kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্বসাহিত্য

রিয়াজ মিলটন   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



 ভিক্টর হুগো

হাঞ্চব্যাক অব নটর ডেম শীর্ষে

ফরাসি সাহিত্যিক ভিক্টর হুগোর ১৮৩১ সালের গোথিক উপন্যাস ‘দ্য হাঞ্চব্যাক অব নটর ডেম’ সম্প্রতি হঠাৎ করেই ফ্রান্সে বেস্টসেলার বইয়ের শীর্ষে অবস্থান করে। কারণ আর কিছুই নয়, প্যারিসে সম্প্রতি ৮৫০ বছরের পুরনো নটর ডেম ক্যাথেড্রালে অগ্নিকাণ্ড। আগুনে মধ্যযুগীয় ওই ভবনের অনেকটাই ধ্বংস হয়েছে। ১৪৮২ সালের প্যারিসের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাসের প্রধান চরিত্র এক সুন্দরী জিপসি মেয়ে এসমেরাল্ডা, যার প্রেমে পড়ে অনেকেই, বিশেষ করে নটর ডেম ক্যাথেড্রালের ঘণ্টাবাদক আধা অন্ধ, বধির কোয়াসিমোদো। এসমেরাল্ডার করুণ মৃত্যু আর আগুনে নটর ডেমের ধ্বংসের মধ্য দিয়ে উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে। সমালোচকদের অনেকের মতে, উপন্যাসের প্রধান চরিত্র আসলে ওই নটর ডেম ক্যাথেড্রাল নিজেই। ফ্রান্সে মধ্যযুগীয় স্থাপত্যশিল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার জন্যই লেখক উপন্যাসটি লিখেছেন। কারণ, ওই সময় ফ্রান্সে পুরনো স্থাপত্যগুলো ভেঙে আধুনিক ভবন তৈরির একটি হিড়িক দেখা যায়। হুগোর উপন্যাসে নটর ডেম পুড়ে যাওয়ার দৃশ্যকল্প যেভাবে সাজানো হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই এবারও চোখের সামনে পুড়ে যেতে দেখল প্যারিসের লোকজন। অবশ্য ফ্রান্সে মানুষের ভেতরে জাতীয় সংকটময় মুহূর্তে সাহিত্যের আশ্রয় নেওয়ার ঝোঁক নতুন নয়।

 কাফকা

অপ্রকাশিত কাফকা শিগগিরই!

ফ্রাঞ্জ কাফকার অপ্রকাশিত রচনাগুলো শিগগিরই দেখতে পাবে ভক্ত-পাঠকরা। সম্প্রতি জুরিখের একটি আদালতের দেওয়া রায়ে কাফকার রচনাগুলোর মালিকানা নিয়ে প্রায় এক দশক ধরে চলা বিরোধের ইতি ঘটতে চলেছে। রায়ে বলা হয়েছে, জুরিখের ব্যাংকের একটি ভল্টে কাফকার রচনাগুলোর বাক্সটি খোলা হোক এবং সেগুলো ইসরায়েলের ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে দেওয়া হোক। এর আগে ইসরায়েলের আদালতও একই রায় দেন। কাফকার ওই রচনাগুলোর মধ্যে কী আছে, তা অবশ্য কেউ জানে না। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর ভেতরে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অনেক রচনার শেষ অংশ থাকতে পারে। কারণ, কাফকার মৃত্যুর পর তাঁর যেসব রচনা প্রকাশ করা হয়েছে, তার অনেকগুলোই ছিল অসমাপ্ত। কাফকা মৃত্যুর আগে তাঁর বহু রচনা পুড়িয়ে ফেলেন। যা পোড়াতে পারেননি, তা তাঁর মৃত্যুর পরে পুড়িয়ে ফেলতে অনুরোধ করে যান বন্ধু ম্যাক্স ব্রডকে। কিন্তু ব্রড তাঁর অনুরোধ না রেখে সেগুলোর অনেকগুলোই প্রকাশ করেন। বাকিগুলো দিয়ে যান তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী এস্থার হফকে, যাতে তিনি কোনো ইনস্টিটিউটকে সেগুলো দিয়ে দেন। কিন্তু এস্থার হফ তা না করে এর কিছু বিক্রি করেন আর বাকিগুলো দিয়ে যান দুই মেয়েকে। ওই দুই মেয়ের সঙ্গেই ইসরায়েলের মামলা চলে এসব রচনার মালিকানা নিয়ে। ইসরায়েলের বক্তব্য, কাফকার রচনা ইহুদিদের সম্পত্তি।

রিচার্ড পাওয়ারস                                                     ফরেস্ট গ্যানডার

অবশেষে পাওয়ারস পেরেছেন

‘দি একো মেকার’ উপন্যাসের জন্য ২০০৬ সালে পুলিত্জার পুরস্কারের ফিকশন ক্যাটাগরির ফাইনালিস্ট ছিলেন রিচার্ড পাওয়ারস। উপন্যাসটি সে বছর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড এনে দিলেও পুলিত্জার পাননি পাওয়ারস। কিন্তু এ বছর ঠিকই পুরস্কারটি বাগিয়েছেন পাওয়ারস। তাঁর বহুল প্রশংসিত উপন্যাস ‘দি ওভারস্টোরি’ তাঁকে পুলিত্জারের ফিকশনের পুরস্কারটি এনে দিয়েছে।  উপন্যাসটি গত বছর প্রকাশের পরপরই পাঠক ও সমালোচক মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। ৯টি চরিত্র আর তাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত বৃক্ষজগতের কাহিনি বুনেছেন পাওয়ারস। বৃক্ষ সংরক্ষণ ও আমাদের ভবিষ্যৎ, পরিবেশবিচ্যুত মানুষ—এ নিয়ে এক আশ্চর্য ইকোলজিক্যাল উপন্যাস পাওয়ারসের ‘দি ওভারস্টোরি’। এ বছর কবিতায় পুলিত্জার পেয়েছেন কবি ফরেস্ট গ্যানডার তাঁর ‘বি উইথ’ কাব্যগ্রন্থের জন্য। নাটকের পুরস্কার পেয়েছেন জ্যাকি সিবলিস ড্রুরি তাঁর ‘ফেয়ারভিউ’ নাটকের জন্য। হিস্ট্রির পুরস্কার পেয়েছেন ডেভিড ডাব্লিউ ব্লাইট ‘ফ্রেডরিক ডগলাস : প্রফেট অব ফ্রিডম’ গ্রন্থের জন্য। আর বায়োগ্রাফি ও নন-ফিকশনের পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে জেফরি সি স্টুয়ার্ট ‘দ্য নিউ নেগ্রো : দ্য লাইফ অব অ্যালেইন লক’ গ্রন্থ এবং এলিজা গ্রিসওল্ড ‘অ্যামিটি অ্যান্ড প্রসপারিটি : ওয়ান ফ্যামিলি অ্যান্ড দ্য ফ্র্যাকচারিং অব আমেরিকা’ গ্রন্থের জন্য।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা