kalerkantho

বুধবার । ২৬ জুন ২০১৯। ১২ আষাঢ় ১৪২৬। ২৩ শাওয়াল ১৪৪০

মেলার শেষ সপ্তাহের নির্বাচিত ৫ বই
কোথা পাই দিব্যজ্ঞান

আত্মতত্ত্বের কোলাজ

মুহিল কবির

১ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আত্মতত্ত্বের কোলাজ

কোথা পাই দিব্যজ্ঞান : মহাদেব সাহা। প্রকাশক : অনন্যা প্রকাশনী। প্রচ্ছদ : ধ্রুব এষ। মূল্য : ১২৫ টাকা

জ্ঞানের মতো অসীম সত্তার সন্ধান শেষ হয় না কখনো। যতই তা আহরণ করা হয়, ততই তার বিশালত্ব বিষয়ে ধারণা প্রগাঢ় হয়। এবং নিজের অজ্ঞাত জ্ঞান সম্পর্কে অবস্থান ও ধারণা জন্মে। তখন হীনম্মন্যতাই প্রকাশ পায় মনের মধ্যে। কারণ অজ্ঞাত অংশটুকুও যে বিশাল। সেই বিশাল অজ্ঞাত অংশ আয়ত্ত করার সময় কোথায়? মানুষ এক জীবনে যেমন অনেক বই পড়তে পারে না, তেমনি এক জীবনে কতই বা জ্ঞান আহরণ করতে পারে! কবি হলে তো জ্ঞানের পিপাসা আরো বহুগুণ থাকে। তাইতো ষাটের দশকের কবি মহাদেব সাহা বিশাল কাব্যযাত্রার এ পর্যায়ে এসে বলতে পারেন, ‘কোথা পাই দিব্যজ্ঞান’। এই শিরোনামে কাব্যগ্রন্থ বের হলো চলতি বইমেলায়।

এবং কবি মহাদেব সাহা আমাদের আরেকবার স্মরণ করিয়ে দিলেন যে জ্ঞানের সীমা নেই। কারণ এক জীবন তিনি ব্যয় করেছেন কবিতার পেছনে। ৭৭টি কাব্যগ্রন্থের জনক হয়েছেন। তথাপি কাব্যযাত্রার এ পর্যায়ে এসে তিনি নির্দ্বিধায় যে অনুসন্ধানের কথা বলেন, তা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে বৈকি। তবে একজন কবির জ্ঞানপিপাসা আর একজন বিজ্ঞানীর জ্ঞানপিপাসা ভিন্ন।  তেমনি নানা রকম মানুষের জ্ঞানপিপাসাও ভিন্নতর। তবে কবির জ্ঞানপিপাসা অন্য অনেক সত্তার মাঝে বিরাজিত হলেও বিশেষ করে দার্শনিক সত্তার দিকে ধাবিতই হয় বেশি—বোধ করি। কখনো কখনো কোনো কবি দার্শনিক জ্ঞানের পেছনেই পুরো কাব্যজীবন পার করে দেন। কোনো কবি অনুসন্ধান করে চলেন আনন্দ। কোনো কবি আনন্দের সঙ্গে সৌন্দর্য। কবি মহাদেব সাহা সুন্দরের সঙ্গে আনন্দ অনুসন্ধানের ভেতরে দার্শনিকতার উপলব্ধি আনতে চান। অর্থাৎ নিছক আনন্দ তাঁর কাম্য নয়। কাম্য নয় নিছক সৌন্দর্য। বরং এ দুইয়ের ভেতরে দার্শনিক সত্তার সঞ্চালনের মাধ্যমে তিনি কবিতাকে করে তোলেন ভিন্নমাত্রিক। আলোচ্য গ্রন্থ কোথা পাই দিব্যজ্ঞানে এই মনোভাবেরই অন্তঃপ্রকাশ ঘটেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা