kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

মনকাড়া ইফতারি অভিজাত এলাকায়

৮০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকায় অনেক আইটেমের ইফতারি পাওয়া যায়

নওশাদ জামিল    

১১ মে, ২০১৯ ১২:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনকাড়া ইফতারি অভিজাত এলাকায়

পুরান ঢাকার মতো হাঁকডাক নেই। তার পরও গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় পাওয়া যাবে এমন মনকাড়া নানা ইফতারি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বনানীর একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ইফতারি কিনছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারিক হাসান চৌধুরী। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপচারিতায় তারিক বলেন, ‘আমার মা-বাবা দেশের বাইরে থাকেন। বাসায় থাকি আমরা দুই ভাই-বোন। আমরা নিজেরাই ইফতারি তৈরি করি। মাঝেমধ্যে রেস্তোরাঁ থেকেও ইফতারি কেনা হয়।’

পুরান ঢাকার মতো হাঁকডাক নেই, অতিরিক্ত মসলাদার খাবারও নেই। তার পরও গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় রয়েছে মনকাড়া নানা ইফতারির পসরা। এখানকার বিভিন্ন অভিজাত রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা যায়, ইফতারি বাজারের আবহটা একটু অন্য রকম। রেস্তোরাঁগুলোকে কেন্দ্র করেই চলে ইফতারি বেচাকেনা। কোনো রেস্তোরাঁর সামনে ভিড় নেই, হৈ-হুল্লোড় নেই। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য হাঁকডাকও নেই। কিন্তু রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, বেশির ভাগ টেবিল পূর্ণ ক্রেতায়। তাদের সামনে সাজানো মনকাড়া সব ইফতারি।

রাজধানীর বনানীর ১১ নম্বর রোডে রয়েছে বেশ কিছু নামিদামি রেস্তোরাঁ। গতকাল শুক্রবার ইফতারের কিছুক্ষণ আগে বনানীর নান্দোস রেস্তোরাঁয় ঢুকে দেখা যায় তাক লাগানো দৃশ্য। সুবিশাল রেস্তোরাঁর প্রতিটি আসন পূর্ণ। ইফতারসামগ্রী সামনে নিয়ে বসে আছে রোজদাররা। বেশির ভাগই রাজধানীর মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির তরুণ-তরুণী। সপরিবারেও এসেছিল অনেকেই। নান্দোসে ইফতার উপলক্ষে রয়েছে বিশেষ প্যাকেজ। মোটামুটি ৮০০ টাকা থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে অনেক আইটেমের ইফতারি।

নান্দোসে প্রচণ্ড ভিড়বাট্টা, তরুণ-তরুণীদের ইফতারি নিয়ে অপেক্ষা। বেশির ভাগ তরুণ-তরুণী ইফতার প্যাকেজ অর্ডার দিয়েছে। এখানে একজন রোজাদারের খাওয়ার মতো ইফতার প্যাকেজের নাম ‘হাংগ্রি’। এতে এক কোয়ার্টার চিকেনের সঙ্গে আছে কর্ন, পেরি চানা চাট, তিনটি চিকেন সাত্তে, মিনি বিফ প্রেগো বার্গার, মালাই চিকেন, পিটা, পটেটো সালাদ, চিজি মিট বল, ওয়েজেস রেগ, ব্রাউনি, খেজুর, ফল, শরবত ইত্যাদি।

নান্দোস বনানী শাখার প্রধান দুই কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ও পল রোজারিও। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপচারিতায় তাঁরা বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে ইফতার উপলক্ষে আমাদের বিশেষ প্যাকেজ থাকে। একটা প্যাকেজে অন্তত ১০ ধরনের আইটেম থাকে। স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর ইফতারি দেওয়ার চেষ্টা করি আমরা। ফলে আমাদের ক্রেতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।’

শুধু নান্দোস নয়, গুলশান-বনানীর বেশির ভাগ রেস্তোরাঁয় রয়েছে বিশেষ প্যাকেজ ইফতারি। বিক্রিও ভালো। রেস্তোরাঁ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোটা এলাকা অন্যান্য এলাকার চেয়ে ভিন্ন। এখানকার বেশির ভাগ ক্রেতা সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণির। বিদেশি ক্রেতাও রয়েছে প্রচুর। বাণিজ্যিক ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস এ এলাকায় থাকায় রেস্তোরাঁগুলোয় থাকে নানা শ্রেণির মানুষের ভিড়।

বনানীর ক্যাফে নাম্বার ওয়ান, তাজমহল, গোল্ড স্টার রেস্তোরাঁয় রয়েছে ইফতারির নানা আয়োজন। কিছু রেস্তোরাঁয় প্রথাগত ইফতারির পাশাপাশি ইউরোপীয় ধাঁচের খাবার ও আইটেম রয়েছে বেশি।

গুলশান-২ নম্বর এলাকার খাজানা রেস্টুরেন্ট, বিন্নি রেস্টুরেন্ট, ধানসিঁড়ি রেস্টুরেন্টের ইফতারিতেও রয়েছে বাহারি পসরা। তবে বনানী ও গুলশান-২ নম্বর চত্বরের তুলনায় বেশি সরগরম গুলশান-১ নম্বরের ডিসিসি মার্কেটের ইফতারি বাজার।

মন্তব্য