kalerkantho


জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩ বছরের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় টাইগারদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৫৫



জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩ বছরের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় টাইগারদের

ছবি : এএফপি

একটা সময় জিম্বাবুয়ের কাছে ম্যাচের পর ম্যাচ হারত বাংলাদেশ। কিন্তু গত ১৩ বছর ধরে মানে ২০০৫ সালের পর থেকে দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের কাছে কোনো ওয়ানডে সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। সেই রেকর্ড ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে আগামীকাল থেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে নামছে মাশরাফির দল। সিরিজ জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ। তবে সিরিজের শুরুটা ভালোভাবে করতে চায় টাইগাররা। অন্যদিকে, সিরিজে ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে সফরকারী জিম্বাবুয়ে।

দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৮টি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। এর মধ্যে ১টি বাদে সবগুলোই জিতেছে টাইগাররা। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বপ্রথম ওয়ানডে সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল বালাদেশের মাটিতে। তিন ম্যাচের ওই সিরিজে ধবল ধোলাইয়ের লজ্জায় পড়তে হয় স্বাগতিকদের। তবে এরপর আর কোনো ওয়ানডে সিরিজ হারেনি বাংলাদেশ। তাই ম্যাশ বাহিনীর সামনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুর্দান্ত এই রেকর্ডটি ধরে রাখাই লক্ষ্য।

এই 'ধরে রাখা'র মিশনে বাংলাদেশকে নামতে হচ্ছে দলের দুই সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়া। আঙ্গুলের ইনজুরির কারণে এই সিরিজে দলে নেই সাকিব আল হাসান। কব্জির ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না তামিম ইকবাল। তারপরও দলের যারা আছেন, তাদের নিয়ে যে লড়াই করার যায় সেটি দেখিয়েছেন বাংলাদেশের দলনেতা মাশরাফি বিন মুর্তজা।

গত মাসে শেষ হওয়া এশিয়া কাপে সাকিব-তামিমকে ছাড়াই ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই হাতে ইনজুরিতে পড়েন তামিম। এরপর আর কোনো ম্যাচই খেলতে পারেননি তিনি। তবে হাতের ইনজুরি নিয়ে এশিয়া কাপে চার ম্যাচ সার্ভিস দিয়েছেন সাকিব। সুপার ফোরে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ থেকে মাঠে নামতে পারেননি তিনি । সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ফাইনালে সাকিব-তামিমকে ছাড়াই দুর্দান্ত লড়াই করেছে টাইগাররা। শক্তিশালী ভারতকে ৩ উইকেট জয়ের জন্য শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছিল।

ওই সিরিজের দুর্দান্ত পারফরমেন্স সাহস যোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ব্যাট-বল হাতে জ্বলে উঠতে হবে দলের খেলোয়াড়দের। বিশেষভাবে সাকিব-তামিমের শুন্য স্থান পূরণের কাজটা দায়িত্ব নিয়েই করতে হবে মুশফিকুর রহিম-মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ-মোহাম্মদ মিথুনদের।

তামিম না থাকায় ইনিংসের শুরুতে দায়িত্ব নিতে হচ্ছে এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা লিটন দাসকে। এশিয়া কাপের শিরোপা নির্ধারনী ফাইনালে ১২১ রান করেন লিটন। এশিয়া কাপ শেষে প্রথম শ্রেনির ক্রিকেটে ফিরেই ২০৩ রানের মারমুখী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। মিডল-অর্ডারে বাংলাদেশের ভরসার নাম মুশফিকুর-মাহমুদুল্লাহ। সাথে থাকছেন ইমরুল কায়েস ও মোহাম্মদ মিথুন।

স্পিনার হিসেবে একাদশে মেহেদি হাসান মিরাজের সুযোগ পাওয়া নিশ্চিত। এশিয়া কাপে বল হাতে ভালো কিছু করতে পারেননি মিরাজ। ৬ ম্যাচে মাত্র ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ফাইনালে ওপেনার হিসেবে মিরাজের ইনিংস শুরু করা ছিলো চমক। ব্যাট হাতে নেমে ৩২ রানের ছোট-সুন্দর ইনিংস খেলেন মিরাজ। স্পিনার হিসেবে মিরাজের সাথে দলে আরো আছেন বাঁ-হাতি নাজমুল ইসলাম অপু। তবে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে সেরা একাদশ নিয়েই যে বাংলাদেশ খেলতে নামবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

অন্যদিকে চলতি বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একেবারেই ফ্লপ জিম্বাবুয়ে। একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ, তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে অংশ নিয়ে সাফল্য পায়নি। বাংলাদেশ থেকেই এ বছর আন্তর্জাতিক লড়াই শুরু করে জিম্বাবুয়ে। শ্রীলঙ্কার সাথে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করে ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয় তারা। এরপর আফগানিস্তানের কাছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হারে আফ্রিকার দলটি। ঐ সিরিজ হারের ক্ষত নিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে খেলতে নেমে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে তারা। বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পায়নি জিম্বাবুয়ে। এরপর পাকিস্তানের কাছে ৫-০ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে জিম্বাবুয়ে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশের মাটিতে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে অংশ নেয় জিম্বাবুয়ে। ঐ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় তারা। তাই সাম্প্রতিক সময়ের পারফরমেন্স থেকে আত্মশ্বাসী হওয়ার কোনো রসদই নেই জিম্বাবুয়ের। তবে এবারের সফরে সিকান্দার রাজাসহ সিনিয়র খেলোয়াড়রা দলে ফেরায় দলটি বেশ অভিজ্ঞ। তাই নিচেদের সেরা পারফরমেন্স দিয়ে টাইগারদের বিপক্ষে ভালো কিছু করতে চায় সফরকারীরা।



মন্তব্য