kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ মে ২০১৯। ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৫ রমজান ১৪৪০

বই আলোচনা

আলাপে-অনুবাদে চলচ্চিত্রের বার্গম্যান

বাশিরুল আমিন   

৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আলাপে-অনুবাদে চলচ্চিত্রের বার্গম্যান

সুইডিশ আত্মার প্রতিভূ ইঙ্গমার বার্গম্যান : অদিতি ফাল্গুনী। প্রকাশক : কবি প্রকাশন। প্রচ্ছদ : সব্যসাচী হাজরা। মূল্য : ১৮০ টাকা

থিয়েটারকে স্ত্রী ও আর সিনেমাকে রক্ষিতা হিসেবে গ্রহণকারী ইঙ্গমার বার্গম্যান। এই সুইডিশ লেখক, পরিচালক, প্রযোজক ও থিয়েটারকর্মীকে গণ্য করা হয় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ পরিচালকদের একজন হিসেবে। তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে লিখেছেন অদিতি ফাল্গুনী। বার্গম্যানের শিল্পসত্তা ও তাঁর চলচ্চিত্রজীবনকে তুলে ধরেছেন স্বভাষা-ভাবনায়। কিছুটা তর্জমায়। ‘সুইডিশ আত্মার প্রতিভূ ইঙ্গমার বার্গম্যান—সপ্তম সিলমোহর, কুমারী ঝর্ণা ও অন্যান্য’ গ্রন্থে।

সাতটি খণ্ডাংশে তিনি বার্গম্যানের চলচ্চিত্র ও চিত্রনাট্যকে মূল্যায়ন করেছেন। কখনো নিজের জবানে, কখনো অন্যের আলাপে। ‘দ্য সেভেন্থ সিল’ শিরোনামে শুরু করেছেন বইয়ের প্রথম অধ্যায়টি। ১৯১৮ সালে উপাসনালয়ে জন্ম নেওয়া এক বিশপের সন্তান কিভাবে হয়ে ওঠেন প্রভাব বিস্তারকারী সেলুলয়েড কারিগর—এসব বয়ান করেছেন গল্পের আঙ্গিকে। অল্পকথায় তাঁর জীবনকে এঁকেছেন বেশ স্পষ্ট করেই। তাঁর কর্মও উপস্থাপিত হয়েছে সমানভাবে। লেখকের ভাষায়, বার্গম্যানের সিনেমা মূলত মানুষের জীবনের অস্তিত্ববাদী নানা প্রশ্ন, যেমন—মরণশীলতা, একাকিত্ব ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে।

১৯৫৭ সালে নির্মিত ‘দ্য সেভেন্থ সিল’ সিনেমাটি বার্গম্যানের পরিচালনায় একটি নাটক-ফ্যান্টাসিনির্ভর চলচ্চিত্র। যা সারা বিশ্বের ধ্রুপদি চলচ্চিত্রের একটি মাইলস্টোন। মৃত্যুর সঙ্গে দাবা খেলতে বসা এক নাইটের গল্প। প্রথম অধ্যায়েই অদিতি ফাল্গুনী চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্যের একটি দারুণ ঝরঝরে অনুবাদ উপহার দিয়েছেন পাঠকদের।

দ্বিতীয় অধ্যায় ইঙ্গমার বার্গম্যানের ‘কুমারী ঝর্ণা’ প্রবন্ধে উঠে এসেছে বার্গম্যানের সংকট ও সংগ্রামের কথা। মাত্র ৭০ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার ছোট দেশ একজন চলচ্চিত্রকারকে শুধু অর্থনৈতিক ভয়েই ফেলে দেয় না; বরং রীতিমতো হতাশ করে ফেলে। কেননা শিল্পের নানা আঙ্গিকের চেয়ে সিনেমা জনতুষ্টির ওপর অধিকতর নির্ভরশীল। ফলে তাঁকে এ সত্য মেনে নিতে হয়েছিল—চলচ্চিত্র হলো রোমক দেবতা জানুসের মতো দ্বিমুখী, যার এক মুখ পুঁজিঘন শিল্প, আর অন্য মুখটি ললিতকলাকে নির্দেশ করে। তবে নির্মোহ সত্য হলো—দুদিকে খেয়াল দিলেও শিল্পের ওপর পুঁজিকে কখনো ঠাঁই দেননি বার্গম্যান।

একনজরে বার্গম্যানের জীবনে চোখ বুলিয়ে লেখক মূলত তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন বার্গম্যানের বিখ্যাত দুটি চলচ্চিত্র ‘দ্য সেভেন্থ সিল ও দ্য ভার্জিন স্প্রিং’-এর ওপরই।

 ১৯৬০ সালে নির্মিত ‘দ্য ভার্জিন স্প্রিং’ বা ‘কুমারী ঝর্ণা’ চলচ্চিত্রের জন্য ১৯৬১ সালে অস্কার পুরস্কার পান ইঙ্গমার। যা ‘দ্য ডটার অব টোর অব ভাঞ্জ’ নামে একটি মধ্যযুগীয় লোকগীতির ওপর ভিত্তি করে বানানো সিনেমা। মূল লোকগীতিটির অনুবাদ করেছেন অদিতি ফাল্গুনী। নিপুণ শব্দ ব্যবহার ও গতিশীল বাক্যে। অনুবাদে রয়েছে মূল গীতিকার সমূহ আমেজ। সিনেমাটির নানা দিক আলোকপাতে এর অভিনেতা ও কলাকুশলীদের নিয়ে অল্পাকারে লিখেছেন তিনি।

গ্রন্থের গুরুত্বপূর্ণ আলাপটি হলো—বার্গম্যান ও সত্যজিতের ‘মৃত্যুর সাথে নৃত্য’। বার্গম্যানের সেভেন্থ সিলের ‘ডেন্স অব ডেথ’ ও সত্যজিত্ রায়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর ‘ভূতনৃত্য’ নিয়ে একটি তুলনামূলক আলোচনা করেছেন। যার সারকথা হলো, মৃত্যুর অন্তিম নৃত্যই আমাদের একত্র করতে পারে।

সচেতন পাঠকমাত্রই গ্রন্থটি পাঠে উপকৃত হবেন।

 

মন্তব্য