাথু হেইডেন ১১৩ টেস্ট ইনিংসে জুটি বেঁধে ৫১.৮৮ গড়ে ৫৬৫৫ রান করেছেন। একজন কার্যকর ড্রাইভার এবং বল কাটার ছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারে ১০৫ টেস্টে ৪৫.২৭ গড়ে ল্যাঙ্গারের রান ৭৬৯৬। তবে ওয়ানডেতে তিনি কখনোই সাফল্য পাননি। ল্যাঙ্গার মাত্র ৮টি ওয়ানডে খেলেছেন এবং যে কারণে তিনি কখনোই অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাননি।

৪. ক্রিস মার্টিন (নিউজিল্যান্ড) : ২০০০ সালে অভিষেক হওয়ার পর দীর্ঘ ১৩ বছর নিউজিল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন ডান হাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ক্রিস মার্টিন। ৭১ টেস্টে ৩.৩৭ ইকোনোমি রেটে এবং ৩৩.৮১ গড়ে ২৩৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে ওয়ানডে দলে কদাচিত তিনি নির্বাচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছেন। আর বিশ্বকাপ দলে কখনই সুযোগ পাননি তিনি।

টেস্টে অনেক ম্যাচ খেললেও মাত্র ২০টি ওয়ানডে খেলেছেন মার্‌টিন। সীমিত ওভারের ম্যাচে ৪৪.৬৬ গড়ে তিনি শিকার করেন ১৮ উইকেট। ইনজুরিতে পড়া ড্যালি টাফির বদলি হিসেবে একবার তাকে বিশ্বকাপ দলে রাখা হয়েছিল। তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি মার্টিন।

৫. ম্যাথু হগার্ড (ইংল্যান্ড) : ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হওয়ার পর ৮ বছর খেলেছেন ম্যাথু হগার্ড। এ সময়ে ৬৭ টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩.২৬ ইকোনোমি রেটে ৩০.০৫ গড়ে ২৪৮ উইকেট শিকার করেন তিনি। হগার্ড ছিলেন অসাধারণ একজন টেস্ট খেলোয়াড়। কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটে একই ধরণের সাফল্য নেই তার। ২৬ ওয়ানডেতে ৩৬ গড়ে তার শিকার ৩২ উইকেট। দীর্ঘদেহী এবং পেশীবহুল হওয়ায় তিনি দ্রুত গতিতে বোলিং করার পাশাপাশি উইকেটের যে কোন দিকে বল ঘুরাতে পারতেন। ২০০৩ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলে জায়গা পান তিনি। তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।

মন্তব্য