kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

‘আমি কোনো ভাইরাস নই, আমিও একজন মানুষ’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৮:৩৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘আমি কোনো ভাইরাস নই, আমিও একজন মানুষ’

চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে সে দেশের নাগরিকদের ভয়ের চোখে দেখা হচ্ছে। কারণ, এরই মধ্যে ২৪টিরও বেশি দেশে কোভিড-১৯ নামের এই ভাইরাস ছড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪ হাজার ছয় শতাধিক মানুষ। এমনকি আক্রান্তদের সঙ্গে স্বল্প সময়ের অরক্ষিত সাক্ষাতেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

এরকম পরিস্থিতিতে বাইরের দেশগুলোতে থাকা চীনের নাগরিকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। মানুষজন তাদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে। এমনকি বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও বারে নোটিশ দেওয়া হয়েছে- চীনের কোনো নাগরিক ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না।

বেকায়দায় পড়ে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরের রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে নেমেছেন চীনা যুবক মাসিমিলিয়ানো মার্তিগলি জিয়াং। তার প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে- আমি কোনো ভাইরাস নই, আমিও একজন মানুষ, আমাকে নিয়ে কুসংস্কারাচ্ছন্ন হবেন না।

জানা গেছে, জিয়াং চীনা নাগরিক হলেও বসবাস করেন ইতালিতে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, চীন থেকে সম্প্রতি অন্য দেশে যাওয়া ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন এবং তাদের সংস্পর্শে এসে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছেন। সেইসব খবর শুনে চীনা নাগরিকদের গণহারে এড়িয়ে চলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

কিন্তু জিয়াং ইতালিতেই রয়েছেন। কেবল চেহারার গড়নের কারণে তাকে অহেতুক এড়িয়ে চলা হচ্ছে। জিয়াং একাই নন, বাইরের দেশগুলোতে চীনাদের দেখলেই করোনাভাইরাসের শঙ্কা ভর করছে মানুষের মনে।

জিয়াং বিষয়টি নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। তিনি এ ব্যাপারে নিজের মতামত তুলে ধরে একটি ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেছেন। পরে সেই ভিডিও হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে তারই মতো পরিস্থিতিতে পড়া চীনের নাগরিকরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ক্যাপশনে উল্লেখ করে সেই ভিডিও শেয়ার করেছেন।

ওই ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যায়, ফ্লোরেন্সের রাস্তায় প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। অনেকেই তার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে, কেউ দাঁড়িয়ে দেখছে আবার কেউ তার সঙ্গে সেলফি তুলছে।

জানা গেছে, ইতালিতে দু'জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। চীন থেকেই গত ২৩ জানুয়ারি ইতালিতে যাওয়ার পর শনাক্ত হন তারা। সেই ঘটনায় ইতালিতে বসবাসরত তিন লক্ষাধিক চীনা নাগরিককে নিয়ে তৈরি হয়েছে কুসংস্কার। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, চীনা মানেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। অথচ, বিষয়টি মোটেও সে রকম নয়।

জিয়াং জানান, ভিডিওটি তৈরি করে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা