kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ধারাবাহিক উপন্যাস মৎস্যগন্ধা

মৎস্যগন্ধা

হরিশংকর জলদাস

২৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



মৎস্যগন্ধা

অঙ্কন : মানব

‘আমি কিছু চাই না পুষ্পগন্ধা, আবার চাইও।’

‘মানে!’

‘মানে অতি সহজ গন্ধবতী। আমি তোমার কাছ থেকে কিছু চাইতে আসিনি, আবার তোমাদের কাছে কিছু যে চাইতে আসিনি, এমনও নয়।’

‘আপনার মতো জ্ঞানী নই আমি। সাধারণ কৈবর্তকন্যা। পড়াশোনা নেই আমার তেমন করে। আপনার এ রকম বিরোধার্থক কথা বোঝার মতো জ্ঞানগম্যি আমার নেই। হেঁয়ালি ছাড়ুন। স্পষ্ট করে বলুন।’ মত্স্যগন্ধার ক্রোধ তখনো স্তিমিত হয়নি।

‘তোমার সঙ্গে আমি কোনো হেঁয়ালি করছি না। স্পষ্ট করেই বলেছি। শান্ত মনে আমার কথাগুলো শুনলে বুঝতে পারতে।’

‘শান্ত মনে! আপনার সঙ্গে শান্ত মনে কি কথা বলা যায়?

না, শান্তভাবে কথা বলার কোনো উপায় রেখেছেন?’

‘বিধান লঙ্ঘন করেছিলাম সেই গোধূলিতে। বিবেক বলো আর নীতি বলো—সবই বিসর্জন দিয়েছিলাম। শুধু কামান্ধ হয়ে ওই কাজ করিনি। পুত্র লাভের কামনা সেদিন আমাকে প্ররোচিত করেছিল।’ এটুকু বলে একটু থামলেন ঋষি পরাশর। নিজেকে সংহত করলেন। তারপর বলেন, ‘তোমার কাছে আমার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়েছি সেদিন। আজও ক্ষমা চাইছি।’

মুনির কথা শুনে মত্স্যগন্ধার ভেতরে কিসের যেন একটা আলোড়ন হলো। তার রাগ কমে এলো। মুনির দিকে সোজা চোখে তাকাতে ইচ্ছা করল তার। তাকালও। দেখল—ঋষি পরাশরের চোখেমুখে বিব্রতবোধের আভা।

‘আপনি যা করেছেন, ক্ষমার যোগ্য নয়। কামান্ধ হয়ে বা পুত্র লাভের আশায়—যে কারণেই ওই কাজ করে থাকুন না কেন, তা ছিল অত্যন্ত গর্হিত।’

‘মানি আমি। কিন্তু তুমি বিশ্বাস করো, আমি আমার পিতার নামে শপথ করে বলছি—সেদিন আমার পুত্র কামনা প্রবলতম হয়ে উঠেছিল। পুত্রের জন্য আমি আকুলিত হয়ে উঠেছিলাম। তা-ই তো...।’ এ পর্যন্ত বলে ঋষি পরাশর থেমে গেলেন।

হঠাত্ উত্কট কণ্ঠে হেসে উঠল মত্স্যগন্ধা। হাসতে হাসতেই বলল, ‘আপনি ধরে নিলেন কী করে যে পুত্র জন্মাবে? কন্যা জন্মালে কি উত্তরাধিকারের সূত্রটি ছিন্ন হয়ে যেত?

আপনি কী অন্তর্যামী?

ঋষি মত্স্যগন্ধার তিনটি প্রশ্নের প্রথম দুটির উত্তর দিলেন না। তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরে বললেন, ‘না পুষ্পগন্ধা, আমি অন্তর্যামী নই। আমি সে রকম ত্রিকালজ্ঞ ঋষিও নই। তবে আমার আকাঙ্ক্ষাকে আমি বুঝি। মানুষের বাসনা যখন তীব্র হয়, আর মনের জোর যখন ওই বাসনার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন মানুষের মধ্যে প্রবল একটা বিশ্বাস দানা বাঁধে। আমি সেই বিশ্বাসের জোরেই সেদিন বলেছি—আমার পুত্রসন্তান জন্মাবে।’ থামলেন একটু মুনি। নিজের মধ্যে নিজেকে গুছিয়ে নিলেন বুঝি। তারপর অতি নরম গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমার পুত্রসন্তান কি জন্মায়নি?’

বাঁকা হাসল মত্স্যগন্ধা। ঋষি পরাশরের প্রশ্নের কোনো জবাব দিল না সে। সোজা চোখে শ্মশ্রুধারী কঙ্কালসার কপিন পরিহিত পরাশরের দিকে তাকিয়ে থাকল। সেই দৃষ্টিতে ঘৃণা না করুণা—বুঝতে পারলেন না পরাশর। নিস্তব্ধ রইলেন তিনি।

অনেকক্ষণ পরে ঋষি মুখ খুললেন, ‘তুমি ভেবেছ—প্রথম রিপুর তাপে আমি তোমার কাছে এসেছি গন্ধবতী।’

‘তা নয়তো কী? তার জন্যই তো এসেছেন আপনি!’

‘তোমার ধারণা মিথ্যা তন্বী।’ ঋষির কণ্ঠ সুদৃঢ়।

‘তন্বী বলছেন কাকে? আমি কি তন্বঙ্গী আছি? আগের মতো? সর্বনাশের জোয়ারে ভাসিয়েছেন আপনি আমায়।’

এবার মৃদু হাসলেন পরাশর। সেই হাসি কোমল, সেই হাসি আশ্বাসের। ‘তুমি যেই তন্বী ছিলে, সেই তন্বীই রয়ে গেছ। মুকুর নেই এখানে, থাকলে বুঝতে আমি একবিন্দুও বাড়িয়ে বলছি না। স্বচ্ছ যমুনা জল সাক্ষ্য দেবে।’

‘এত মন-ভোলানো কথা বলার পেছনে আপনার অভিপ্রায় কী?’ কঠোর গলায় জিজ্ঞেস করে মত্স্যগন্ধা। মুনি মাথা নত করলেন। অনেকটা স্বগত কণ্ঠে বললেন, ‘আমি কোনো রিপুর তাড়নায় তোমার দ্বারস্থ হইনি।’ ‘তাহলে! তাহলে কোন উদ্দেশ্যে আপনি এখানে এসেছেন? আর এ রকম দুর্গম জায়গায় আপনাকে নিয়ে এলো কে? আমাদের সন্ধান দিল কে আপনাকে?’

‘সে তুমি একটু পরে জানতে পারবে সুগন্ধা। তার আগে বলো—আমার পুত্রটি কোথায়?’

‘আপনার পুত্র! কে আপনার পুত্র! আমার যে পুত্র জন্মেছে, এ কথা কার কাছ থেকে শুনলেন আপনি?’

‘ওই যে বললাম—একটু পরে জানতে পারবে। এবার কি তুমি আমার প্রশ্নের উত্তর দেবে?’

‘না। আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই।’ কাতর কণ্ঠে ঋষি পরাশর বললেন, ‘তুমি আমায় ক্ষমা করো পুষ্পগন্ধা, আমায় ক্ষমা করো। তোমার কঠোর-কঠিন আচরণ আমি আর সইতে পারছি না। তুমি আর আমাকে ব্যথা দিয়ো না, আর তাচ্ছিল্য কোরো না আমায়।’

শেষের দিকে ঋষির কণ্ঠস্বর বুজে এলো। দুই পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলেন না তখন তিনি। এই বুঝি মাটিতে গড়িয়ে পড়বেন।

ঠিক এই সময় ওখানে নরসিংহ জেঠা উপস্থিত হলো। দূর থেকে মুনির অবস্থা টের পেয়েছিল সে। চলায় গতি এনেছিল। অনেকটা দৌড়েই ঋষির কাছে পৌঁছে গিয়েছিল সে। পড়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে ঋষিকে দুই হাত বাড়িয়ে ধরে ফেলেছিল। রুক্ষ কণ্ঠে মত্স্যগন্ধাকে উদ্দেশ করে বলে উঠেছিল, ‘একি মত্স্যগন্ধা! ঋষি তো পড়ে যাচ্ছেন! তুমি একটা আসন নিয়ে এসো। তাড়াতাড়ি!’

ক্রোধ-অভিমান তিরোহিত হলো। মুহূর্তকালের জন্য অতীতকে ভুলল মত্স্যগন্ধা। দ্রুত গৃহে প্রবেশ করল। আসন নিয়ে এলো। আসনটি দাওয়ায় পেতে দিলে পরম যত্নে ঋষি পরাশরকে ওই আসনে বসিয়ে দিল নরসিংহ।

তখন মুনির চোখ বোজা। জলের দুটি চিকন ধারা তখন মুনির শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখমণ্ডল বেয়ে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।

কী এক শিহরণে, কী এক যাতনায় মত্স্যগন্ধার ভেতরটা তখন চুরমার হয়ে যাচ্ছে।

ওই সময় জ্বালানি কাষ্ঠের বোঝা মাথায় চাপিয়ে সিন্ধুচরণ উঠানে উপস্থিত হলো। ওই সময় ছাইমাখা হাতে ভবানী কুটির থেকে বেরিয়ে এলো। সিন্ধুচরণ মাথা থেকে লাকড়ির বোঝাটি নামাতে ভুলে গেল। ভবানী রা কাড়ল না। উভয়ের চোখ বস্ফািরিত, নিষ্পলক। উভয়ে অতীতকে ভুলল, উভয়ে বর্তমানকে ভুলল। উভয়ে নিথর দেহে স্থাণুবত্ দাঁড়িয়ে থাকল। তাদের দুজনেরই দৃষ্টি ঋষির গণ্ড বেয়ে পতিত অশ্রুধারায় নিবদ্ধ। বেশ কিছুক্ষণ পর পরাশর চোখ খুললেন। অতি মৃদু কণ্ঠে বললেন, ‘আপনি নিশ্চয়ই পুষ্পগন্ধার পিতা সিন্ধুচরণ, আর আপনি মা ভবানী। নৌকায় আসতে আসতে নরসিংহের কাছ থেকে সব কিছু জেনে নিয়েছি আমি। আমি এ-ও জেনেছি— মত্স্যগন্ধার একটি পুত্রসন্তান হয়েছে। এটাও আমার জানতে বাকি থাকেনি যে আপনারা তিনজনই আমার ওপর ভীষণ রেগে আছেন।’ কাঁধের উত্তরীয় দিয়ে দুই চোখ মুছে নিলেন ঋষি। বড় করে শ্বাস ফেললেন। মনে হলো, ভেতরের দুর্ভর কষ্টকে তিনি ওই দীর্ঘশ্বাসের মধ্য দিয়ে বের করে দিলেন। তারপর সিন্ধুচরণের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি পরাশর। আপনার দৌহিত্রের পিতা আমি।’

সিন্ধুচরণ আর ভবানী তখন রাগ দেখাবে কী, আবহমানকাল ধরে বহমান ঋষিভক্তি তাদের মধ্যে খলবলিয়ে উঠল। এত দিনের পুষে রাখা ক্রোধ যেন কোথায় উবে গেল। তাদের বুকের তলায় তখন তিরতিরে কম্পন। মাথা থেকে ঝুপ করে কাষ্ঠের বোঝাটা উঠানে ফেলল সিন্ধুচরণ। মাথার বিড়া খুলে উদোম ঊর্ধ্বাঙ্গ ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল সিন্ধুচরণ। আলুথালু আঁচল দিয়ে নিজের খোলা শরীর ঢাকতে ঢাকতে ত্বরিত পায়ে গৃহাভ্যন্তরে গেল ভবানী। শুধু মত্স্যগন্ধা দাঁড়িয়ে থাকল আগের মতো। সে এখনো শান্ত হয়নি, মুনিকে মাফ করেনি সে এখনো। তার চোখমুখজুড়ে ক্রোধ আর অপমান কিলবিল করছে।

দ্রুত পায়ে নরসিংহ জেঠা মত্স্যগন্ধার কাছে এগিয়ে গেল। ডান হাত বাড়িয়ে তার বাঁ হাতটি ধরল। বলল, ‘চল মা, একটু ওদিকে যাই।’

পল, মুহূর্ত, ঘণ্টা কেটে যেতে লাগল। সিন্ধুচরণ ঘরে ঢুকেছে। নরসিংহ মত্স্যগন্ধাকে নিয়ে আড়ালে গেছে। ঋষি পরাশর একা কুশাসনে বসে আছেন।

অনেকক্ষণ পর একে একে সবাই এলো। মুনির আশপাশে সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াল। শুধু মত্স্যগন্ধা দাঁড়াল বেশ তফাতে।

সিন্ধুচরণ স্বামী বটে—পিতাও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে রাজা—দাশদের রাজা, কৈবর্তদের শাসক সে। সে নরম প্রকৃতির, প্রয়োজনে আবেগশূন্য হতেও জানে সিন্ধুচরণ। কণ্ঠকে কঠোর করে কী একটা বলার জন্য উদ্যত হলো সে। ভঙ্গিটি তার উদ্ধত। টের পেল নরসিংহ। সিন্ধুচরণ বলার আগেই নরসিংহ বলে উঠল, ‘কৃষ্ণকে দেখার জন্য ঋষি ভীষণ ব্যাকুলিত। ঘটনাচক্রে আমার সঙ্গে দেখা তাঁর। তাঁর ব্যাকুলতা দেখে আমিই পথ দেখিয়ে নিয়ে এসেছি তোমাদের কাছে। নিশ্চয়ই তুমি আমাকে ক্ষমা করবে সিন্ধু।’

জেঠার কথা শুনে বিচলিত হলো সিন্ধুচরণ। যে নরসিংহ জেঠা তার এত উপকারী বন্ধু, যে জেঠা সংকটে-আনন্দে তার পাশে পাশে থাকে, যে জেঠা তাকে পুত্রের মতো স্নেহ করে, সে জেঠা ক্ষমা চাইছে তার কাছে! ছি ছি ছি!

‘একি বলছ তুমি জেঠা! তুমি তো আমাদের বিপদের বন্ধু। তুমি আমার জন্মদাতা নও বটে; কিন্তু পিতার সমান তুমি আমার। তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাইছ!’ সিন্ধুচরণের চোখ বিস্ময়ে বস্ফািরিত।

নরসিংহ জেঠা মৃদু একটু হাসল। বলল, ‘নৌকায় আসতে আসতে ঋষি পরাশর বারবার তাঁর কৃত অপরাধের কথা বলছিলেন। আর বারবার বলছিলেন কৃষ্ণ দ্বৈপায়নের কথা—দেখতে কেমন হয়েছে সে? দেব-দ্বিজ তার ভক্তি কেমন—এসব।’

ভবানী কী একটা বলতে চাইল; কিন্তু গলা দিয়ে কথা বেরোল না। শুধু ভাবতে থাকল, এই হাড্ডিসার ঋষিটি তার মেয়ের সর্বনাশ করেছেন? আবার ভাবতে থাকল, এই মানুষটির জন্যই তো কৃষ্ণকে আজ সে পেয়েছে!

মত্স্যগন্ধাকে দেখে কিছুই বোঝার উপায় নেই। সে ক্রোধান্বিত? সে অপমানে জর্জরিত? সে শিহরিত? সে উদ্বেল? নাকি আকুলিত? চারজনের কেউ-ই বুঝতে পারছেন না।

‘আমি কি আমার সন্তানটিকে দেখতে পাব?’ বহুক্ষণ পর নীরবতা ভাঙলেন ঋষি পরাশর।

কেউ কিছু বলার আগে নরসিংহ জেঠা বলে উঠল, ‘নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই। তা সিন্ধু, কৃষ্ণ কোথায়? তাকে তো আমিও দেখিনি। শুধু তার জন্মের পর গাঁয়ে গিয়েছিলে একবার। বলেছিলে—তোমার নাতি হয়েছে। তো তোমার সেই নাতিটিকে দেখতে আমারও খুব ইচ্ছা। নিয়ে এসো কৃষ্ণকে।’

এতক্ষণে মুখ খুলল ভবানী, ‘কৃষ্ণ তো এখানে নেই।’ ‘নেই মানে!’ নরসিংহ এবং পরাশর—দুজনে সমস্বরে বলে উঠলেন। ঋষি পরাশরের কণ্ঠ নরসিংহ জেঠার কণ্ঠস্বরকে ছাড়িয়ে গেল।

‘ভোরে সে গৃহ ত্যাগ করে চলে যায়। কখনো নিজের ইচ্ছায় ফিরে আসে। কখনো সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে আমরা কেউ গিয়ে নিয়ে আসি।’ মৃদু গলায় বলল সিন্ধুচরণ।

‘কোথায় যায়!’ জেঠার উত্কণ্ঠার অবধি থাকে না। ‘অরণ্যের ভেতর দিকে বিশাল একটা গাছ আছে। ওই গাছের নিচে, প্রতি সকালে গিয়ে চোখ বুজে বসে থাকে কৃষ্ণ।’ বলল সিন্ধুচরণ।

প্রশান্ত একটা হাসি ঋষি পরাশরের মুখমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ল। মুখে কিছু বললেন না ঋষি। একটুক্ষণের জন্য বুঝি ধ্যানমগ্ন হলেন। তারপর বললেন, ‘আমি কৃষ্ণকে দেখতে চাই।’

কৃষ্ণকে সেই বৃক্ষতল থেকে নিয়ে আসা হলো। সিন্ধুচরণ গিয়েই নিয়ে এলো কৃষ্ণকে। আসতে আসতে শুধু বলল, ‘তোমার বাবা এসেছে কৃষ্ণ। তোমাকে দেখতে চায়।’

অন্য বালক হলে আদ্যোপান্ত জানতে চাইত। কিন্তু কৃষ্ণ কিছুই জানতে চাইল না। উঠানে এসে পায়ে পায়ে ঋষি পরাশরের দিকে এগিয়ে গেল কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন। পরাশর তাকে বুকের গভীরে টেনে নিলেন। দুই বাহু দিয়ে বেষ্টন করে রাখলেন কৃষ্ণকে। সে আলিঙ্গনে প্রগাঢ় বাত্সল্য।

মৎস্যগন্ধার দুই চোখ বেয়ে তখন জলধারা নামছে।

 চলবে ►

 

মন্তব্য