kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

লেখার ইশকুল

সাহিত্যের জন্য নিকলাই নিক্রাসফের ত্যাগ

দুলাল আল মনসুর   

১২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাহিত্যের জন্য নিকলাই নিক্রাসফের ত্যাগ

নিকলাই আলেক্সিয়েভিস নিক্রাসফ রুশ কবি, গদ্য লেখক, সাহিত্য সমালোচক ও প্রকাশক। রাশিয়ার কৃষিজীবী সমাজের কথা কবিতায় এনেছেন গভীর মমতা আর আবেগের উচ্চারণে। তিনি রাশিয়ার উদারপন্থী ও প্রগতিশীল সমাজের অন্যতম প্রধান কণ্ঠ হয়ে ওঠেন তাঁর এ রকম কবিতার গুণে। উদারতা আর প্রগতির কথা বিবেচনা করে তাঁকে ভিসারিওন বেলিনস্কি, নিকোলে চেরনিশেভস্কি ও ফিওদর দস্তয়েভস্কির কাতারে গণ্য করা হয়ে থাকে। রুশ কবিতায় ড্রামাটিক মনোলগ প্রচলনের কৃতিত্ব দেওয়া হয় নিক্রাসফকে। 

১৮৩২ সালে তাঁকে ইয়ারোস্লাভল জিমনেসিয়াম নামক স্কুলে ভর্তি করা হয়। সেখানে শিক্ষকদের সঙ্গে সমস্যা তৈরি হয় তাঁর। তবে স্বাস্থ্য সমস্যার অজুহাতে তাঁর বাবা সেখান থেকে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। স্কুলের পড়াশোনা ভালো না হলেও সেখান থেকেই তাঁর মধ্যে কাব্যপ্রেম তৈরি হয়। কবিতা পাঠের একপর্যায়ে তাঁর ভালো লেগে যায় বায়রন ও পুশকিনের কবিতা। এরপর তাঁর বাবার ইচ্ছা জাগে তাঁকে সেনাবাহিনীতে পাঠাবেন। কিন্তু নিক্রাসফের ইচ্ছা তেমন ছিল না। তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৫ বছর বয়সেই তাঁর কবিতার খাতা ভরে ফেলেন। বাবার ইচ্ছামতো ক্যাডেট কোরে ভর্তি না হওয়ার কারণে বাবা তাঁর সব খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেন। প্রাইভেট পড়ানো, সাহিত্য পত্রিকায় লেখালেখি এবং শিশুদের জন্য কবিতায় রূপকথা তৈরি করার মাধ্যমে উপার্জন করেন তিনি।  নিক্রাসফ প্রথম কবিতার বই প্রকাশ করেন ১৮৪০ সালে। প্রথম বইয়ের কবিতা সম্পর্কে ভাসিলি ঝুকোভস্কি তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, হয়তো এ বইটি সমালোচকদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। এ জন্যই তিনি নিক্রাসফকে ছদ্ম নাম ব্যবহার করতে বলেন। ঝুকোভস্কির আশঙ্কা সত্যি হয় : আলেক্সে গালাখভ ও ভিসারিওন বেলিনস্কি খারিজ করে দেন এ বইয়ের কবিতামান। তবে পিওতর প্লেতনিওভ ও সেনোফনন্ত পোলেভয় প্রশংসা করেন তাঁর কবিতার। সমালোচকরা যতটা কাঁচা বলে মন্তব্য করেছিলেন, ততটা নিম্নমানের ছিল না তাঁর প্রথম বইয়ের কবিতাগুলো। কারণ তাঁর পরবর্তী কাব্যগ্রন্থগুলোতে প্রথম বইয়ের কবিতার লক্ষণ স্পষ্ট। নিক্রাসফের আরেক পৃষ্ঠপোষক ছিলেন নাট্য ম্যাগাজিন সম্পাদক ফিওদর কোনি। কোনির সঙ্গে তাঁর রুচির আরেক জায়গায় মিল দেখা যায়—তাঁরও নাটকের প্রতি দুর্বলতা ছিল। এ প্রসঙ্গে আরো একজন বিখ্যাত কবির সঙ্গে তাঁর মিল আছে—ভিক্টরীয় যুগের ইংরেজ কবি রবার্ট ব্রাউনিংয়ের সঙ্গে। প্রথম দিকে নাটক দিয়ে হাত পাকানোর চেষ্টা করেন ব্রাউনিং। দর্শকদের মন জয় করতে না পেরে কবিতায় মনোনিবেশ করেন। তবে নাটকের ছায়া লেগে থাকে তাঁর কাব্য সৃষ্টিতে। 

যদিও নিক্রাসফের প্রথম বইয়ের কড়া সমালোচকদের অন্যতম ছিলেন ভিসারিওন বেলিনস্কি, তবু তাঁর মাধ্যমে নিক্রাসফ বৃহত্তর একটা সাহিত্যিক মহলে বিচরণ শুরু করেন। বেলিনস্কির সাহিত্য মহলের বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন ইভান তুর্গেনেভ, ইভান পানায়েভ, পাভেল আনেনকভ প্রমুখ। তাঁদের সবার সঙ্গে ওঠাবসার সুবাদে নিক্রাসফের কবিমানসের পরিধি আরো বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর আগে বেলিনস্কি তাঁর বিভিন্ন বিষয়ের প্রবন্ধ ও অন্যান্য লেখা প্রকাশের দায়িত্ব দিয়ে যান নিক্রাসফকে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা