kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৭ জুন ২০১৯। ১৩ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মেলার তিন তরুণের বই
বকুলতলার কথা

বকুলতলার ইতিবৃত্ত

হানযালা হান

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বকুলতলার ইতিবৃত্ত

বকুলতলার কথা : কামরুল আলম সিদ্দিকী। প্রকাশক : মিজান পাবলিশার্স। প্রচ্ছদ : দেওয়ান আতিকুর রহমান। মূল্য : ১২০ টাকা

ভোর তো পৃথিবীতে প্রতিদিন ঘটে। এ নিয়ে অনেক কবিতাও লেখা হয়। যেমন জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন, ‘কচি লেবুপাতার মতো নরম সবুজ আলোয়/পৃথিবী ভরে গিয়েছে এই ভোরের বেলা;’ (ঘাস, বনলতা সেন)। কিন্তু এখানে আমরা নতুন ভোর দেখতে পাচ্ছি। কবি আমাদের জানাচ্ছেন, ভোর হয়েছে। নগরীতে কোলাহল শুরু হয়নি। তিনি যেখানে বাস করেন, সেটা নগর থেকে কিছুটা দূরে। সেখানে একটা ফিঙে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। সেই ফিঙেটাই যেন ঘোষণা করছে, ভোর হলো। একটা ইগলও ডাকছে। এই ডাক যেন রাতের অন্ধকার শামিয়ানা ছিঁড়ে ফেলছে। লাল রঙের যে সূর্যটা ওঠে। তা তো আমরা প্রতিদিন দেখি। কিন্তু আমাদের জানাচ্ছেন, এটা হচ্ছে পৃথিবীর স্বপ্নরেখা। সারা রাত যে ঘোড়া খেলেছে, সে আস্তাবলে ফিরেছে। আর এই ঘোড়া অন্য কিছু না, রাতের প্রতীক মাত্র। কবির শব্দ চয়নও চমত্কার—

‘ভোর হলো। নগরীতে হুলুস্থুল এখনো হয়নি শুরু।

আর আমার দুলালপুরে একটা ফিঙে আকাশে চক্কর মেরে

পাঠ করে গেল তার হর্ষসুর—ভোর হলো।

ইগলের দীর্ঘশ্বাস ডাকে আকাশ বিদীর্ণ হয়ে খুলে নিল তার

রাতকালো শামিয়ানা।

শিমুল রঙের মতো পূর্বাকাশে জ্বলে উঠল পৃথিবীর স্বপ্নরেখা।

পৃথিবীর ঘূর্ণনে কালো ঘোড়া সারা রাত খেলে এইমাত্র ফিরে গেছে আস্তাবল।’

এই কবিতার নাম ‘ভোর’। এই বইয়ের আরেকটি কবিতার নাম ‘দিনলিপি’। এখানে নানা বিষয় ডায়েরির মতো করে বর্ণনা করা আছে। তিনি লিখেছেন, ‘ভেতরে আমার আস্ত আস্ত হাকালুকি হাওড়, হিমালয়-আল্পস।/ আমার হূদয়ঘড়িতে নিয়মিত বাজছে দেখো সমুদ্রের সাদা সাদা তরঙ্গবক।’ এই বইয়ে ‘বকুলতলার কথা’ নামে একটি দীর্ঘ কবিতাও রয়েছে। আরো যেসব কবিতা আমার ভালো লেগেছে, ‘বিষলক্ষ্মী তীরে’, ‘সাপলুডু’, ‘বাঘবন্দি ঘরে’, ‘একদিন ২’, ‘অচেনা বালক’ ও ‘রাতপিপা’।

কবিতা বহু রকমের। বহু স্বরের মিশ্রণ এতে ঘটে। কখনো কবি তাঁর জীবনের কথা বলেন। কখনো তাঁর সময়ের কথা বলেন। কখনো কল্পনায় নতুন এক জগৎ আঁকেন। কখনো এর সব কটির মেলবন্ধন হয়। কামরুল আলম সিদ্দিকীর ‘বকুলতলার কথা’ পড়তে গিয়ে মনে হলো, শেষেরটি ঘটেছে। এই বইয়ে যেমন ছন্দে লেখা কবিতা আছে। তেমনি গদ্যছন্দের কবিতাও আছে। কয়েকটি কবিতায় কবির জন্মস্থান গুরুত্ব নিয়ে এসেছে। ‘কুলিয়ারচর রেলস্টেশনে একরাত’ কবিতায় লিখেছেন, ‘দাঁড়াও, এ বিরাতের প্রত্ব-স্টেশন তোমাকে দেখুক। তোমার বোহেমীয় চুলে আজ রাতে কুয়াশা-কুটির থাকুক।’ এই কবিকে অভিনন্দন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা