kalerkantho

সোমবার । ২৪ জুন ২০১৯। ১০ আষাঢ় ১৪২৬। ২০ শাওয়াল ১৪৪০

বিস্ফোরণ

মইনুল ইসলাম

৩ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



বিস্ফোরণ

অঙ্কন : মাসুম

ব্যাপারটা কাকতালীয়। এভাবে দুই বন্ধুর দেখা হবে ভাবেনি কেউ। তা-ও এত বছর পর। হোটেলের রুম থেকে মিতাকে নিয়ে বের হচ্ছিল মোমিন। ভেবেছিল হোটেলের সামনে খোলামেলা জায়গায় জলের কাছাকাছি বসে সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে বিকেলটা কাটাবে। দরজা লক করে করিডরে পা বাড়িয়েছে, এমন সময় উল্টোদিকের রুমের দরজা খুলে এক ভদ্রলোক বের হলো। লোকটি এক পলক তাদের দিকে তাকাল। সানগ্লাসের ধোঁয়াটে লেন্সের ভেতর থেকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বলে উঠল, মনু না?

অচেনা আগন্তুকের মুখে নিজের নাম শুনে একটু থমকালো মোমিন। এই নামে সে খুব পরিচিত নয়, অপরিচিত কারো কাছে তো নয়ই। নিকটাত্মীয়, বন্ধুমহল ছাড়া এই নামে কেউ তাকে ডাকে না। তাই লোকটির দিকে সন্দিগ্ধ চোখে তাকাল সে। চিনতে চেষ্টা করছে। চোখ থেকে সানগ্লাস খুলল লোকটি, এক পলক চেয়ে থেকে হৈহৈ করে উঠল মোমিন, আরে সফি তুই!

আনন্দের আতিশয্যে সফির হাত ধরার জন্য হাত বাড়িয়েছিল, সফি ততক্ষণে তাকে বুকে চেপে ধরেছে। আবেগাপ্লুত দুই বন্ধু আলিঙ্গনাবদ্ধ হয়ে থাকল কিছুক্ষণ। মিতা লক্ষ করছে দুজনকে। মোমিনকে ছেড়ে সফি এবার মিতার দিকে ফিরল।

এ হচ্ছে সফি, ভার্সিটি-জীবনের বন্ধু। মোমিন বলল, তারপর একটু থেমে মিতার দিকে তাকাল, আর এ হচ্ছে মিতা..., মোমিনকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে সফি বলে উঠল, তোকে বলতে হবে না, দেখেই বুঝেছি। উনি ভাবি। ভাবি সালামালেকুম। মিতার উদ্দেশে কপালে হাত ঠেকাল সে। উত্তরে মিতার হালকা লিপস্টিক মাখা ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ঝিলিক দিয়ে উঠলেও এক ধরনের কুণ্ঠাবোধ সর্বাঙ্গ জড়িয়ে থাকল।

চল, কোথাও বসি। তারপর কথা বলা যাবে, কি বলেন ভাবি? মৃদু হেসে সায় দিল মিতা। একটু যেন সহজ হওয়ার চেষ্টা। লাউঞ্জ পেরিয়ে তিনজন হোটেলের সামনের বালুর চত্বরের কৌচগুলোর দিকে এগিয়ে গেল।

ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে পারে। সাদা ফেনার বুদ্বুদ নিয়ে জল বালুর ওপর দিয়ে পায়ের কাছাকাছি এসে থেমেছে। ভেজা বালুতে জলের দাগ শুকাতে না শুকাতে আবারও ঢেউ এসে ভেঙে পড়ছে বালুর ওপর। জল নিয়ে সমুদ্র আর ডাঙার এই খেলা বুঝি শেষ হওয়ার নয়। দিনের শেষে সূর্যটা জলের কাছে নেমেছে এখন। লাল, নীল আর বেগুনি রং মাখা কয়েক টুকরা মেঘ ঘিরে আছে তাকে। যেন কয়েকটি প্রজাপতি রঙিন ডানা ছড়িয়ে বসে আছে জলের ওপর।

তোর সঙ্গে এভাবে দেখা হবে—এটা এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না রে, মনু। গলায় গদ্গদ্ ভাব এনে সফি বলে উঠল। জুতাসমেত পা দুটি বালুর ওপর ছড়িয়ে সে আয়েশ করে বসেছে। বিস্ময়াবিষ্ট বড় বড় চোখ মেলে তাকিয়ে আছে মোমিনের দিকে। মোমিনের ঘোর বুঝি তখনো কাটেনি। মনে মনে সে পেছনের দিনগুলো হাতড়াচ্ছে। সফির সঙ্গে ভার্সিটিতে এক ডিপার্টমেন্টে, এক ক্লাসে পড়েছে। এক রুমে থেকেছে। সেই দিনগুলো অনেক স্মৃতিতে মাখামাখি হয়ে আছে। পাস করে বের হওয়ার পর হঠাত্ করে ইতালি চলে গেল সফি। মোমিনও চাকরি পেয়ে গেল, পোস্টিং মফস্বলে। সেই থেকে দুজনের আর দেখা-সাক্ষাত্ হয়নি, যোগাযোগও ছিল না। আঙুলের কড়ায় গুনে মোমিন দেখল সময়টা এক যুগের বেশি পার হয়ে গেছে। অবাক লাগছে তার। জীবন থেকে নিজের অজান্তে কেমন করে যেন একটা যুগ ঝরে গেল। তবে স্মৃতিগুলো তো ঝরে যায়নি। এই দীর্ঘ সময়ে দুজনের জীবনে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, অনেক কিছুই ঘটে গেছে, যা জানা হয়নি। আজ হঠাত্ দেখার পর সেই সব জানার ব্যাগ্রতা নিয়ে দুজন দুজনের দিকে তাকাল।

শুনেছিলাম ইতালি গিয়েছিলি, এখনো কি ইতালিতে আছিস?

ইতালিতে বছর পাঁচেক ছিলাম, তারপর নিউজিল্যান্ডে। এখন কুইন্সটাউনে একটি স্টোরে কাজ করছি। সফি বলল।

বিয়ে-শাদি?

বিয়া তো করেছি দুইখান। প্রথমটা বিদেশি, ইতালিয়ান। বয়স কম আছিল, ঝোঁকের মাথায় করে ফেললাম। বনাবনি হয়নি, ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। পরেরটা দেশি ব্র্যান্ড। বাড়ি বরিশাল, ভোলা।

ভাবি কোথায় থাকে? মিতা প্রশ্ন করল।

কোথায় আবার, নিউজিল্যান্ডে আছে। আপনার ভাবিজান বিয়ার পাঁচ বছরেই এমন ধুন্দুল হয়ে গেছে যে এখন নড়াচড়ার উপায় নেই। তারপর আছে হাই প্রেশার। সারাক্ষণ বিছানায় থাকে।

একটা জেলে-নৌকা ইঞ্জিনের শব্দ তুলে তীর ঘেঁষে চলে গেল। সেদিকে অন্যমনস্কভাবে তাকাল সফি। মনে হলো স্ত্রীর কথা ওঠায় কিছুটা আনমনা হয়েছে। নৌকা থেকে হঠাত্ মুখ ফেরাল সে।

তোর পোলাপান কয়টা?

নেই। ঠোঁট উল্টিয়ে কাঁধ ঝাঁকাল মোমিন। নেই! যেন খুব অবাক হয়েছে সফি। অপাঙ্গে মিতার দিকে তাকিয়ে বলল, বিয়া করছ কয় বছর?

বছর আটেক হবে। বলে আড়চোখে মিতার দিকে তাকাল মোমিন।

বাপ রে। ভাবির যে খাসা চেহারা, মনে হয় এই গতকাল বুঝি বিয়া হইছে। এখানে হানিমুন করতে আসছে। সফি চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস নিয়ে মিতার দিকে তাকিয়ে থাকল। মিতা বোধ হয় লজ্জা পেল। সফির কথায় মুখ নিচু করে হাসছে। তবে এই অল্পস্বল্প পরিচয়ে মনে হচ্ছে মোমিনের এই বন্ধু লোকটা খুব সরল, হাসি-খুশি, প্রাণখোলা স্বভাবের। মনে জটিলতা নেই। কথায় মারপ্যাঁচ নেই।

আসলেও তাই। বাচাল নয় যে বেশি কথা বলে, বাকপটুও নয় যে কায়দা করে কথা বলে। তবে সফি বরাবর এভাবেই কথা বলে। তার কথা শুনে কে কী বুঝল, কী ভাবল, তেমন রাখঢাক করে কথা বলে না। যা মনে আসে অকপটে বলে ফেলে। ক্লাসের বন্ধুরা তার নাম দিয়েছিল কাউয়া। দেশ-বিদেশের আলো-হাওয়া গায়ে মাখলেও মনে হচ্ছে স্বভাবটা তার বদলায়নি। কথাবার্তার ধরন তেমনিই আছে। কাউয়াদের স্বভাব বদলায় না বোধ হয়।

দোস্ত, ছুটিতে বেড়াইতে আইছ মনে হয়? কত দিন থাকবি?

কাল সকালে ঢাকা ফিরব। অফিসের কাজে এসেছিলাম, সেটা শেষ। মোমিন জানাল।

হায় হায় দোস্ত, তোর সঙ্গে তো আড্ডা মারার চাঞ্চ মিলবে না। আমিও তো কাল সকালে ফুড়ুত্। একটু থামল সফি, তারপর বলল,

দোস্ত, ভার্সিটির দিনগুলার কথা মনে আছে?

মনে থাকবে না? সেসব দিনের কথা ভুলা যায়?

তুই খুব সিনেমাপাগল আছিলি। তোর মনে আছে, বলাকায় ববিতা-রাজ্জাকের সিনেমা দেখতে যাইতাম? নাইট শো। সিনেমা শেষে দুপুর রাইতে সলিমুল্লাহ হলের সমনে দিয়া হাঁটতে হাঁটতে গান গাইতে গাইতে হলে ফিরা আসতাম।

খুব মনে আছে, আর সেই রাতে যে তুই ববিতাকে স্বপ্নে দেখতি, সেটা মনে আছে? মোমিনের কথা শুনে হা হা করে হেসে ওঠে সফি।

বুঝলেন ভাবি, আমার দোস্তের চেহারা আছিল হিরোর মতো। মহিলাদের সঙ্গে লাইন মারনে ওস্তাদ। মনুর যে কত গার্লফ্রেন্ড আছিল। বাপ রে!

ওমা, তাই নাকি? বলেন তো সেসব কথা, ওর কাছে তো শোনা যাবে না, আপনার মুখ থেকেই শুনি। বলতে বলতে তীর্যক চোখে মোমিনের মুখের দিকে তাকাল মিতা। মোমিন মিটি মিটি হাসছে।

দোস্ত, নীরা এখন কোথায় আছে রে?

নীরা? কোন নীরা? মোমিনের কপালে চিন্তার রেখা ফুটে উঠল।

সেই যে, ইডেন কলেজ হোস্টেলে থাকত। একসঙ্গে নিউ মার্কেটে ঘোরাঘুরি করতি। এক দিন পিঠা বানাইয়া, হলে নিয়া আসছিল, মনে নাই? সফি উদ্গ্রীব চোখ মেলে কিছুক্ষণ মোমিনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। মোমিনের চোখে একটা কিছু ছিল, যা অনুভব করে উত্তরের অপেক্ষা না করে হঠাত্ প্রসঙ্গ পাল্টাল সে।

মনে আছে দোস্ত, আমরা প্রথম যে দিন হাইকোর্টে নুরা পাগলার আড্ডায় গাঞ্জা খাইতে গেছিলাম? বুঝলেন ভাবি, মিতার দিকে চোখ ফিরিয়ে সফি বলে চলল, গাঞ্জা খাইয়া, হায় রে নাচন। মনু মিয়া যে এমন সুন্দর নাচতে পারে সেটা নিজ চোখে না দেখলে কোনো দিন বিশ্বাস করতাম না। বাপ্ রে!

সফির কথা শুনতে শুনতে ভেতরে ভেতরে উসখুস করে উঠল মোমিন। দুই বন্ধুতে মিলে কথার ঝাঁপি খুলে বসেছিল, মনে হচ্ছে সফির বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে ঝাঁপি থেকে এখন কথার সঙ্গে পিলপিল করে কাঁকড়া, বিছা বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সফির কথা শুনে মিতা যে আমোদ পাচ্ছে সেটা তার চোখ-মুখের অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট। কেমন আগ্রহ নিয়ে সে সফির মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

ভাই বলেন, দুই বন্ধুতে মিলে আর কী কী করেছেন? মিতা আস্তে করে বলল।

সে অনেক কথা ভাবি, আপনার সামনে তো সব বলা যাবে না, মাথা দুলাতে দুলাতে সফি বলল, আমরা দুই দোস্ত যখন একসঙ্গে আড্ডা দেব, সেই সব ঘটনা নিয়ে গল্প করব আর হাসাহাসি করব।

কথা, হাসি-ঠাট্টায় সময়টা মাতিয়ে রাখল সফি। তিনজন মিলে রেস্টুরেন্টে খেল। মোমিন বিল দিতে গেলে তার হাত থেকে সফি বিলটা কেড়ে নিল। কিছুতেই বিল দিতে দিল না। রুমে শুতে যাওয়ার আগে মোমিনের হাত চেপে ধরে বলল, আমি কাল বরিশাল যাব, পরশু দিন ফিরে শাহ আমানত থেকে ব্যাংককের ফ্লাইট ধরব। তোর সঙ্গে দেখা হওয়ায় কি যে ভালো লাগছে দোস্ত, সেটা বোঝাতে পারব না। যেখানেই থাকি, তোর সঙ্গে যোগাযোগ হবে।

হোটেলের রুমে ফেরার পর মিতাকে হঠাত্ কেমন যেন নিষ্প্রভ মনে হলো। সে মাথা ধরার কথা বলে চুপচাপ বিছানায় শরীর এলিয়ে দিল। মোমিন বারবার তার শরীরে হাত বুলাল, মিতা কোনো সাড়া দিল না, কোনো আগ্রহ দেখাল না।

খুব ভোরেই চলে গেছে সফি। মোমিন চেক আউট করতে গিয়ে দেখল সফি তাদের দুই রাতের হোটেল বিল মিটিয়ে দিয়ে গেছে। মিতাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিল সে।

দুই দিন খুবই ব্যস্ত থাকল সফি। এক ফাঁকে মোমিনকে ফোন করেছিল। মোমিন অফিসে ব্যস্ত থাকায় কুশলাদি বিনিময় করেই কথা শেষ করেছে সফি। বলেছে প্লেনে চড়ার আগে ফোন করবে। সফি কথা রেখেছে। এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন শেষ হলে বোর্ডিং লাউঞ্জে বসে বিদায় বলার জন্য বন্ধুকে ফোন করল। নাম্বার টিপে ফোন কানে তুলল। ফোন বাজতে বাজতে থেমে গেল, ওপাশে কেউ ফোন তুলল না। একটু অপেক্ষা করল সে। মোমিন কল ব্যাক করল না দেখে আবার ফোন করল। এবারও মোমিন ফোন তুলল না বলে একটু বিরক্ত বোধ করল সে। হাতে সময় বেশি নেই। যেকোনো সময় বোর্ডিং শুরু হবে। আবার মোমিনের নাম্বার টিপল সে। এবার বোধ হয় ফোন তুলল মোমিন।

হ্যালো—ওপাশে মেয়েলি গলায় কেউ বলে উঠল।

সালামালেকুম ভাবি, কেমন আছেন?

কে বলছেন? ওপাশ থেকে মহিলার সন্দিগ্ধ গলা শোনা গেল।

আমি মনুর বন্ধু। নাম সফি, চিনতে পারছেন?

সফি? কোন সফি? আপনাকে তো চিনতে পারলাম না?

আরে, এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলেন? দুই দিন আগেই না মনু আর আপনার সঙ্গে কক্সবাজারে সাইমন হোটেলে দেখা হইল!

আমাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে কক্সবাজারে? সাইমন হোটেলে?

আরে, আপনাদের পাশের রুমটায় না আমি আছিলাম? মোমিনের সঙ্গে এত বছর পর দেখা হইল। সারা বিকেল আমরা তিনজন একসঙ্গে থাকলাম, গল্পগুজব করলাম, রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে ডিনার খাইলাম। ভুলে গেছেন? কি আশ্চর্য কথা! আপনি মনুর স্ত্রী মিতা ভাবি বলতেছেন না? আমি তো আপনার গলা শুনেই চিনে ফেলছি!

শোনেন, আপনার বন্ধু বাজারে গেছেন। মোবাইলটা সঙ্গে নিতে ভুলে গেছেন বোধ হয়। উনি এলে আপনাকে ফোন করবেন।

গম্ভীর থমথমে গলায় কথাগুলো বলে ফোন রেখে দিল মহিলা। থতমত খেল সফি। মিতা ভাবির কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করেনি। কী সুন্দর হাসি-খুশি চেহারার মহিলা মিতা ভাবি! কী রকম মায়া মাখানো কণ্ঠস্বর! অথচ টেলিফোনে তার কথা শুনে মনে হলো এ যেন অচেনা অন্য কোনো মহিলা! সফিকে যেন চিনতেই পারল না!

সফি মনে মনে উসখুস করতে লাগল। বোর্ডিং শুরু হয়ে গেছে। মোমিন এখনো ফোন করল না। হয়তো এখনো বাজার থেকে ফেরেনি সে। বিদায়ের সময় দোস্তের সঙ্গে কথা হলো না। সফি বিষণ্ন্ন মনে বোর্ডিং গেটের দিকে এগিয়ে গেল। যেতে যেতে ভাবল নিউজিল্যান্ড পৌঁছে বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

মেঘ ফুঁড়ে পূর্ব দিগন্তের দিকে ছুটে চলছে প্লেন। সফি কানে হেডফোন লাগিয়ে হিন্দি গান শুনতে শুনতে ঠাণ্ডা পেপসির গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে। আর তখন, সে ভাবতেও পারছে না বন্ধুকে বিদায় জানিয়ে ফোন করতে গিয়ে বন্ধুর সংসারে কি ভয়ংকর একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিয়ে এসেছে। মিতা নামের মেয়েটির উদ্দেশে খিস্তিখেউড় উগরাতে উগরাতে খেপার মতো হাতের কাছে যা পাচ্ছে তাই মেঝেতে ছুড়ে মারছে মোমিনের স্ত্রী রুমা আর ঘরের এক কোনায় সোফার ভেতর অপরাধীর মতো ঘাড় গুঁজে ঝিম মেরে বসে আছে মোমিন।

মন্তব্য