kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

মসজিদে রমজানের সজীবতা থাকুক বছরজুড়ে

আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ   

১৪ মে, ২০১৯ ১০:১৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মসজিদে রমজানের সজীবতা থাকুক বছরজুড়ে

মসজিদ মুসলিম সমাজের সব আমল ও কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্র। আমরা জানি, রাসুলে পাক (সা.) মসজিদকে কেন্দ্র করে মুসলিমদের সব দিক থেকে সংগঠিত করেছিলেন এবং ইসলাম বাস্তবায়িত করেছিলেন। কিন্তু আমরা মসজিদ থেকে বিচ্ছিন্ন। আমরা যারা মসজিদে যাই তারাও মসজিদকে শুধু নামাজ আদায়ের জায়গা মনে করি। সন্দেহ নেই, নামাজ আদায়ের জায়গা মসজিদ। তবে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের যে বিধান ইসলামে রাখা হয়েছে তার পেছনে সামাজিক সম্প্রীতি ও সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি রয়েছে। যেন মুসলিম সমাজের সবাই পরস্পর সম্পর্কে অবগত থাকে এবং পারস্পরিক খোঁজখবর রাখে। মসজিদের সঙ্গে এমন অনেকগুলো উদ্দেশ্য ছিল। এসব উদ্দেশ্য থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন ও বিমুখ। মূলত সাম্রাজ্যবাদী শাসনের আমলে মসজিদের কেন্দ্রিকতা নষ্ট হয়েছে। ধীরে ধীরে তারা মুসলিম সমাজকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।

আজ মুসলিমদের ভেতরও মসজিদের প্রতি অনীহা দেখা যায়, তারা মসজিদে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না। আমার মনে হয়, এর একটা কারণ মসজিদ আমাদের নামাজের কেন্দ্র কিন্তু জীবনের কেন্দ্র না। জীবনের কেন্দ্র হলে মানুষ জীবনের সমাধান খুঁজতে মসজিদে যেত এবং মসজিদ আরো প্রাণবন্ত হতো।

রমজানে মসজিদে ইবাদত যেমন একটা দিক, তেমন তার সামাজিক পরিব্যাপ্তি, কার্যক্রম ও কেন্দ্রিকতাও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। রমজানে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সব পাশবিকতা ও পশুত্ব থেকে মুক্ত হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার বিরাট আবেদন যেমন রমজানে রয়েছে, তেমনি রমজান সহানুভূতি ও ধৈর্যধারণের মাস। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সদাচারের মাস রমজান।

রমজানে মুসলিমরা মসজিদমুখী হয়। এই সুযোগ আমরা কাজে লাগাতে পারি। চেষ্টা করতে পারি, সারা বছর যেন এই সজীবতা অক্ষুণ্ন থাকে। পৃথিবীর প্রতিটি মসজিদ যদি আমরা মসজিদে নববীর আদলে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের সমাজ, সংস্কার ও সামাজিক উন্নয়ন আরো দ্রুত সম্ভব হতো বলে আমার বিশ্বাস।
লেখক : গ্র্যান্ড ইমাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা