kalerkantho

ঘোলা জলে রক্ত চিহু

হাসান অরিন্দম

২৯ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



ঘোলা জলে রক্ত চিহু

অঙ্কন : মানব

সোমবার দিন শেষে বিমলা যখন সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালাচ্ছে, দু-তিন বাড়ি পরের কাঠুরিয়া আলেক শেখের বউ ছবুরার মা কাঁদো কাঁদো হয়ে বাসুর মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ও বিমলা, তুরা নাকি সব চলে যাচ্ছিস দেশ ছেড়ে। তালি আমরা একা একা কীরাম করে থাকপানে?’

বাসুর মা বলে, ‘কই, আমি কিছু জানিনে তো!’

‘কী কইস, জানিসনে—মনোজিতদা ঠিকই জানে, আইজ বাড়ি আসলি কবেনে। তোর আলেক ভাই কলো মুংলায় বলে বারোজন হিন্দু গুলি করে ম্যারে ফেলায়েচে। আগুনও দিয়েছে মেলা ঘরে।’

বিমলা কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, ‘কিন্তু আমরা তো আসলে সেই রকম হিন্দু না, আমরা তো জাতিতি মুণ্ডা, না হিন্দু না মুসলমান, আমাগের তো কারো সাথে শত্রুতা নেই।’

ছবুরার মা বলে, ‘ওরে, সে না হয় আমরা জানি, কিন্তু পাকিস্তানিরা তোগের এইসব বিমলা, মনোজিত, বাসুদেব নাম শুনলিই তো হিন্দু মনে করে।’

বিমলা বলে, ‘যুদ্ধ হলি রাজায় রাজায় হবে, এর মদ্যি আমাগের কী দোষ?’

‘শেখ মুজিবুরির নাম শুনিসনি? গত বছর ভোটে যে জিতল, সেই শেখ মুজিবুররে পশ্চিম পাকিস্তানে ধরে নিয়ে গিয়েচে, ঢাকায় বহু মানুষ ম্যারেচে পাকিস্তানিরা। আমাগের এই বাংলা বলে যুদ্ধ করে স্বাধীন হবে আর উরা স্বাধীন হতি দেবে না। এই নিয়ে যত রক্তারক্তি।’

ছবুরার মা মিথ্যে খবর বলে যায়নি। বিকাশ-বাসুদেবের বাপ মনোজিত হাট থেকে এসে বলল, ‘বিকাশের মা, দেশের অবস্থা ভালো না। আমরা কালই ভোরবেলা রওনা হয়ে যাব। চিয়ারম্যান সায়েব নৌকা ঠিক করে দিয়ে দিয়েছে।’

বিমলা বলে, ‘গণ্ডগোলের কথা শুনিচি ছবুরার মার কাছে, তাই বলে বাড়িঘর ফেলে কনে যাব মরতি?’

‘ভারতে যাব, বাঁচার জন্যি সবাই ভারত যাচ্চে।’

‘ওই দেশে তো আমাগের কেউ নেই।’

‘না থাকলিও আর কোনো উপায় নেই, ভগবান যা র্যাখেছে কপালে তা-ই হবে।’

‘এই পথে যাওয়াও তো সুজা কথা না। নৌকা নিয়ে জলে নামবা কীরাম করে? সাগরে-নদীতি বলে পাকিস্তানি জাহাজ ঘুরে বেড়াচ্চে?’

মনোজিত সান্ত্বনার সুরে বলে, ‘ভয় নেই, চিয়ারম্যান সায়েব দাড়ি-টুপিআলা মুসলমান মাঝি ঠিক করে দিয়েছে। মাস্তুলি পাকিস্তানের ওই চান-তারা পতাকাডা টাঙায়ে রাখপ, তালি নাকি খান সেনারা আমাগের কিছু কবেনানে।’

হঠাত্ বিমলার কী হয়, সে বারান্দায় মাটির মেঝেতে বসে পড়ে। তা দেখে মনোজিত বলে, ‘এই, কী হলো তুমার!’

‘ও বিকাশের বাপ, দেশটার মদ্যি এ কী হলো, আমাগের এখন কী হবে? এসব ফেলে থুয়ে ভারত যাব, সে দেশে আমাগের কিডা চেনে, আমরা থাকপ কনে, ছেলেপেলে নিয়ে খাব কী?’

‘অতসব-কিছু ভাবার সুমায় এখন নেই, ওরা নাকি জাহাজেরতে ছররা গুলি না কী কয়, সেইতা মারছে, তা মারলি বাড়িঘরে আগুন ধরে যায়। যদি পিরানে বাঁচতি চাও, তাড়াতাড়ি গুছায়ে নেও সব, খুব ভোরবেলা বদর মাঝি নৌকা নিয়ে ঘাটে আসপে। বেশি কিছু নিতি পারবা না কলাম। চালটুক নেও; দুখান শানকি, এট্টা গিলাস, বদনা আর ঘরের চিঁড়ে-মুড়িটুক খালি সাথে নিয়ো।’

বিমলার শরীরটা সামান্য কাঁপছে, শরীরে কোনো বলশক্তি পায় না, তার মাথাটা ঝিমঝিম করছে। তার মনে হয়, কিছুক্ষণ বুক চাপড়ে কাঁদতে পারলে ভালো হতো। সে দুবার বুক ভরে শ্বাস নেয়, ময়লা শাড়ির আঁচলে নাক-চোখ মুছে বারান্দার খুঁটিটা ধরে উঠে দাঁড়ায়। তার মগজের ভেতর রাজ্যের চিন্তারাশি এসে ভর করেছে। তিনটি ছেলে-মেয়ের একটা ছেলে শুধু বড়—বয়স ষোলো হয়েছে, মেজো ছেলেটার বয়স এগারো আর ছোট সন্তান মেয়ের চার। আরো একটা পৃথিবীতে আসব আসব করছে—পেটের ভেতরেরটা আট মাস হতে চলল। এমন শরীরের বোঝা নিয়ে কোথায় যাবে সে?

খানিকটা রাত হলে পাড়ার ছেলে-মেয়েগুলো বড়দের বিষণ্ন-ভয়ার্ত মুখ দেখে ঘুমিয়ে পড়ে। বড়দের কারো চোখে ঘুম-নিদ্রা নেই। আগামীকালের সম্ভাব্য বিপদ আর ঝুঁকির কথা ভেবে মুণ্ডাপল্লীর নারী-পুরুষদের গলা শুকিয়ে আসে। মাটির সানকিতে মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মেখে মুখে দিতে গেলে বিমলার ভেতর থেকে ওয়াক আসে। কোনো রকমে দুবার মুখে দিয়ে বাকিটা উঠানের এক কোনায় ঢেলে মাদি কুকুরটাকে খেতে দেয়। তারপর এঁটো হাত ধুয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে মাটির মেঝেতে চার বছরের মেয়েটাকে কোলের কাছে নিয়ে খেজুর পাতার বিছানায় তেলচিটচিটে বালিশের ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। বালিশে মাথা রেখে দুশ্চিন্তার বোঝাগুলো আরো ভারী হয়ে ওঠে। মনে মনে সে অবিরাম স্রষ্টার নাম জপতে থাকে, ‘হে ভগবান, কাইল কপালে কী আছে জানিনে, তুমি দয়া করে ভালোয় ভালোয় ওপারে পৌঁছায়ে দিয়ো।’

ভোরবেলায় মসজিদ থেকে ফজরের আজান শুনে বিমলার ঘুম ভাঙে। সে রাতে গুছিয়ে রাখা জিনিসগুলো আরেকবার পরখ করে গোয়ালঘরে গিয়ে গরু-বাছুর দুটোর দড়ি খুলছিল, পুব দিগন্তে কোনো রকমে আলো ফুটে ওঠার সেই সময়ে বদরউদ্দীন মাঝি ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে মহল্লার সবার উদ্দেশে হাঁক দিল, ‘তুমরা সব চলে অ্যাসো, নৌকা রওনা হবে এখনই।’ সেই হাঁক শুনে মুণ্ডাপল্লীতে তত্ক্ষণাত্ রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।

নৌকার যাত্রীদের মাথা গুনে ‘আল্লাহু আকবর, ইয়া আলী’ বলে বদর মাঝি লগি ঠেলে নৌকা ছাড়ল। একটি বাঁক পেরিয়ে গিয়ে দেখা গেল, আরো শত শত নৌকায় বহু যাত্রী তাদের মতো ভারতের পথ ধরেছে। মিনিট চল্লিশেক পর নৌকা মরিচঝাঁপির কাছে এসে পৌঁছলে পরপর দুবার গুলির আওয়াজ পেয়ে সবাই গুটিশুটি মেরে বসে রইল। এখানে এমন কোনো জায়গাও নেই যে নৌকাটা ওই জাহাজ থেকে আড়াল করে রাখবে। দূরে দুটি পাকিস্তানি জাহাজ দেখতে পেয়ে নৌকায় বসে সবাই ভগবানের নাম জপছে, এমন সময় আবার পরপর কয়েকটা গুলির আওয়াজ পাওয়া গেল। সঙ্গে সঙ্গে পেছনের একটা নৌকা থেকে আর্তচিত্কার শোনা যায়। ‘হায় হায়, মরে গেল রে মরে গেল! শালারা তো মানুষ না, জানোয়ার। আমাগের ওপর এই অত্যাচার কেন? ভগবানের গজব পড়ুক তোগের ওপর।’

বদর মাঝি বলে, ‘হায় খোদা, একি গজব শুরু হলো! এই শয়তানগুলোর হাতেরতে তুমি আমাগের বাঁচাও। বেঈমানের জাতেরা নির্বাচনে হ্যারে ক্ষমতা দিল না, আর এখন গুলি করে মারচে বাঙালিদের।’

নদীর একটা বাঁক পেরিয়ে খানিকটা আড়ালে সামনে-পেছনে মিলে চারটি নৌকা ঝোপের কাছে ঘাটে ভিড়ল। বাসুদেব তাকিয়ে দেখল, পেছনের নৌকাটা রক্তে ভেসে যাচ্ছে। বাসুদেবের বাপের সত্তর বছর বয়সী কাকা কৃষ্ণপদের বুকের কাছটায় গুলির ক্ষত, সেখান থেকেই গলগল করে টাটকা রক্ত ঝরছে। তা দেখে ভয় পেয়ে দলের নারীরা হাউমাউ করে কান্না শুরু করল। কৃষ্ণপদের ছেলে শশধর অতর্কিত ঘটনার ভয়াবহতায় কাঁপতে থাকে। ভীষণ শুকিয়ে যাওয়া কণ্ঠের আর্দ্রতা ফিরে পেতে দুবার ঢোক গিলে সে কাঁপা কাঁপা গলায় মনোজিতকে বলল, ‘কী করা যায় দাদা? বাপরে নিয়ে বাড়ি ফিরে যাব?’

মনোজিত দু-এক মুহূর্ত কী যেন ভাবে। তারপর কৃষ্ণপদের রক্তাক্ত শরীরটার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ফিরে য্যায়ে আর কী করবি? কাকারে কি আর বাঁচানো যাবে?’

শশধর বলে, ‘দাদা, তুমি কী কচ্চ?’

মনোজিত কৃষ্ণপদের নাকের কাছে দুটি আঙুল রেখে শ্বাস পরীক্ষা করে। তারপর লোকটার দুই চোখের পাতা বন্ধ করে দিতে দিতে বলে, ‘ওই গুলি সরাসরি বুকি অ্যাসে লাগলি কি প্রাণ বাঁচে? তুই এখন বউ, ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাঁচার চিন্তা কর। ভগবানের যেমন ইচ্ছে তার বাইরি কিছু হয় না। কাকা আর নেই, ভগবানের কাছে চলে গিয়েছে।’

মনোজিতের কথায় দুজন নারী কেঁদে ওঠে।

শশধর বলে, ‘আমি কিছু বুঝতি পারছিনে, দাদা। তালি আমরা এখন কী করব?’

‘কী আর করার আছে ক? কাকারে ডেঙায় নামায়ে থুয়ে আমরা আমাগের পথে যাই। ’

শশধর কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে, ‘কিন্তু তারে এই অবস্থায় ফেলে থুয়ে কীরাম করে যাই? এমন মরণ লেখা ছিল তার কপালে! এট্টা কুদালটুদাল পাওয়া গেলি না হয় মাটিচাপা দিয়ে থুয়ে যাতাম। শিয়ালটিয়ালে যদি খ্যায়ে ফেলে!’

‘মন খারাপ করে কী লাভ ভাই, সে তো যেখেনে যাওয়ার সেখেনে চলে গিয়েছে। দেহ মানে তো খালি খাঁচা, পাখি তো আর এর ভিতর নেই।’ বলতে বলতে মনোজিত সাদা ধুতি আর হাফহাতা সাদা গেঞ্জি পরা কৃষ্ণপদের রক্তাক্ত লাশটার দুই পা মরা মাছের মতো ধরে জলের ভেতর ফেলে দেয়। তারপর আবার বলে, ‘শিয়াল-কুকুরি খাওয়ার চেয়ে হাঙরে-মাছে খাওয়া ভালো। এই ভাই, তুমি যাও।’

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বদর মাঝি ‘আল্লাহ, কার কপালে কী আছে কে জানে’ বলে নৌকা ছাড়ে।

বদরতলার খুব কাছে এসে আবার পাকিস্তানি নীল রঙের জাহাজ থেকে কামানসহ দু-তিন রকম গুলির আওয়াজ পাওয়া গেল। তখন জ্যৈষ্ঠের ঝিরঝিরে বৃষ্টির ভেতর মুহুর্মুহু আওয়াজে গুলি চলছে। এর দু-এক মুহূর্ত পর বাসুদেবের নৌকায় ‘ও বাবা, গিছি গো; ও ভগবান, মরে গেলাম, উহ আহ’ প্রভৃতি আর্তচিত্কার শুনতে পাওয়া যায়। এর পরপরই নৌকাটা টকটকে লাল রক্তে ভেসে যেতে থাকে। সে সময় আচমকা বাসু তার পায়ে হাঁটুর আধাহাত নিচে একটা তীব্র ব্যথা টের পায়। তাকিয়ে দেখে, সেখান থেকে গলগল করে রক্ত ঝরছে। কিন্তু আশপাশের মানুষের জখম ও যন্ত্রণার আর্তচিত্কার এত তীব্র ও তীক্ষ যে বাসুর আর নিজের দিকে খেয়াল রইল না। চারদিকে রক্তাক্ত-ভয়ার্ত পরিবেশ দেখে তার বুকের ভেতর হাতুড়ির পিটুনি চলতে থাকে। বাসুর মনে হয়, তারা যেন এই জলপথ পাড়ি দিয়ে ভুল করে যমালয়ে এসে পৌঁছেছে। খানিকক্ষণের মধ্যে একে একে সবার প্রাণ বিসর্জন দিতে হবে। বাসু তাকিয়ে দেখে, কারো বুক, কারো বা মাথা থেকে রক্ত ঢেলে পড়ছে। পুরো নৌকায় শোকে-ভয়ে হতভম্ব মানুষের মর্মভেদী আহাজারি। কিন্তু স্বজনের যন্ত্রণা কিংবা প্রাণ হারানোর বেদনার চেয়ে নিজের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদটাও কম নয়। এর মধ্যেও কেউ কেউ বলে উঠল, ‘নৌকা কূলে লাগাও। আমরা ন্যামে বাগানের ভিতর যাই।’ বদর মাঝি তেমন পরিকল্পনা আগে থেকেই করছিল। সে জঙ্গলের একদিকে নৌকা ভিড়িয়ে বলে, ‘এখেনে আর এক মুহূর্ত দাঁড়ানো যাবে না, না হলি সব কয়ডা গুলি খ্যায়ে মরতি হবেনে।’ তখন হুড়মুড় করে কর্দমাক্ত ডাঙায় নেমে সবাই প্রাণ হাতের মুঠোয় করে সাপ-বাঘের ভয় ভুলে বনের পথ ধরে ছুটতে লাগল।  নৌকা রেখে বদর মাঝিও ছুটে বনের ভেতর আশ্রয় নিল।

বদর মাঝি বহুক্ষণ বনের ভেতর লুকিয়ে থেকে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ করতে লাগল আর জঙ্গলে পাতার ফাঁক দিয়ে দেখে, পাশাপাশি কান খাড়া রেখে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করতে থাকল। গুলির আওয়াজ বন্ধ হলে, পাকিস্তানি জাহাজ দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাওয়ারও প্রায় এক ঘণ্টা পর শাঁসমূলে ভরা হাবড়-কাদা মাড়িয়ে সে নৌকায় ফিরে এসে দেখল, দুজন গুলি খাওয়া মানুষের শরীরে তখনো প্রাণ আছে, বাকি সাতটি শরীর নীরব-নিথর। এদের ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো মানে হয় না, সাতটি মৃতদেহ একে একে জলের ভেতর ফেলতে গিয়ে ষাট ছোঁয়া বদর হাঁপিয়ে ওঠে। নৌকায় জমে থাকা রক্ত-জল প্রথমে সে সেউতি দিয়ে জলে ফেলে দেয়। এরপর খানিক নিস্তব্ধ বসে থেকে প্রাণ থাকা শরীর দুটি নিয়ে সে বইঠা মেরে গ্রামের দিকে রওনা হলো। বদরের মনে হয়, প্রতিদিন সারা দেশের শহরে-বন্দরে, গ্রামগঞ্জে, আনাচকানাচে কত রক্ত ঝরছে, কত লোক বেঘোরে প্রাণ দিচ্ছে, কে জানে! তার জীবনেরও কি এমন পরিণতি লিখে রেখেছে খোদা—একদিন গুলি খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে নদীর ধারে কাদামাটির ভেতর? মৃত্যুকে—পরলোককে সে ভয় পায় না। সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে, মরতেই যদি হয়, ওদের দু-চারটি জানোয়ারকে মেরে তবেই মরব। চেয়ারম্যান নাকি গোপনে যুবক ছেলেদের নিয়ে মুক্তিবাহিনী গড়ে তুলেছে। দরকার হয় সে-ও যোগ দেবে ওই ঘরভোলা বেপরোয়াদের দলে। বদর তার উদোম শরীরে বইঠা মারা বাহুর পেশিগুলোর ওঠানামা দেখতে দেখতে ভাবে, এই হাতে ট্রেনিংয়ের বন্দুকখানা এখনো দিব্যি মানিয়ে যাবে।

মন্তব্য