kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ধারাবাহিক উপন্যাস মৎস্যগন্ধা

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

৫ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

‘কৃষ্ণকে আমি আমার সঙ্গে নিয়ে যেতে চাই।’ আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায়ই ঋষি পরাশর বলে উঠলেন।

‘কী—?’ প্রায় চিত্কার করে বলল ভবানী।

সিন্ধুচরণ বিস্ময়ে বিদীর্ণ কণ্ঠে বলল, ‘এ কী বলছেন মুনিবর! কৃষ্ণকে নিয়ে যেতে চান মানে! কোথায় নিয়ে যাবেন!’

ঋষি পরাশরের কথা শুনে যার সবচেয়ে বেশি বিহ্বল হওয়ার কথা, সেই মত্স্যগন্ধা থাকল স্বাভাবিক। তার চোখেমুখে কোনো বিচলন নেই, দেহভঙ্গিতে কোনো দ্রোহ-বিদ্রোহ নেই। সে শুধু শ্লথ পায়ে উঁচু দাওয়াটির কাছে গেল। বসে পড়ে ঘরের খুঁটিতে ঠেস দিয়ে মুনির দিকে নিষ্পলক তাকিয়ে থাকল মত্স্যগন্ধা।

একেবারেই সহজ-স্বাভাবিক থাকল নরসিংহ জেঠা। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, পরাশরের এই প্রস্তাবটি তার আগে থেকেই জানা। মনে হচ্ছে, এ তো স্বাভাবিক একটা দাবি। নিজের পুত্রের অধিকার ঋষিবর চাইতেই পারেন না। যেন আগেই ঋষি পরাশর এ ব্যাপারটি নিয়ে নরসিংহের সঙ্গে বোঝাপড়া শেষ করেছেন।

কিন্তু দীর্ঘ নদীযাত্রায় ঋষি একটিবারের জন্যও কৃষ্ণ বিষয়ে কোনো দাবির কথা বলেননি। শুধু পুত্রজন্মের কথা জিজ্ঞেস করেছেন, নরসিংহকে কৃষ্ণ সুস্থ-সবল হয়েছে কি না জানতে চেয়েছেন।

নরসিংহ জেঠা মৃদ্যু একটু হেসে বলেছিল, ‘মত্স্যগন্ধার পুত্র জন্মেছে—জানি। সুস্থ-সবল কি না জানি না। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন-চার বছর আগে সিন্ধুচরণ কৃষ্ণের জন্মসংবাদ জানিয়ে গিয়েছিল। ঘোর সন্ধ্যার দিকেই ঘাটে এসেছিল সে। আজকে আপনার সঙ্গে যেমন করে দেখা হলো, সেই সন্ধ্যায়ও তার সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে দেখা হয়ে গিয়েছিল আমার। খবরটা দিয়েই ফিরতি পথে নৌকা ভাসিয়েছিল সিন্ধুচরণ। ভয় ছিল—গাঁয়ের কেউ যদি দেখে ফেলে!’

নরসিংহের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন ঋষি পরাশর। কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গিয়েছিলেন। হয়তো বলতে চেয়েছিলেন, আহা রে পুষ্পগন্ধী, আমারই জন্য তোমাকে গ্রাম ছাড়তে হয়েছে, আমারই জন্য তোমার মা-বাবাকে সমাজ-সংসার ছেড়ে নির্বান্ধব অরণ্যময় দ্বীপে বসবাস করতে হচ্ছে। অথবা বলতে চেয়েছেন—নরসিংহ, যত দ্রুত পারেন বইঠা চালান। আমাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কৃষ্ণের কাছে নিয়ে চলেন। তাকে দেখে আমার তৃষিত বুকের পিপাসা মেটাই।

ঋষির এ ভাবনার কিছুই বুঝতে পারল না নরসিংহ। শুধু দেখল—ঋষি পরাশরের মুখমণ্ডলজুড়ে বাসনার কারিকুরি। বইঠায় সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছিল নরসিংহ জেঠা, সেই সকালে।

‘কী জেঠা, কিছু বলছ না যে! ঋষিবর কী বলছেন এসব?’ অধৈর্য কণ্ঠে জিজ্ঞেস করে সিন্ধুচরণ।

ভবানী যেন পাগলপাড়া। আত্মহারা ভঙ্গিতে সে বলে ওঠে, ‘জেঠা, তুমিই তো মুনিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছ। তোমারই পরামর্শে তো কৃষ্ণকে নিয়ে যেতে চাইছেন তিনি? আমাদের বুক খালি করে, আমাকে সর্বস্বান্ত করে কৃষ্ণকে নিয়ে যাবেন ঋষি! অ ভগবান রে...।’ গলা আটকে গেল ভবানীর। তার কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ। চোখমুখ আলুথালু।

অভিযোগের কঠোর কোনো জবাব দিল না নরসিংহ জেঠা। ক্রোধে উদ্দীপিত হলো না, অভিমানে ক্ষিপ্ত হয়েও উঠল না জেঠা। শুধু নরম কণ্ঠে বলল, ‘শান্ত হও তুমি ভবানী। অস্থির হয়ো না।’ তারপর কণ্ঠস্বরে সব স্নেহ ঢেলে দিয়ে বলল, ‘ঋষি পরাশরকে আমি পথ দেখিয়ে এনেছি ঠিক; কিন্তু কৃষ্ণকে নিয়ে যাওয়ার কোনো পরামর্শ আমি তাঁকে দিইনি। আমার বিরুদ্ধে তোমার যে অভিযোগ, তা ঠিক নয়। ইচ্ছা করলে তুমি মুনিবরকে জিজ্ঞেস করে নিতে পারো।’ শেষের দিকে নরসিংহ জেঠার ভেতরটা উষ্ণ হয়ে উঠেছিল, টের পেল না কেউ।

ঋষি পরাশর ততক্ষণে আলিঙ্গন শিথিল করেছেন। স্মিত চোখে পুত্র কৃষ্ণের দিকে একবার তাকালেন। তার কচি ডান হাতটি ধরে পাশে বসার ইঙ্গিত করলেন। তারপর ভবানীর দিকে তাকালেন পরাশর। শান্ত গলায় বললেন, ‘নরসিংহ ঠিকই বলেছেন, তিনি আমাকে কোনো পরামর্শ দেননি। আমি নিজ থেকেই কৃষ্ণকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছি। আপনি যে ধারণা করেছেন, তা সত্য নয় মা।’ মা! ঋষি পরাশর তাকে মা ডাকলেন! তার মতো অতি সাধারণ একটা কৈবর্ত নারীকে মা বললেন ত্রিকালজ্ঞ মুনি পরাশর! ভবানী জবাব দেবে কী? হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল।

এবার দুই কদম এগিয়ে এলো সিন্ধুচরণ। অবিনীত ভঙ্গিতে বলল, ‘কোথায় নিয়ে যাবেন আপনি কৃষ্ণকে? কেনই বা নিয়ে যাবেন? ওই দেখুন মত্স্যগন্ধাকে, ওই যে দূরে মলিনমুখে ঘরের খুঁটিতে ঠেস দিয়ে বসে আছে, তার বুক খালি করে তারই বুকের ধনকে আপনি নিয়ে যাবেন?’

ত্বরিত বলে উঠল নরসিংহ, ‘ছি সিন্ধু! তুমি এ রকম করে বলছ কেন? তুমি না রাজা, দাশদের রাজা? তোমার কণ্ঠ এ রকম দুর্বিনীত হবে কেন?’

ঋষি পরাশর বললেন, ‘ওঁকে বলতে দিন নরসিংহ। ভেতরে অনেক কষ্ট, অনেক ক্রোধ, অনেক আর্তনাদ জমা হয়ে আছে তাঁর। তাঁকে বারণ করবেন না। বলতে দিন তাঁকে।’ ঋষির কথা শুনে সিন্ধুচরণ মাথা নত করল।

এ সময় নরসিংহ আবার বলে উঠল, শোনো ভবানী, দেখো সিন্ধু, কৃষ্ণকে তো তোমরা দেখে যাচ্ছ, কী রকম উদাসীন যেন সে! সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিসের অনুসন্ধানে মগ্ন যেন! তার আচরণের কথা শুনে আমার মন বলছে—এই শিশুটি সাধারণ নয়, আমাদের কৈবর্তপাড়ার অন্য দু-দশটি শিশুর মতো নয় সে। সে যেন অন্য রকম, সে যেন অস্বাভাবিক। কী রকম যেন বিবাগী ভাব তার মধ্যে।’

‘এ ঋষিপুত্রের লক্ষণ। এ তার ঈশ্বরপ্রীতির অভিপ্রায়। এই পৃথিবীকে নতুন কিছু দেওয়ার জন্যই কৃষ্ণের জন্ম হয়েছে। আমার দূরদৃষ্টি যদি আমাকে প্রতারিত না করে, তাহলে আমি বলব—আমার এই পুত্র অত্যন্ত সুলক্ষণযুক্ত। তার আলোতে একদিন এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে। আপনারা ধরে নেবেন না—এ একজন স্নেহান্ধ পিতার অতিকথন।’ তারপর কণ্ঠকে একেবারে খাদে নামিয়ে ঋষি বললেন, ‘আমাকে খালি হাতে ফেরাবেন না।’

‘মাকে ছাড়া...।’ ভবানীর কথা। শেষ করতে দিলেন না ঋষি পরাশর। বললেন, এই শিশুকে, আমার এই পুত্রটিকে আমি সর্বশাস্ত্রে পণ্ডিত করে তুলব। আপনারা দেখে নেবেন—এই কৃষ্ণ দ্বৈপায়নের সমাজজ্ঞান, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা একটা সময়ে এমন উচ্চতায় পৌঁছবে, সমস্ত পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকবে তার দিকে। কৈবর্ত নারীর এই সন্তানটি একদিন পৃথিবী কাঁপাবে।’ স্বগতকণ্ঠে বললেন ঋষি, ‘কৃষ্ণকে আমি মায়ের স্নেহ আর পিতার দায়িত্ব নিয়ে বড় করে তুলব।

‘মিষ্টি কথা রাখুন। প্রলুব্ধ করছেন আমাদের। কেড়ে নিয়ে যাওয়ার ফন্দি?’ চিত্কার দিয়ে উঠল মত্স্যগন্ধা।

এতক্ষণ নিশ্চুপ থাকা মত্স্যগন্ধার এ রকম করে ফেটে পড়া দেখে সবাই হতভম্ভ হয়ে গেল। সবারই চোখ বস্ফািরিত। শুধু ঋষি পরাশর কোমল চোখে পুষ্পগন্ধার দিকে তাকিয়ে থাকলেন। কৃষ্ণ আরো বেশি করে পরাশরের ঘনিষ্ঠ হয়ে বসল।

নিজের বিহ্বলতা কাটিয়ে দ্রুত পায়ে মত্স্যগন্ধার দিকে এগিয়ে গেল নরসিংহ জেঠা। মত্স্য গন্ধার মাথায় স্নেহের ডান হাতটি রেখে বললেন, ‘তুমি এ রকম করছ কেন কালী। ঋষি পরাশর তো ভুল বলেননি—তিনি কৃষ্ণকে যথার্থ শাস্ত্রজ্ঞ করে তুলবেন। ভেবে দেখো, তোমার এই ছেলে তোমাদের সঙ্গে থাকলে কী হবে? আমার বা সিন্ধুচরণের মতো শেষ পর্যন্ত একজন জেলেই তো হবে! তার চেয়ে বেশি কিছু তো নয়! তা ছাড়া...।’

কথাগুলো নিম্নস্বরে বললেও সিন্ধুচরণের কান এড়াল না। সে বলল, ‘তা ছাড়া কী জেঠা? আর কী বলতে চাইছ তুমি?’

খাঁকারি দিল নরসিংহ জেঠা। কণ্ঠস্বরকে একটু উঁচুতে তুলল। সবাই শুনতে পাওয়ার মতো করে বলল, ‘কালী কুমারী মাতা। তার এই সন্তান বৈধ...।’ এ পর্যন্ত বলে হঠাত্ কৃষ্ণের ওপর চোখ পড়ল নরসিংহের। ভালোবাসা মাখানো কণ্ঠে বলল, ‘কৃষ্ণ, তুমি ঘরের ভেতরে যাও। চোখেমুখে জল দাও।’

কৃষ্ণ স্থান ত্যাগ করে গেলে জেঠা আগের কণ্ঠে আবার বলা শুরু করল, ‘কৃষ্ণ সমাজবৈধ সন্তান নয়। সমাজ তাকে মেনে নেবে না। আমি বলি কী—কৃষ্ণকে ঋষি পরাশরের সঙ্গে যেতে দাও। তাতে আমাদেরই লাভ।’

‘আমাদের লাভ! কোথায় আমাদের লাভ খুঁজে পেলে জেঠা?’ ভবানী বলে উঠল।

দেখো ভবানী, কালীর দিকে চেয়ে দেখো তুমি। আমাদের কালী আগেরই মতো সজীব-সতেজ আছে। সন্তানধারণের কোনো চিহ্ন নেই তার দেহে।’ হঠাত্ সুর পাল্টে নরসিংহ বলল, ‘এই কন্যাটি কি সারা জীবন অবিবাহিত থেকে যাবে? কালীর বিয়ে হবে আবার।’

‘বিখ্যাত নৃপতির সঙ্গে বিয়ে হবে পুষ্পগন্ধার। এ আমার আশীর্বাদ। আমার আশীর্বাদের ব্যত্যয় ঘটবে না। সারা জীবনে আমার যা কিছু অর্জন, তার সবের দোহাই দিয়ে বলছি—রাজমহিষী হবে যোজনগন্ধা একদিন। বললেন পরাশর।

‘তা-ই যদি হয়, তাহলে কৃষ্ণ তখন বড় অসহায় হয়ে পড়বে। মাতৃছায়া থেকে বঞ্চিত হবে তখন আমাদের কৃষ্ণ।’ বলল নরসিংহ জেঠা।

তুমিও জেঠা, বিশ্বাস করে বসলে ঋষির কথা!’ বলল সিন্ধুচরণ।

‘দেখুন, তিনটি কথা বলেছিলাম আমি সেদিন মৎস্যগন্ধা কে। এক. তার দেহ থেকে মাছের দুর্গন্ধ তিরোহিত হবে। পুষ্পগন্ধী হয়ে উঠবে সে। দুই. সন্তানবতী হলেও তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থাকবে আগের মতো, কুমারীর মতো। চেয়ে দেখুন মত্স্যগন্ধার দিকে—তার দেহগঠনে কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুঁকে দেখুন—তার দেহ থেকে পুষ্পগন্ধ বের হয়। তৃতীয়ত, বলেছিলাম, রাজবধূ হবে সে। প্রথম দুটি কথা মিলে গেছে। তৃতীয়টিও মিলবে, অবশ্যই রাজমহিষী হবে যোজনগন্ধা।’ বলে নিশ্চুপ হয়ে গেলেন পরাশর।

এই সময় মৎস্যগন্ধার বুকফাটা আর্তনাদ শোনা গেল, ‘আমার পুত্র, আমার কৃষ্ণ! কৃষ্ণকে ছাড়া আমি বাঁচব না।’

‘বাঁচবে কালী, বাঁচবে। ঈশ্বর মানুষকে সব ব্যথা, সব কষ্ট ভুলে যাওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। কালক্রমে কৃষ্ণের কথাও তুমি ভুলে যাবে একদিন। তোমার ভবিষ্যত্ জীবনকে তোমাকে এমনভাবে ব্যতিব্যস্ত করে তুলবে, কৃষ্ণ সম্পর্কে ভাবার সময় পাবে না তুমি।’ বলে গেল নরসিংহ জেঠা। কেন জানি আর কথা বাড়াল না মত্স্যগন্ধা। হতবিহ্বল চোখে জেঠার দিকে তাকিয়ে থাকল। সে ভাবতে থাকল, তার বুকের মধ্যখানে তেমন করে তোলপাড় করছে না কেন? কেন হূদয়ের দুকূল ভেঙে ভেঙে পড়ছে না। তার সন্তান, তারই আত্মজ চিতরে তাকে ছেড়ে চলে যাবে, তাতে তো একজন জননী হিসেবে তার ভেতরটা উথাল-পাথাল করে ওঠার কথা। কিন্তু কই, তেমন কোনো অনুভব তো তাকে আকুলি-বিকুলি করে তুলছে না! তাহলে, তাহলে কি কৃষ্ণকে তেমন করে ভালোবাসেনি সে! যদি প্রকৃতই কৃষ্ণকে ভালোবাসত সে, তাহলে তো তার আজ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা, এই আঙিনার ধূলিতে লুটিয়ে পড়ে গড়াগড়ি যাওয়ার কথা। কই, তেমন তো কিছুই করতে ইচ্ছা করছে না তার!

সবাই প্রস্তুত, রওনা দেওয়ার জন্য। ঋষি পরাশর প্রস্তুত, নরসিংহ জেঠা প্রস্তুত, আর প্রস্তুত কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন। সে ঋষি পরাশরের ডান হাতের তর্জনী ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার কাঁধে ছোট্ট একটি পোঁটলা, তাতে তার পরিধেয় বস্ত্রাদি।

এক পা-দুই পা করে কৃষ্ণ ভবানীর দিকে এগিয়ে গেল। প্রণাম করতে গেলে বুকে জড়িয়ে ধরল ভবানী। সে নির্বাক। সিন্ধুচরণের দিকে এগিয়ে গেলে মত্স্যগন্ধার সামনে নিয়ে গিয়ে তাকে দাঁড় করিয়ে দিল সিন্ধুচরণ। মায়ের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ল কৃষ্ণ। ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলল, ‘মা, আমি তোমাকে ভুলব না কোনো দিন। যেদিন তুমি মা আমাকে স্মরণ করবে, সেদিন, সেদিনই আমি উপস্থিত হব মা তোমার সামনে।’

অঝোর ধারায় অশ্রু গড়াচ্ছে তখন মত্স্যগন্ধার দুই চোখ থেকে।

ঋষি পরাশর বললেন, ‘আজ থেকে মৎস্যগন্ধার নাম হবে পুষ্পগন্ধা। যোজনগন্ধাও ডাকতে পারেন তাকে আপনারা। বলে পুত্রের হাত ধরে পেছন ফিরলেন ঋষি পরাশর। তাঁকে যে অনেক দূর পর্যন্ত যেতে হবে। ঋষির পেছন পেছন নরসিংহ জেঠাও এগিয়ে গেল। তবে মত্স্যগন্ধা নয় আর।’

চলবে ►

মন্তব্য