kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

বিশ্বসাহিত্য

রিয়াজ মিলটন   

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুঙ্গোশি ও অ্যান্ড্রিয়ার জীবনাবসান

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দুই লেখককে হারিয়েছে বিশ্বসাহিত্য। তাঁরা হচ্ছেন—জিম্বাবুয়ের কবি ও ঔপন্যাসিক চার্লস মুঙ্গোশি এবং ব্রিটিশ লেখক অ্যান্ড্রিয়া লিভি।

মুঙ্গোশি ৭১ বছর বয়সে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান। ১০ বছর ধরে তিনি স্নায়ুরোগে ভুগছিলেন। উপন্যাস, নাটক, কবিতা, ছোটগল্পসহ এ পর্যন্ত তাঁর ১৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। নিজের মাতৃভাষা ‘শোনা’ ও ‘ইংরেজিতে’ লেখা এসব বই জার্মান, রাশিয়ান, জাপানিসহ বেশ কিছু ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। এসব বইয়ের মধ্যে ‘কামিং অব দ্য ড্রাই সিজন’, ‘ওয়েটিং ফর দ্য রেইন’, ‘এনদিকে কুপিনদানা কোয়ামাজুভা’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

অ্যান্ড্রিয়া লিভি মারা যান গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত অ্যান্ড্রিয়া তাঁর লেখায় জ্যামাইকান ব্রিটিশ জনগণের জীবন ও কৃষ্টি বেশ নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। ১৯৫৬ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া অ্যান্ড্রিয়া চতুর্থ উপন্যাস ‘স্মল আইল্যান্ড’-এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি কুড়ান। এটি ২০০৪ সালে অরেঞ্জ পুরস্কার, হুইটবুক প্রাইজের বর্ষসেরা বইয়ের খেতাব ও কমনওয়েলথ রাইটারস প্রাইজ জিতে নেয়। ‘এভরি নাইট ইন দ্য হাউস বারনিন’, ‘লং সং’, ‘সিক্স স্টোরিজ অ্যান্ড অ্যান এসেই’ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।

হান্নাহ সালিভান

 

টি এস এলিয়ট পেলেন

হান্নাহ সালিভান

কবি হান্নাহ সালিভান তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘থ্রি পোয়েমস’ দিয়ে জিতে নিয়েছেন এ বছরের যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দামি টি এস এলিয়ট পোয়েট্রি অ্যাওয়ার্ড। পুরস্কারটি ২৫ বছরের ইতিহাসে এ নিয়ে তিনবার কোনো প্রথম কাব্যগ্রন্থ পুরস্কার জিতল। তা-ও ঘটেছে গত পাঁচ বছরের মধ্যে। ২০১৭ সালে ভিয়েতনামি-আমেরিকান কবি ওশান ভুয়োং এবং ২০১৫ সালে চীনা-ব্রিটিশ কবি সারাহ-হাওয়ির প্রথম কাব্যগ্রন্থ এ পুরস্কার পায়। এর আগে পুরস্কারটি পেয়েছেন ডেরেক ওয়ালকট, ক্যারল অ্যান ডাফি, টেড হিউজ, সিমাস হিনির মতো খ্যাতনামা সব লেখক। কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন হান্নাহ। তিনটি দীর্ঘ কবিতা নিয়ে গঠিত হান্নাহর ‘থ্রি পোয়েমস’ শিল্প, শহর ও জীবনের এক স্বতন্ত্র অনুসন্ধান। এ বছর ২৫ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের টি এস এলিয়ট পোয়েট্রি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকার অন্য বইগুলো ছিল—আইলভে ডারসির ‘ইনসিসটেন্স’, টেরেন্স হেইসের ‘আমেরিকান সনেটস ফর মাই পাস্ট অ্যান্ড ফিউচার অ্যাসাসিনস’, জাফর কুনাইলের ‘আস’, নিক লেয়ার্ডের ‘ফিল ফ্রি’, ফিওনা মুরের ‘দ্য ডিসটাল পয়েন্ট’, শন ও’ব্রিয়েনের ‘ইউরোপা’, ফিবে পাওয়ারের ‘শ্রাইনস অব আপার অস্ট্রিয়া’, রিচার্ড স্কটের ‘সোহো’ ও ট্রেসি কে স্মিথের ‘ওয়েড ইন দ্য ওয়াটার’। সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পাওয়া প্রত্যেক লেখক পেয়েছেন ১৫০০ পাউন্ড করে।

বেহরুজ বুচানি

 

‘শব্দই পারে অমানবিক

ব্যবস্থাকে পাল্টে দিতে’

‘শব্দের এখনো ক্ষমতা আছে অমানবিক ব্যবস্থাকে পাল্টে দেওয়ার। সাহিত্যের ক্ষমতা আছে স্বাধীনতা এনে দেওয়ার। আজ সাহিত্যেরই জয়ের দিন!’—এ কথাগুলো এক ভিডিও বক্তৃতায় বলছিলেন এ বছরের ভিক্টোরিয়ান প্রাইজ ফর লিটারেচার বিজয়ী লেখক বেহরুজ বুচানি। সরকারি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে আইফোন দিয়ে সিনেমা বানিয়েছিলেন পরিচালক জাফর পানাহি। আর তাঁর দেশ ইরানের কুর্দি সাংবাদিক বুচানি পাপুয়া নিউ গিনির মানুস দ্বীপে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে বুচানি মোবাইল ফোনে বই লিখে অস্ট্রেলিয়ার মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার জেতেন। ২০১৩ সালে নৌকায় করে সমুদ্রপথে অস্ট্রেলিয়া প্রবেশের কালে বুচানি ধরা পড়েন। এর পর থেকে মানুস দ্বীপের আটক শিবিরে আছেন তিনি। সেখানে বসেই নিজ ভাষা ফারসিতে মোবাইলে লেখা শুরু করেন বুচানি। তিনি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছোট ছোট বার্তায় তা পাঠাতে থাকেন অস্ট্রেলিয়ার এক অনুবাদকের কাছে। এটি বুচানির প্রথম বই। পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি বুচানি। বুচানির বইটি নন-ফিকশন ক্যাটাগরি এবং সেরা বইয়ের পুরস্কার জেতে।

 

 

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা