kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

লেখার ইশকুল

ত্রাসের রাজত্বে শিল্পের অস্তিত্ব এবং ওসিপ মেনডিলস্ট্যাম

দুলাল আল মনসুর   

৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ত্রাসের রাজত্বে শিল্পের অস্তিত্ব এবং ওসিপ মেনডিলস্ট্যাম

‘রাশিয়াতেই কবিতাকে এত সম্মানের চোখে দেখা হয়। কবিতার কারণে মানুষের প্রাণ যায়। আর কোথাও কি মানুষ মারার জন্য কবিতাকে এত সস্তা মতলব হিসেবে ব্যবহার করা হয়?’—কথাগুলো বলেন ওসিপ মেনডিলস্ট্যাম। তাঁর সময়ে কবিতার গুরুত্ব সম্পর্কে এ কথাগুলো বলেন তিনি। মেনডিলস্ট্যাম বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুশ কবিদের অন্যতম। জন্ম ১৮৯১ সালে পোল্যান্ডে। জন্মের পর পরই তাঁদের পরিবার সেইন্ট পিটার্সবার্গে চলে আসে। সেখানকার নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তেনিশেভ স্কুলে পড়াশোনা করেন। এ ছাড়া প্যারিসের সরবোন এবং জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করেন।

আনা আকমাতোভা, মারিনা সুয়েতোয়েভা, বরিস পাস্তারনাক প্রমুখের সমসাময়িক কবি তিনি। সেইন্ট পািটার্সবার্গে ‘শব্দ বিপ্লবের’ শুরু তাঁর হাতে। ত্রাসের রাজত্বে শিল্পের অস্তিত্ব কেমন হতে পারে তার সাক্ষী মেনডিলস্ট্যামের কবিতা। ঐতিহাসিক এবং দার্শনিক আত্মশক্তি হারানোর কথা আর কোনো আধুনিক মনস্ক রুশ কবি তাঁর মতো এত তীব্রভাবে বলেননি। রাশিয়ার সাংস্কৃতিক ও নৈতিক ঐতিহ্য তাঁর কাছে গুরুত্বের বিষয়। শিল্প ও চেতনার অস্তিত্ব সম্পর্কে শঙ্কিত হয়ে পড়েন মেনডিলস্ট্যাম। কারণ তাঁর সময়ে দেশে শিল্প ও চেতনার অবস্থা অতিশয় বিপন্ন হয়ে পড়ে।  

মেনডিলস্ট্যামের কবিতা মেজাজে লোকানুবর্তী। ১৯০৫ সালের প্রথম রুশ বিপ্লবের পরে তাঁর কবিতা আরো নিবিড় নৈকট্য পায় প্রতিটি চিত্রকল্পের। 

১৯২২ সালে মেনডিলস্ট্যাম বিয়ে করেন কবি নাদেজদা খাজিনাকে। নাদেজদা আজীবন বিপন্ন কবিকে সহযোগিতা করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত নির্বাসিত জীবনে কবির সঙ্গেই ছিলেন নাদেজদা। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের সঙ্গে চলে তাঁর কবিতার ওপর বর্বরতা। তাঁর লেখা বাতিল হবে এবং নষ্ট করে দেওয়া হবে বুঝতে পেরে নাদেজদা মেনডিলস্ট্যামের পাণ্ডুলিপির যেগুলো হাতের কাছে পান সব লুকিয়ে রাখেন। এমনকি ভবিষ্যতে প্রকাশ করার আশায় মেনডিলস্ট্যামের সব কবিতা মুখস্থ করে ফেলেন। ১৯৬০-৭০-এর দশকে রাজনৈতিক চাপ কমে এলে নাদেজদা মেনডিলস্ট্যামের কবিতা প্রকাশ করেন।

১৯২২ সালে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ত্রিস্তিয়া’ প্রকাশ করেন বার্লিন থেকে। এরপর কয়েক বছর কবিতা থেকে দূরে থাকেন। গদ্য লেখেন: স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ ও সাহিত্য সমালোচনা লেখেন। স্মৃতিকথার মধ্যে ‘সময়ের সোরগোল’ অন্যতম। এ ছাড়া দৈনিক পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি অন্য ভাষার সাহিত্য রুশ ভাষায় অনুবাদও করেন। ১৯৩৩ সালে লেখেন ‘স্টালিন এপিগ্রাম’। মস্কোর কয়েকটি বক্তিগত আসরে পড়েন এ কবিতাটি। এ কবিতার সমালোচনা ক্ষমতাবানদের সহ্য হওয়ার মতো নয় বলে পরের বছর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর উত্তর ইউরাল অঞ্চলে নির্বাসনে পাঠানো হয়। 

১৯৩৮ সালে তথাকথিত ‘প্রতিবিপ্লবী কর্মকাণ্ডে’র দায়ে শেষবারের মতো গ্রেপ্তার হন। চার মাস পর তাঁকে কারেকশন ক্যাম্পে পাঠানো হয় পাঁচ বছরের সাজা দিয়ে। রাশিয়ার দূরপ্রাচ্য এলাকায় একটা ট্রানজিট ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর বৈরী আবহাওয়ায় শারীরিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। তিনি গরম কাপড়ের জন্য আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত পাননি। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও ক্ষুধায় মারা যান মেনডিলস্ট্যাম।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা