kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

লেখার ইশকুল

কবিতায় নিবেদিত আনা আকমাতোভা

দুলাল আল মনসুর   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কবিতায় নিবেদিত আনা আকমাতোভা

 

বিশ শতকের রুশ কবিদের অন্যতম আনা আঁদ্রিয়েভা গোরেনকোর লেখক আনা আকমাতোভা। কবিতা ছাড়াও তিনি স্মৃতিকথা, আত্মজীবনী, সাহিত্য সমালোচনা লিখেছেন। আলেকজান্ডার পুশকিনের ওপর তাঁর লেখা বিশেষ মর্যাদা ও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। এ ছাড়া ইতালীয়, ফরাসি, আমেরিকান ও কোরীয় কবিতার চমত্কার অনুবাদ করেছেন। জীবদ্দশায় তিনি বিপ্লবপূর্ব রাশিয়া ও সোভিয়েত রাশিয়া উভয়েরই অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তবু তাঁর কবিতা রাশিয়ার ধ্রুপদি সংস্কৃতিকে অন্য সব নতুন নতুন পরিবর্তনের জোয়ার থেকে রক্ষা করে চলে। সমাজতান্ত্রিক বাস্তবতার আদর্শগত কাঠামোর দমবন্ধ অবস্থা থেকেও মুক্তি দেন তাঁর দেশে সংস্কৃতিকে। কবিতার আবহ অরাজনৈতিক হলেও তাঁর কবিসত্তা বিশ শতকের রাশিয়ার ট্র্যাজিক আত্মার প্রতিনিধিত্ব করে। ওসিপ ম্যান্ডেলস্ট্যাম, বোরিস পাস্তারনাক ও মারিয়া সুয়েতেভার মতো কবিভাগ্য ছিল আকমাতোভারও। জীবনের অনেক সময় কেটেছে বিপর্যয় মোকাবেলা করে। রাজকীয় ব্যক্তিত্বের ওপর ছায়া পড়েছে বিষণ্নতার। কবিতা ও অনেক গদ্য লেখায় এ রকম বিষণ্ন ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি দেখা যায়।

কৈশোরেই কবিতা লেখা শুরু করেন আনা। কবি নিকোলে গুমিলেভ সম্পাদিত প্যারিস থেকে প্রকাশিত ‘সিরিয়াস’ পত্রিকায় ১৯০৭ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ছাপা হয়। গুমিলেভ অবশ্য ব্যাপক সম্পাদনার পর আনার কবিতা প্রকাশ করেন। গুমিলেভকে কবিতার মধ্যে অনুসরণ না করলেও তাঁর পরামর্শ মেনে চলেন আনা।

প্রথম কবিতার বই ‘সন্ধ্যা’ প্রকাশ করেন ১৯১২ সালে। প্রথম বই থেকেই তিনি কবিতাপ্রেমীদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা পান। পরে আরো প্রায় চারটি বইয়ের কবিতায় প্রধানত বিষণ্ন আবহের মধ্য দিয়ে ভালোবাসার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। ধ্রুপদি শব্দ চয়ন, প্রাণবন্ত বর্ণনা ও রঙের দক্ষ ব্যবহার—এসব কবিতার সাধারণ বৈশিষ্ট্য। তাঁর এসব কবিতায় আছে সুরের প্রাধান্য, যা চমত্কার স্রোতের মতো গতি দিয়ে যায় পাঠের সময়; ‘প্রেম’ কবিতায় শোনা যায়, ‘তোমার হূদয় পাগল করে/এখন আমার প্রেম ঘুমায় খুদে একটা সাপের মতো;/তারপর কত কত দিন ঘুঘুর মতো ছোট সাদা জানালায় বসে/ডেকে যাবে অবিরত।’

 

আনার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে গুমিলেভ বারবার আনাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে থাকেন; আনা অসম্মতি জানাতেই থাকেন। এভাবে একসময় তিনি সম্মতি দেন এবং ১৯১০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কিছুদিনের জন্য আনা প্যারিস যান। সেখানে আনার পরিচয় হয় ইতালীয় চিত্রকর আমেদিও মোদিগ্লিয়ানির সঙ্গে। তাঁর সঙ্গে আনার সাক্ষাৎ একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মোদিগ্লিয়ানি আনার বিশটির মতো প্রতিকৃতি আঁকেন। একটি প্রতিকৃতি আনা আজীবন সঙ্গে রেখেছেন। অন্যদিকে মোদিগ্লিয়ানিকে নিয়ে কবিতা লেখেন আনা। সুরকার আর্তুর লুরির সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কে জড়ান আনা এবং তাঁকে নিয়েও কবিতা লেখেন।

আনা ও গুমিলেভ দুজনই সাধারণ মানুষের স্বভাবের বাইরের কিছু বৈশিষ্ট্য লালন করতেন। গুমিলেভ ছিলেন ভ্রমণপিপাসু। আনা নিজেকে নিবেদন করেন কবিতায়। আনা কখনো স্বামীর প্রতি খুব মারাত্মক আবেগী ভালোবাসাও অনুভব করেননি। তাঁদের সংক্ষিপ্ত বিবাহিত জীবনে একমাত্র ছেলে লেভ গুমিলেভের জন্ম ১৯১২ সালে। ছেলেকে তাঁর শাশুড়ির কাছে রেখে কবি বেরিয়ে পড়েন বোহেমীয় জীবনে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা