kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মেলার তিন তরুণের বই
পাখির ঠোঁটে দাগ

কবিতা যেন সুখপাঠ্যের শিল্পমুখ

রাজ্জাক বকুল

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কবিতা যেন সুখপাঠ্যের শিল্পমুখ

পাখির ঠোঁটে দাগ : এমরান কবির। প্রচ্ছদ : চারুপিন্টু। প্রকাশক : বেহুলাবাংলা। মূল্য : ১৭৫ টাকা

কবিতার দুর্বোধ্যতা যখন অবোধ্যতার কাছাকাছি পর্যায়ে যাচ্ছে এবং ছন্দের প্রয়োগ যখন বিরল থেকে বিরলতর হচ্ছে, তখন বের হলো এমরান কবিরের তৃতীয় কবিতার বই—পাখির ঠোঁটে দাগ। গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলো উপর্যুক্ত দুটি অভিযোগের যথার্থ জবাব হতে পারে।

কিভাবে? কবি কি কবিতায় বোধগম্যতার সেবাদাস হয়ে পদ্যের চর্চায় নামলেন এবং সব অর্থ ও নিহিতার্থকে বিসর্জন দিলেন? না। তিনি গ্রন্থভুক্ত কবিতাগুলোতে তা করেননি। কী করেছেন তা বুঝতে হলে যেতে হবে কবিতার অন্দরে।

গ্রন্থের শুরুতেই দুই পৃষ্ঠার একটা গদ্য চোখে পড়ে। সেখানে বসন্ত বন্দনা করা হয়েছে। তিনি জানাচ্ছেন, বসন্ত যেন প্রেমের ঋতু। আমাদের দেশে ঋতুভিত্তিক অনেক কিছু হয়; কিন্তু ঋতুভিত্তিক কোনো কবিতার বইয়ের খবর পাওয়া যায় না।

তা হোক। কিন্তু টেক্সট কী বলে? টেক্সট বলে, গ্রন্থভুক্ত সব কবিতাই প্রেমের। সে অর্থে গ্রন্থটিকে প্রেমের কবিতার সংজ্ঞায়ন বলা যেতে পারে। কবি ভূমিকায় জানাচ্ছেন, ‘রবিঠাকুরের আঁকা মিষ্টি সর্বনাশ নিয়েই যেন বসন্ত আসে। এই সর্বনাশের জন্য তরুণ-তরুণী প্রতীক্ষা করে। তাইতো বসন্তের প্রথম দিনেই হলুদ শাড়ি সুন্দরীতে ভরে যায় দৃষ্টিসীমানা। ফুলের হাতে ফুলের আদর মিষ্টি ভরা ভুল নিয়ে আসে। তরুণ-তরুণীর সুন্দর সর্বনাশের নিরঙ্কুশ মিষ্টি মাখা ভুল আর প্রণোদনা নিয়ে উপস্থিত এই পদ্যগুলো।’

তাহলে দেখা যাচ্ছে, কবিতাগুলো বসন্তকেন্দ্রিক প্রেমের কবিতা। প্রেমের কবিতা হলেও এগুলোর ভেতরে মনোদৈহিক রসায়ন খেলা করে। কবিতাগুলোর গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, এর ভেতরে রয়েছে মনোদৈহিক কামনা-বাসনার স্পৃহা, কখনো কখনো অস্ফুট বোধ, কখনো কখনো পিপাসা। এগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে যৌনতা। তবে কবিতাগুলো যৌনতাগন্ধী হলেও এখানে কোনো উগ্রতা নেই, নেই যৌনতাসংক্রান্ত কোনো শব্দের ব্যবহার। বরং সহজ ও প্রচলিত শব্দে তিনি পাঠককে নিয়ে গেছেন গোছানো যৌনতার অন্দরে।

কবিতায় ছন্দের ব্যবহার নিয়ে নানাবিধ বিতর্ক চললেও ছন্দের অপরিহার্যতাই শেষ পর্যন্ত টিকে যায়। আলোচ্য গ্রন্থে এমরান কবির অক্ষরবৃত্ত নিয়ে কাজ করেছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্ভুল প্রয়োগ দেখা যায়। যেখানে বিচ্যুতি মনে হয়, সেখানে দেখা যায়, তিনি আসলে ছন্দকে ভেঙেছেন। এবং তা সুখপাঠ্যের আওতায়। ভাঙাভাঙির খেলায় আসলে ছন্দও ভাঙেনি, কবিতাও ভাঙেনি। অর্থাৎ ছন্দ করতে গিয়ে তিনি যেমন কবিতার প্রাণভোমরাকে বিসর্জন দেননি, তেমনি কবিতাকে সুসংহত করতে ছন্দ ব্যবহার করেছেন এবং প্রয়াজন অনুযায়ী ভেঙেছেন। কবিতার অবোধ্যতার এই কালে পাখির ঠোঁটে দাগ কাব্যগ্রন্থখানি বহুল পঠিত হবে বলে মনে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা