kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

প্রদর্শনী

প্রকৃতির গভীরে বিমূর্ত অন্তরে শিল্পী গিয়াসউদ্দিন

আতা সরকার

১২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রকৃতির গভীরে বিমূর্ত অন্তরে শিল্পী গিয়াসউদ্দিন

রুইন্স

সৃজনশীলতার মন সব সময় সরলরৈখিক নয়। এমন মন সব সময় সোজাসাপ্টাভাবে পাঠ করাও যায় না। ভাববলয় ও কল্পলোক জটিল রেখার আঁকিবুঁকিতে রঙের বহুমাত্রিক আবর্ত রচনা করে—ঢুকে পড়ে গভীর রহস্যময়তায়। শিল্পীর মন সৃষ্টির আনন্দ-বেদনায়, উল্লাসে-উন্মাদনায়, পূর্ণতায়-হাহাকারে পরিপাটি ক্যানভাসে রং ও রংহীনতার বিশাল জগত্ সৃষ্টি করে ফেলেন, যা বহুমাত্রিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে কিংবা ব্যাখ্যাহীনতাও। এ এক বিচিত্র উদ্ভাস। 

তার ঢেউ আমাদের দেশের শিল্পজগত্ ও শিল্পী মানসে অভিঘাত সৃষ্টি করেছে ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে। এখন তা শিল্পীর মন ও মননের সঙ্গে একীভূত হয়ে রয়েছে। এমন শিল্পকর্মের ধারায় শিল্প মূর্ত হয়ে উঠেছে বিমূর্ত ভাষ্যে। এ দেশে এখনকার সময়ে এমন ধারার একজন অগ্রগণ্য শিল্পী কাজী গিয়াসউদ্দিন। তাঁরই সৃষ্টির প্রদর্শনী চলছে বেঙ্গল শিল্পালয়ে। ‘দ্য ওয়ার্ক অব ক্রিয়েশন’ শিরোনামে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমেই নতুনভাবে বিন্যস্ত বেঙ্গল শিল্পালয়ের যাত্রা শুরু। 

যেভাবেই বিমূর্ত শিল্পধারার উত্থান ও বিকাশ হোক না কেন, তা এখন বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পধারা। উত্তর-আধুনিকতার সীমানা পেরিয়ে গেলেও শিল্পকর্মে বিমূর্ত ধারা আরো গভীর ও ব্যঞ্জনাময় স্রোতের ধারায় বিকশিত হয়ে চলেছে।

ভারতীয় শিল্পে বিমূর্ত ধারায় কাজ করে অনেকেই খ্যাতিমান হয়েছেন। বাংলাদেশে এর চর্চা ষাটের দশকে শুরু হয়। কিন্তু বিমূর্ত ধারাকে আত্মস্থ ও তাত্পর্যমণ্ডিত করে তোলেন শিল্পী মোহাম্মদ কিবরিয়া। তাঁরই ধারানুগমন করেন পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীরা।

কাজী গিয়াসউদ্দিনের দীর্ঘ নিষ্ঠার পরিচয় ধারণ করে প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে ‘নিসর্গ’-১’ চিত্রটি। এ ছবিটি আঁকতে সময় নিয়েছেন বিশ বছর। এর মধ্যে আরো আরো ক্যানভাসে নিঃসর্গের সঙ্গে কথা হয়েছে অনেক। রং চড়িয়েছেন। আর এই ক্যানভাসটি বাঙ্ময় হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছেন দিনের পর দিন। বছরের পর বছর এর ওপর রংতুলির শেষ আঁচড় পড়ে ২০১৭ সালে। শিল্পকলায় আধুনিক অভিযাত্রায় বাস্তবতা, মনোজগত্, ক্যানভাস পটভূমি, রংতুলি প্রকরণ কাঠামো একীভূত হয়ে প্রকৃতির অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ও শক্তিকে উদ্ঘাটিত করেছে।

মন্তব্য