kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

নিজের জন্মদিনে শতবর্ষী মুসলিম ইমাম খ্রিষ্টানদের চার্চে, সম্প্রীতির অনন্য নজির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ মে, ২০১৯ ১৩:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিজের জন্মদিনে শতবর্ষী মুসলিম ইমাম খ্রিষ্টানদের চার্চে, সম্প্রীতির অনন্য নজির

ঘানার প্রধান ইমাম ও ধর্মগুরু শেখ ওসমান

শেখ ওসমান সারুবুটু। ঘানার প্রধান ইমাম ও ধর্মগুরু তিনি। ১০০ বছর বয়সী এই ইমাম সম্প্রতি তাঁর জন্মদিন উদযাপনের অংশ হিসেবে দেশটির ক্যাথলিক চার্চে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ ঘটনাটি ব্যাপকভাবে সাড়া জাগিয়েছে। 

শেখ ওসমান কিং ক্যাথলিক চার্চে ঈষ্টার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে বসে আছেন-এমন একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। 

ঘানার সংখ্যালঘু মুসলিমদের নেতা তথা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ ওসমান ওই ঘটনার মধ্য দিয়ে ধর্মে নিহিত শান্তির বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। এটা আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির উদাহরণ। 

তার গির্জায় উপস্থিতির বিষয়টি দেশটির মানুষের মাঝে অনেকটাই সাড়া জাগিয়েছে। সেদিন তিনি গির্জার যাজক ফাদার অ্যান্ড্রু ক্যাম্পবেলের সাথে একই ফ্রেমে বন্দি হয়েছেন। একইদিন শ্রীলংকায় ইসলামি চরমপন্থিরা গীর্জা ও হোটেলগুলোতে হামলা চালিয়ে ২৫০ জনেরও বেশি লোককে হত্যা করে। 

ওই ইমামের চার্চে উপস্থিত হওয়ার ঘটনাকে  সোশ্যাল মিডিয়ায় 'অন্ধকারে আলো জ্বলছে' বলে অভিহিত করা হয়েছে। 

খ্রিষ্টানদের চার্চে ঘানার প্রধান ইমাম শেখ ওসমান 

তবে ওই ঘটনায় কেউ-কেউ অখুশি হয়েছেন। কিছু সমালোচক তার এই কর্মকাণ্ডকে একজন মুসলিম হিসেবে খ্রিস্টান উপাসনায় অংশ নেওয়াকে নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন।  কিন্তু শেখ ওসমান সারুবুটু দৃঢ়ভাবে জানান যে,  তিনি উপাসনা করেননি, বরং মুসলমি ও খ্রিস্টানদের মধ্যে সম্পর্কে সহনশীলতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। 

এ বিষয়ে তার মুখপাত্র আরেমেয়ো শিবু বিবিসিকে জানান, ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাকে বদলে দিতে চান প্রধান ইমাম। ইসলাম একটি দ্বন্দ্বের ধর্ম, অন্যের প্রতি ঘৃণার ধর্ম-এ ধারণাকে বদলে ফেলে ভালবাসা, শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা পৌঁছে দিতে চান তিনি। 

প্রধান ইমামের মতো ঘানার ক্যাথলিক চার্চের পাদ্রি ফাদার অ্যান্ড্রু ক্যাম্পবেল্অনন্য গুণের অধিকারী, যা একথায় শেষ করা যাবে না। 

৭৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ধর্মপ্রচারক হিসেবে ঘানার মিশনারীতে যোগ দেন। ৪৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এখানে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি কুষ্ঠরোগীদের নিয়ে ক্যাম্পেইন করে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়েছেন। এ কাজ তাঁকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছে। 

তার গির্জাটি ঘানার রাষ্ট্রপতির ভবন জুবিলী হাউসের কাছেই অবস্থিত। কয়েক মাস আগে তাকে জুবিলী হাউসের জন্য প্যারিশ পাদ্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। দেশটির কতিপয় সরকারি নীতি প্রণয়নে সমর্থন জুগিয়েছেন তিনি। তিনি ঘানার পূর্ণ নাগরিকত্ব পেয়েছেন। 

এদিকে, শেখ ওসমান সারুবুটু গত ২৬ বছর ধরে ঘানার শীর্ষ মুসলিম ধর্মগুরুর পদে আসীন রয়েছেন। ইসলামের শান্তি ও ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। দেশটির কেন্দ্রীয় মসজিদে প্রতি শুক্রবার তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। 

বস্তুবাদিতা বন্ধ করার বিষয়ে আহ্বান জানানো তার আরেকটি প্রিয় বিষয়। তিনি বলেন, বস্তুবাদিতা লোভ নিয়ে আসে। 

ফাদামায় অবস্থিত তাঁর আবাসস্থল সর্বদা দরিদ্র প্রতিবেশীদের জন্য খোলা থাকে। দরিদ্র প্রতিবেশীদের যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করেন তিনি। 

গত কয়েক বছর ধরে তিনি শহরের শত-শত বাসিন্দাদের প্রতিদিন সকালে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করে থাকেন। একইসাথে তিনি প্রতিরাতে দরিদ্রদের বিনামূল্যে খাবারের যোগান দেন। 

এ ধরনের দাতব্য দান ইসলামী নেতাদের স্বভাবজাত বিষয়। কিন্তু ওই ইমামের সমর্থকরা বলেন, তিনি যা করেন তা অনন্য সাধারণ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে দেশে এবং বিদেশে শত-শত শিক্ষার্থীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছেন। 

শুধু তাই নয়, তিনি  প্রতিভাবান-দরিদ্র ছাত্রদের সহায়তা করতে একটি শিক্ষা ট্রাস্ট তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছেন।

ঘানা খ্রিস্টান প্রধান দেশ। এ দেশের জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ মানুষ মুসলিম। এই দেশে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধের কোনো ইতিহাস নেই। 

ওই ইমাম দেশটির ১৩ জন প্রধান ধর্মীয় নেতাকে নিয়ে গঠিত জাতীয় শান্তি কাউন্সিলের একজন সদস্য।

সূত্র : বিবিসি 

 

মন্তব্য