kalerkantho

লেখার ইশকুল

রোমান্টিক লারমোনতফ

দুলাল আল মনসুর   

৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোমান্টিক লারমোনতফ

রোমান্টিসিজমের মহান ব্যক্তিত্বের অধিকারী মিখাইল ইউরিয়েভিচ লারমোনতফ কবিতা লিখেছেন, গদ্য লিখেছেন, লিখেছেন নাটক এবং ছিলেন চিত্রকর। মিখাইল লারমোনতফের জন্ম মস্কোর এক অভিজাত পরিবারে। বাবা ইউরি প্রেত্রোভিচ লারমোনতফ তাঁদের পূর্বপুরুষদের মতো সামরিক অফিসার ছিলেন। মা মারিয়া মিখায়েলোভনা আরসেনায়েভার পরিবারও ছিল অভিজাত বংশের; কিন্তু তাঁদের বিবাহিত জীবন শান্তির ছিল না। সাহিত্যের ইতিহাসবিদ এবং লারমোনতফ গবেষক আলেকজান্ডার স্কাবিশেভস্কির মতে, লারমোনতফের মায়ের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা এবং তাঁদের পরিবারে তাঁর নানির অতিরিক্ত খবরদারির কারণে বাবা হাঁপিয়ে ওঠেন। এ ছাড়া ইউলিয়া নামের এক নারীর সঙ্গে ইফরির প্রেমের কারণও দায়ী ছিল। মাত্র একুশ বছর বয়সে মারিয়া মারা যান। বাবা এবং নানির মধ্যে টানাটানিতে শিশু লারমোনফের দায়িত্ব তাঁর নানিই পান। নানির অপরিসীম আদরে বড় হন লারমোনতফ।

জীবনের ক্ষুদ্র পরিসরের দিক থেকে তিনি ছিলেন ইংরেজ রোমান্টিক কবি বায়রন, শেলি এবং কিটসের মতোই। জন্ম ১৮১৪ সালে, মৃত্যু ১৮৪১ সালে। বায়রনের কবিতার ভক্ত ছিলেন লারমোনতফ। তাঁর কাব্যের মধ্যে অনেক জায়গায় বায়রনের নায়কের ইমেজ স্পষ্ট। পুশকিনের পর তাঁকে রুশ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ কবি মনে করা হয়। আধুনিক সময়ের রুশ সাহিত্যেও তাঁর প্রভাব জোরালো।

জীবদ্দশায় মাত্র একটি কাব্য সংকলন প্রকাশ করেছিলেন লারমোনতফ। মৃত্যুর পরের বছর ১৮৪১ সালে আরো তিনটি ভলিউম প্রকাশ করা হয়। তবে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে অনেক কবিতা ছাড়পত্রদাতাদের কাঁচির কর্তনে বাদ যায়। তবু তাঁর লেখার বিরাট অংশ পরে প্রকাশ করা হয়। ৩০টির অধিক দীর্ঘ কবিতা, ছয় শর মতো হ্রস্ব কবিতা, একটি উপন্যাস এবং পাঁচটি নাটক প্রকাশ করা হয় তাঁর অতিহ্রস্ব লেখকজীবনের সৃষ্টি হিসেবে।

বায়রনের কবিতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মাত্র তেরো বছর বয়সে লেখা শুরু করেন লারমোনতফ। ১৯২০-এর দশকের কবিতাগুলোর মধ্যে ‘দ্য কোর্সেয়ার’, ‘ওলেগ’, ‘টু ব্রাদার্স’ কিংবা ‘নোপোলিয়ন’-এ পুশকিনের ছায়া পরিষ্কার থাকলেও এসব কবিতার মধ্যে বায়রনিক নায়কের প্রভাব স্পষ্ট : সমাজচ্যুত, প্রতিশোধপরায়ণ, জগতের প্রচলিত নিয়মের বাইরে ও বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থানের ব্যক্তিত্ব। ১৮৩০-এর দশকে লারমোনতফের কবিতা আগের চেয়ে আরো বেশি অন্তর্বীক্ষণিক ও আন্তরিক হয়ে পড়ে। তবে কবিতায় ডায়েরির মতো ঘটনাক্রম স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বায়রনের নায়কের মতো সমাজের বাইরে অবস্থানরত ব্যক্তি ইমেজ তৈরির জন্য তিনি যে অতিরঞ্জিত কল্পনার আশ্রয় নেন, সেখানে কিছু গুণের মিল পাওয়া যায় তাঁর ব্যক্তিগত মানস এবং অভিজ্ঞতার সঙ্গে। ইয়েকাতারিনা সুশকোভা কিংবা নাতালিয়া ইভানোভাকে উপলক্ষ করে লেখা প্রেমের কবিতাগুলোতে কল্পনা এবং আবেগের মিশেল ব্যক্তিগত পরিচয় ছাপিয়ে শৈল্পিক উচ্চতায় উঠে গেছে।

মিখাইল লারমোনতফের রোমান্টিক মাস্টারপিস বলা হয় ‘ডেমন’কে। ১৮২৯ সাল থেকে ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত তিনি এ কবিতাটি লেখেন। ইউরোপীয় রোমান্টিক কবিতারও মাস্টারপিস বলা হয় এটাকে। এ কবিতা শুরু করার সময় কবির বয়স ছিল ১৪ বছর। শেষ করেন তাঁর নির্বাসনের সময়।

মন্তব্য